প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আয়োজনেই খরচ ২৩ কোটি, কী থাকছে বাণিজ্য মেলায়

জাগো নিউজ : বুধবার নতুন বছরের প্রথম দিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বসছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৫তম আসর। বরাবরের মতো এ মেলার আয়োজন করছে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। এ মেলা আয়োজন করতে ইপিবির নিজস্ব তহবিল থেকেই ব্যয় হচ্ছে ২৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

মেলায় বাংলাদেশসহ ২১টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪৮৩টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল থাকবে। তবে প্যাভিলিয়ন এবং স্টল তৈরি ও সাজানোর সব খরচ বহন করতে হবে মেলায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এর বাইরে মেলার উন্নয়ন কাজেই চলে যাবে ইপিবির ২৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

এবার মেলায় প্রবেশ করতে বাড়তি অর্থ গুনতে হবে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের। গত বছরের তুলনায় এবার টিকিটের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। মেলায় প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৩০ টাকা। তবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটের মূল্য আগের মতোই ২০ টাকা রাখা হয়েছে।

এই টাকা খরচ করে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা কী সুবিধা পাবেন অথবা মেলায় কী দেখতে পাবেন তা দেখে নেয়া যাক-

বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন
মেলার আয়োজক ইপিবি জানিয়েছে, ভারত উপমহাদেশ বিভাজনের পর ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান এবং সর্বোপরি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার বিষয়ে সঠিক ধারণা প্রদান এবং দেশ পরিচালনার বিষয়ে সঠিক ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের আকার আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারের বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন অন্যবারের তুলনায় অধিকতর সুন্দর, নান্দনিক ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের ভেতরে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

এছাড়া প্যাভিলিয়নে তথ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত বই নিয়ে একটি বুক কর্ণার থাকবে। বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান, বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক ছাড়াও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নেয়ার প্রকৃত ইতিহাস সবার কাছে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস নেয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মেলা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্তসংখ্যক আনসার ও ভিডিপি, পুলিশ ও র‌্যাব নিয়োজিত থাকবে। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে কোনো প্রকার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করার জন্য সার্বক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। অনসার, পুলিশ, র‌্যাব মেলা প্রাঙ্গণ ও প্রাঙ্গণের বাইরে নিয়মিত টহল দেবে। এছাড়া শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রাইভেট সিকিউরিটিও নিয়োগ করা হয়েছে।

সিসিটিভি
মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১১৫টি সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মেলার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ডিএমপি সিসিটিভি মনিটর করার দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে মেলার পার্কিং এরিয়ায় সিসি টিভির ব্যবস্থা থাকবে। মেলার প্রবেশ গেটে প্রয়োজনীয়সংখ্যক আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা থাকবে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
মেলার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কিত সার্বিক কাজ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এ জন্য ১২৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।

পাম্প হাউজ ও ওয়াটার রিজার্ভার
মেলা প্রাঙ্গণের রাস্তায় পানি ছিটানো ও ফুলের বাগান, মসজিদ এবং টয়লেটে পানি সরবরাহের জন্য পাম্প হাউজ ও ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রবেশ গেট
মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশের জন্য চারটি গেট নির্মাণ করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি ভিআইপি, একটি সার্ভিস (মালামাল পরিবহনের জন্য) এবং দুটি গেট সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হবে।

ফোয়ারা নির্মাণ
মেলা প্রাঙ্গণের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি ফোয়ারা থাকবে।

ডাস্টবিন
মেলা প্রাঙ্গণে আবর্জনা ফেলার জন্য ২০০টি অস্থায়ী ডাস্টবিন বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হবে।

ওয়াচ টাওয়ার
মেলার নিরাপত্তার সুবিধার্থে মেলা প্রাঙ্গণে ১০টি ওয়াচ টাওয়ার থাকবে। সেখান থেকে পুলিশ এবং র‌্যাব মেলা মাঠ পর্যবেক্ষণ করবে।

উড়ন্ত বেলুন
মেলা প্রাঙ্গণে ২৫টি উড়ন্ত বেলুনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হবে।

শিশু পার্ক
মেলায় আসা শিশুদের বিনোদনের জন্য মেলা প্রাঙ্গণে দুটি শিশু পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে।

অডিও ভিজুয়াল
মেলায় অংশগ্রহণকারীদের পণ্যের প্রচার ও বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি প্রচারণার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োজিত করা হয়েছে।

এটিএম বুথ ও ব্যাংক
মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান এবং দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ছয়টি এটিএম বুথ স্থাপন ও ব্যাংক পরিচালনা করা হবে।

ডিআইটিএফ সচিবালয়
মেলার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে মেলা মাঠে একটি অস্থায়ী সচিবালয় স্থাপন করা হয়েছে।

বাণিজ্য তথ্য কেন্দ্র
মেলা ও রফতানি-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের জন্য মেলা মাঠে একটি তথ্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

ফুলের বাগান
মেলা মাঠের সৌন্দর্য ও শোভায়নের জন্য বিভিন্ন স্থানে ১৫টি ফুলের বাগান থাকবে। তাছাড়া একটি অর্কিড কর্ণারও থাকবে।

মসজিদ
নামাজ আদায়ের জন্য মেলা প্রাঙ্গণের পশ্চিম পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ও জেনারেটর
মেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ও বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস স্টেশন
অগ্নি দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক ফায়ার সার্ভিস দল নিয়োজিত থাকবে।

মা ও শিশু কেন্দ্র
মা ও শিশুদের পরিচর্যার সুবিধার্থে দুটি মা ও শিশু কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

টয়লেট
মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও দর্শনার্থীদের জন্য ১৬টি স্থানে ৮০টি টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মোবাইল টাওয়ার
মেলা মাঠে মোবাইল ফোন ব্যবস্থার সুবিধার্থে চারটি অস্থায়ী মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।

ই-টিকেটিং
অনলাইনে ২৫% টিকেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদফতর
মেলায় প্রদর্শিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য ও মান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের একটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ওই দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেলা চলাকালীন সময়ে তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবেন।

গাড়ি পার্কিং
মেলায় আসা দর্শনার্থীদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য একটি ভিআইপি গাড়ি পার্কিং, একটি মোটর সাইকেল পার্কিংসহ ৪টি গাড়ি পার্কিং থাকবে।

টিকিট কাউন্টার
টিকেট কাটার জন্য মেলার প্রধান গেটের দুই পাশে এবং দ্বিতীয় গেটের এক পাশে ৪০টি কাউন্টার থাকবে। তাছাড়া ই-টিকেটিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে।

ডিআইটিএফ টাওয়ার
মেলা প্রাঙ্গনের মধ্যস্থলে একটি সুউচ্চ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। যার চূড়ায় একটি গ্লোব ঘূর্ণায়মান থাকবে। তাছাড়াও আরও ৩টি টাওয়ার থাকবে।

মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশ
বাংলাদেশের পাশাপাশি থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, অষ্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনাই, দুবাই, ইতালি ও তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে।

যেসব পণ্য পাওয়া যাবে
দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিক্স অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্সস, পাট ও পাটজাত পণ্য সামগ্রী, চামড়া/আর্টিফিসিয়াল চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক সামগ্রী, মেলামাইন সামগ্রী, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ঘড়ি, হোম এ্যাপ্লায়েন্স, ইমিটেশন জুয়েলারি, সিরামিকস, টেবলওয়্যার, ক্যাবল, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, আসবাবপত্র ও হস্তশিল্পজাত পণ্য, উপহার সামগ্রী, কনস্ট্রাকশন সামগ্রী, হোম ডেকর, বেকারী পণ্য, বিদেশি বস্ত্র, ইত্যাদি।

সর্বাধিক পঠিত