শিরোনাম
◈ জামায়াতের বিরোধিতা করতে বিএন‌পি নির্বাচনী প্রচারণায় মুক্তিযুদ্ধকেই কেন সামনে আনছে? ◈ বিশ্বকাপের আগে একাধিক পরিবর্তন ক্রিকেটের নিয়মে ◈ ক্যান্টনমেন্টে ব্যক্তিগত অস্ত্র বা গানম্যান নেওয়ার বিধান কী? ◈ মধ্যরাতে তিন গ্রামের সংঘর্ষ, আহত পুলিশসহ ১৫ ◈ চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধে রপ্তানি সংকট: কর্মবিরতিতে আটকা ১৩ হাজার কনটেইনার, ঝুঁকিতে ৬৬ কোটি ডলারের বাণিজ্য ◈ আওয়ামী লীগ দুর্গের ২৮ আসন এবার বিএনপির জয়ের পাল্লা ভারী ◈ নিউক্যাসলকে হারিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি লিগ কা‌পের ফাইনালে ◈ অ‌স্ট্রেলিয়ান প‌্যাট কা‌মিন্স বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আশায় ◈ ‘খেলার মাঠে রাজনীতি নয়’: বাংলাদেশের পক্ষে সংহতি জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করেছি : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ◈ নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের তাণ্ডব: এক গ্রামেই ১৬২ জনকে হত্যা, পুড়িয়ে দেওয়া হলো রাজপ্রাসাদ

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী, ২০২০, ০২:০৫ রাত
আপডেট : ২১ জানুয়ারী, ২০২০, ০২:০৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চুয়াডাঙ্গায় মৃত ঘোষণার পর মায়ের কোলে নড়ে উঠল নবজাতক!

যুগান্তর ডেস্ক: চুয়াডাঙ্গায় সদ্য প্রসূত জান্নাতুলকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর অযত্নে রেখে দেয়া হয়েছিল খালি মেঝের ওপর। তারপর পলিথিনে মোড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল হাসপাতালের আয়ারা!

এ সময় মায়ের ইচ্ছে হলো শেষবারের মতো একবার কোলে নিয়ে দেখি সন্তানকে। অমনিই মায়ের কোলে নড়ে উঠল সদ্যভূমিষ্ঠ জান্নাতুল। আবার ডাকা হল ডাক্তার।

ডাক্তার এসে শিশু জান্নাতুলকে স্থানান্তর করলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। সেখানে সুস্থ হয়ে উঠেছে জান্নাতুল। হাত-পা নেড়ে খেলছে। পিটপিট করে তাকাচ্ছে। মায়ের চোখেমুখে এক কাড়ি হাসি।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের মুদি দোকানি আবদুল হালিম ও জিনিয়া খাতুনের বিয়ে হয় বেশ কয়েক বছর আগে। এরই মধ্যে জিনিয়ার গর্ভে সন্তান আসে। তাকে নিয়মিত চেকআপ করতেন জেলা শহরের উপশম নার্সিং হোমের স্বত্বাধিকারী ডা. জিন্নাতুল আরা।

রোববার বিকালে জিনিয়ার পেটে ব্যথা শুরু হলে তাকে নেয়া হয় ডা. জিন্নাতুল আরার কাছে। সেখানে তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন জিনিয়া। ভোর ৪টার দিকে কন্যাসন্তান প্রসব করেন জিনিয়া খাতুন।

জিনিয়া খাতুন বলেন, ‘ভোরে আমাকে বলা হলো বাচ্চা মারা গেছে। এরপর আমরা পরিবারের অন্যান্যকে জানাই। দাফন কাফনের জন্যও প্রস্তুতি নিতে থাকে স্বামী ও স্বজনরা। এরই মধ্যে শিশুটিকে অযত্ন অবহেলায় মেঝের ওপর রেখে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘মৃত বলে তাকে একটি পলিথিন এনে মুড়িয়ে ফেলা হচ্ছিল। এ সময় আমি কাঁদতে কাঁদতে মেয়েকে একবার শেষবারের মতো কোলে নিয়ে দেখতে চাই। কোলে নিতেই আমার মেয়ে নড়ে ওঠে। এ সময় পুনরায় ডা. জিন্নাতুল আরাকে ডাকা হলে তিনি শিশুকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন।’

জিনিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি ডাক্তারের কথায় বিশ্বাস করলে পলিথিনের মধ্যে আমার মেয়ে মরে থাকত।’

এদিকে সোমবার সকালে ওই শিশুকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।

শিশুর দাদি শাহারন বেগম বলেন, ‘ও সাত মাসে জন্ম নিয়েছে। আমি ওর নাম রেখেছি জান্নাতুল। সে এখন ভালোই আছে। হাত-পা নেড়ে খেলছে। পিটপিট করে তাকাচ্ছে। আমার বিশ্বাস জান্নাতুল বেঁচে থাকবে।’

এ ব্যাপারে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন বলেন, ‘সময় হওয়ার আগেই শিশুটি জন্ম নিয়েছে। তাকে ইনকিউবেটরের মধ্যে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আপাতত সে সুস্থ আছে। তবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না’।

এ ব্যাপারে ডা. জিন্নাতুল আরা বলেন, ‘শিশুটি যখন হয় একেবারেই শ্বাস-প্রশ্বাস ছিল না। নাভির কাছে কেবল ঢিবঢিব শব্দ ছিল। চার ঘণ্টা অক্সিজেন দেয়ার পর সে কিছুটা সুস্থ হলে আমরা আজ (সোমবার) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়