শিরোনাম
◈ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ ব্যবসায় নামতে চায় টিসিবি ◈ অল্প সময়ে বেশি ফলন, কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে মুড়িকাটা পেঁয়াজে ◈ শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়তে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ জাতীয় সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে একাধিক সুপারিশ কমিটির ◈ মাইকিং করে বাণিজ্যমেলার মাঠে ভাঙচুর, ভেকু দিয়ে গেট ভাঙছেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা: মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি ◈ মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট নিয়ে যে নতুন সিদ্ধান্ত ◈ এবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড আড়াই ঘণ্টা পোশাক শ্রমিকদের অবরোধ ◈ জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সামরিক প্রস্তুতি নয়, প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান: রাষ্ট্রপতি ◈ মেসি জাদুতে জয়, চ্যাম্পিয়ন্স কাপে ইন্টার মায়ামি ◈ পোশাকশিল্পে অস্থিরতায় ক্রয়াদেশ হারানোর শঙ্কা, ভাঙচুরে ভাড়াটে লোক ব্যবহারের অভিযোগ; ২৪ ঘণ্টায় আন্দোলন বন্ধের আশ্বাস, গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তি দাবি

প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ০৫:৫৫ সকাল
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ০৫:৫৫ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্মরণীয় স্মৃতিতে উজ্জ্বল ভাস্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী আবদুল আলীম চৌধুরী

রাশিদ রিয়াজ : শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. এএফএম আবদুল আলীম চৌধুরী (১৯২৮-১৯৭১)। কিশোরগঞ্জ জেলার খয়েরপুর গ্রামে জন্ম। তিনি ১৯৪৫ সালে কিশোরগঞ্জ হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৪৮ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। ১৯৫৫ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করে চলে যান লন্ডনে। ১৯৬১ সালে রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জনস থেকে ডিপ্লোমা ইন অপথালমোলজি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ডা. আবদুল আলীম চৌধুরী কর্মজীবন শুরু করেন লন্ডনের সেন্ট জেমস হাসপাতালের রেজিস্ট্রার (১৯৬১-১৯৬৩) হিসেবে। এরপর দেশে ফিরে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের প্রধান চক্ষু চিকিৎসক (১৯৬৩-১৯৬৫) হিসেবে যোগ দেন। পরে পর্যায়ক্রমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন। পরিচিত ছিলেন লেখক হিসেবেও। ছাত্রাবস্থায়ই বের করেছিলেন ‘যাত্রিক’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল। কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা পেয়ে ভোর থেকে হাজারো মানুষ শহরের রাস্তায় বেরিয়ে পরেন। বিজয়ের বাঁধভাঙ্গা জোয়ারে নিজেকে শামিল করতে ছুটছে এদিক ওদিক। অনেকের হাতে বিজয়ের পতাকা। সেই মিছিলে অনেকের শামিল হওয়ার ছিলো। মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালীর বিজয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা জাতিকে মেধাশূন্য করতে বুদ্ধিজীবীদের রাতের আধাঁরে ধরে নিয়ে যায়। তারা বুঝতে পেরেছিলো জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করলে এদেশ কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ১৪ ডিসেম্বর তারা ইতিহাসের এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালায়। বুদ্বিজীবী হত্যায় নেতৃত্ব দেয় রাজাকার, আলবদর, আল শামস।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর যাদের ধরে নেওয়া হয়েছিলো তাদের মধ্যে শহীদ ডা. আবদুল আলীম চৌধুরী অন্যতম। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর চিকিৎসকও ছিলেন।

১৬ ডিসেম্বরের বিজয় মিছিলে ডা. আবদুল আলিমকে খু্ঁজতে ছুটে যান তার সহধর্মিনী শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী ও দুই মেয়ে ফারজানা চৌধুরী ও নুজহাত চৌধুরী। কিন্তু কোনো মিছিলেই ডা. আলীমের দেখা মিলেনি আর। কখনোই ফিরবেন না তিনি। স্বাধীনতার পর থেকে তাঁর স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে আছেন শহীদ বুদ্ধিজীবী আলীম চৌধুরীর পরিবার। আপনজনকে হারানোর এই ব্যথা আজীবন বয়ে বেরাতে হবে তাদের।

  • সর্বশেষ