প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধনীরা গরিবদের চেয়ে ১০ বছর বেশি সুস্থ থাকেন

নিউজ ডেস্ক: সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিন দিন ধনী ও গরিবের মধ্যে আয়ের বৈষম্য বাড়ছে। আর এ আয় বৈষম্যের প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যের উপরে। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, কম আয়ের মানুষ বা গরিবদের তুলনায় ধনী ব্যক্তিরা গড়ে ৯ বছর বেশি সময় স্বাস্থ্যবান ও প্রতিবন্ধকতামুক্ত জীবনযাপন করে। বিডি নিউজ

গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ৫০ বছরের বেশি বয়স্ক ২৫ হাজারের ও বেশি মানুষের ডাটা বিশ্লেষণ করেছেন। বিশ্লেষণে তারা বার্ধক্যজনিত সমস্যা বা রোগে ভুগতে শুরু করার আগে যেমন বিছানা থেকে একাই উঠতে পারা বা নিজের জন্য রান্না করতে পারার মতো অবস্থায় কত বছর সুস্থভাবে বেঁচেছিলেন, এমন বিষয়গুলো সন্ধান করেছেন।

৫০ বছর বয়সের পর ধনী একজন পুরুষ যেখানে আরো ৩১টি স্বাস্থ্যকর বছর আশা করতে পারে। তুলনামূলক কম সম্পদের অধিকারী একজন পুরুষ কেবল ২২ থেকে ২৩ স্বাস্থ্যকর বছর আশা করতে পারে। নারীর ক্ষেত্রেও ধনী-গরিবের মধ্যে সুস্থ থাকার ব্যবধান প্রায় একই। ৫০ বছরের পর একজন ধনী নারী আরো ৩৩ বছর স্বাস্থ্যকর জীবন উপভোগ করতে পারলেও দরিদ্র একজন নারী পারছে ২৪ বছর।

২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ধনী পুরুষরা ৮৭ দশমিক ৩ বছর বেঁচে থাকার প্রত্যাশা করতে পারে, যা কম আয়ের মানুষের তুলনায় ১৫ বছর বেশি। আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষরা বেশি দিন বেঁচে থাকে। ধনী নারীরা ৮৯ বছর বেঁচে থাকার প্রত্যাশা করে, যা দরিদ্র নারীর চেয়ে পুরো এক দশক বেশি।

২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণায় উঠে আসে, ধনী মানুষের তুলনায় দরিদ্র মানুষ এক দশক আগেই মৃত্যুবরণ করছে। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে আয়ুর ফারাক দীর্ঘ হচ্ছে। ধনীদের আয়ু বাড়ছে, তারা দীর্ঘ সুস্থ জীবন পাচ্ছে। কিন্তু গরিবদের সেভাবে আয়ু বাড়ছে না। তাদের বেশির ভাগই অল্প বয়সে মারা যাচ্ছে। ধনী পরিবারে জন্ম নেয়া শিশুরা অপেক্ষাকৃত গরিব পরিবারে জন্ম নেয়া শিশুদের চেয়ে গড়ে সাড়ে আট বছর বেশি বাঁচে।

নতুন গবেষণাটির জন্য বার্ধক্যজনিত দুটি সমীক্ষা থেকে ডাটা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি যুক্তরাজ্য থেকে, যেখানে উত্তরদাতা ছিল ১০ হাজার ৭৫৪ জন এবং অন্যটিতে ছিল ১৪ হাজার ৮০৩ জন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরদাতা। গবেষণার ফলে দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

গবেষক পাওলো জ্যানিনোট সমীক্ষাটির উপসংহারে লিখেছেন, স্বাস্থ্যকর জীবন প্রত্যাশায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য উভয় দেশেই ব্যবধান বিদ্যমান এবং তা প্রায় একই রকমের। উভয় দেশেই স্বাস্থ্যবৈষম্য হ্রাসের চেষ্টা করা উচিত। এক্ষেত্রে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করা যায়।
সাধারণভাবে বৈশ্বিক জীবন আয়ু প্রত্যাশার সর্বশেষ ডাটা পাওয়া যায় ২০১৬ সালের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

(ডব্লিউএইচও) বলেছেন, প্রত্যাশায় বৈশ্বিক গড় আয়ু ৭২ বছর। ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী গড় আয়ু বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ বছর। ১৯৬০-এর দশকের পর এটাই দ্রুততম বৃদ্ধি। অনুলিখন: জেবা আফরোজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত