প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শীতকালীন শাক-সবজির অভাব নেই, দাম আকাশ ছোঁয়া

দেশ রূপান্তর : মাদারীপুরে বাজারে পর্যাপ্ত শীতকালীন শাক-সবজি থাকার পরও শহর থেকে গ্রামীণ হাট-বাজারে শাক-সবজির আকাশচুম্বী। এতে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক, লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ব্যাপারী ও খুচরা দোকানিরা।

কৃষক বলছে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। আর আড়তদারেরা বলছে সরবরাহ কম, পরিবহন ব্যয় বেশি। এ জন্য সকল প্রকার সবজির দাম একটু চড়া।

প্রতি বছর শীতকালে সবজির দাম স্বাভাবিক থাকলেও এবার তার উল্টো চিত্র। এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বল্প আয়ের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে। জেলার বিভিন্ন গ্রামের হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতা সাধারণের চোখে-মুখে চাপা হতাশার ছাপ। ক্রেতাদের অভিযোগ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে দুষ্টচক্রের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে প্রশাসনের নজরদারির অভাব। বিক্রেতারা তাই নানা অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছে, সাম্প্রতিক সময়ের বৃষ্টিতে চাষির খেত নষ্ট হয়ে গেছে। তাই সরবরাহ নেই। ভিন্ন চিত্র হাট-বাজারে সবজির কোনো অভাব নেই। অথচ আড়তে সবজির দাম চড়া। আর ক্রেতারে জিম্মি করে খুচরা বাজারে যে যার মতো দাম নিচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজের দাম কমছে না। মিয়ানমারের পেঁয়াজ ২২০-২৫০, তুরস্ক ও মিশরের ১৫০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় নাসিক পেঁয়াজ ২২০ টাকা।

ঝিঙা ও ক্ষীরার কেজি এখন ৮০ টাকা। করলা ও ফুলকপি ৭০ টাকা। অন্য সব সবজিও বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার উপরে। বাজারে সবজির দাম শুনে অবাক হচ্ছেন ক্রেতারা। মাস খানেক আগে ফুলকপির দাম ছিল ৫০-৬০। এখন ৮০-৯০ টাকা। বাঁধাকপি, শিম ও মুলার দাম এক মাস ধরে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। বাঁধাকপি ও মূল্য ৫০ এবং শিম ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়েছে অন্য সবজিরও। শসা, ঢ্যাঁড়স, বরবটি, করলা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ‘সপ্তাহ আগে কেজি প্রতি ছিল ৫০-৬০ টাকা। এখন শসা ও ঝিঙা ৮০, করলা ৮০, বরবটি, চিচিঙ্গা ও ঢ্যাঁড়স ৭০ টাকা, মাঝারি থেকে বড় সাইজের লাউ ১৫ দিনে পূর্বেও বিক্রি হতো ৫০ থেকে ৭০ টাকা এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

নতুন বাজারের সবজি বিক্রেতা মকবুল হোসেন বলেন, যে সব ক্রেতা আগে ১ কেজি সবজি কিনত, এখন অনেকে আধা কেজি বা আড়াই‘শ গ্রামের বেশি নিচ্ছে না। বেচা কেনা কম। আড়তেও সরবরাহ কম।

মাদারীপুর সদরের ইটেরপুল বাজার করতে আসা আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সবজির বাজারে যেন আগুন লেগেছে। সপ্তাহ খানেক আগে ঝিঙা কিনলাম কেজি ৬০ টাকা ধরে। আজ ৮০ টাকা! এদামে সবজি কিনবো কীভাবে? বাজার না করেই চলে যাচ্ছি। তবে মনে হয় আবার আসতে হবে।

মাদারীপুর জেলা বাজার কর্মকর্তা মো. বাবুল হোসেন বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমরা প্রায় প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে জেলার কোন না কোন বাজারে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করছি। মাঝে মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এসেও বাজার মনিটরিং করছেন। মাদারীপুরে বড় ধরনের কোন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নেই। বিভিন্ন সময় আমরা জেলার ব্যবসায়ীদের বিভিন্নভাবে সচেতন করছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত