প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিয়ের পিঁড়ি থেকে সরে আসা ইতি দক্ষিণ এশিয়ার সেরা

এল আর বাদল : চুয়াডাঙ্গা জেলার ইতি খাতুন প্রমাণ করলেন, সত্যিই তিনি সোনার মেয়ে। গত রোববার আর্চারিতে মেয়েদের রিকার্ভ ইভেন্টে দলগত ও মিশ্র দলগতে স্বর্ণ জিতেছেন। দু’টি স্বর্ণজয়ের পর যেনো রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন ইতি। তৃতীয় স্বর্ণ জিতে সে রেকর্ডও পূর্ণ করলেন তিনি। গতকাল রিকার্ভে মেয়েদের এককের ফাইনালে ভুটানের কিনলে শেরিংকে ৭-৩ সেট পয়েন্টে হারিয়ে জেতেন স্বর্ণ পদক।

বাংলাদেশের আর্চারির ইতিহাসে চুয়াডাঙ্গার ইতি একজন বিস্ময়বালিকা। যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তেন ইতি খাতুন, তখন পাড়ার সাথিদের সঙ্গে পুতুল খেলেই সময় কাটাতেন। ওই সময় থেকেই তীর-ধনুকের খেলার প্রতি ভীষণ টান ছিলো ইতির। মা-বাবার বকুনিকেও উপেক্ষা করে তীর ধনুকের (আর্চারি) অনুশীলন করতেন। একদিন বাড়িতে এসে দেখেন, বাবা তাকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। পাত্রপক্ষ বসা বাড়ির বারান্দায়। বিয়ের সব আয়োজন শেষ।

শাড়ি পরে ঘোমটা মাথায় পাত্রপক্ষের সামনে গিয়ে দাঁড়ান ইতি। পাত্রপক্ষের পছন্দও হয়ে যায় ‘বালিকাবধূকে’ দেখে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসেন ইতি। যে কারণে বিয়ে আর হয়নি। বিয়ের পিঁড়ি থেকে উঠে আসা মেয়েটাই এসএ গেমসের আর্চারিতে তিন তিনটি স্বর্ণ পদক জয় করে বাংলাদেশের মুখোজ্জ্বল করলেন। চুয়াডাঙ্গার ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ইতি প্রথমবার আন্তর্জাতিক আসরে সুযোগ পেয়েই জ্বলে উঠলেন।

বাবা ইবাদত আলী হোটেলের কর্মচারী। তিন মেয়ে ইভা খাতুন, ইতি খাতুন ও স্মৃতি খাতুনকে নিয়ে সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। মেয়েদের স্কুলের খরচ জোগাতে পারেন না বেশির ভাগ সময়। সে জন্যই মেয়েকে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।
ইতির বাবা গতকাল এই প্রতিনিধিকে বললেন, কম বয়সে ইতিকে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তটা ছিলো বড় ভুল। আমার মেয়ে বিয়ের পিঁড়ি থেকে উঠে এসে আমার ভুল ভেঙে দিয়েছে। ওর জন্যই আমি আজ চুয়াডাঙ্গায় গর্বিত বাবা। মেয়ের জন্য আজ আমার অহংকার হচ্ছে। নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে অনেক আগেই একটা যুদ্ধে জিতে গেছেন ইতি। এবার মাঠের যুদ্ধেও একের পর এক জয়ী হয়ে নাম লেখালেন ইতিহাসে। সম্পাদনা : ভিক্টর কে. রোজারিও

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত