প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনেক মন্ত্রীই থাকছেন না আ.লীগের পদে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে

সমীরণ রায়: আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলন আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর।সঙ্গত কারণে রাজনীতিতে আলোচনার শীর্ষে ক্ষমতাসীন দলের সম্মেলন।দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প যেহেতু কেউ নেই, তাই তিনিই আগামীতে দলীয় প্রধান হিসেবে থাকছেন।এখন প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ সম্পাদক পদে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না? তবে দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা বলছেন, সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। অপরদিকে, ৮১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির কে কে বাদ যাচ্ছেন? কারা থাকছেন, তা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দলটির বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় ও ধানমণ্ডির সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের আনা গোনাও বেড়েছে।সেখানেও একই আলোচনা নতুন কারা আসছেন, আর কারা বাদ যাচ্ছেন? তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অনেক সিনিয়র নেতাই দল থেকে ছিটকে পড়বেন।এছাড়া মন্ত্রী রয়েছেন, এমন নেতাদের বেশিরভাগ দলীয় কোনো পদে থাকছেন না। কারণ একজনকে মন্ত্রী ও দলীয় পদে না রাখার পক্ষে রয়েছেন শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে সরকারি-বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর হাতে রয়েছে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে একটি তালিকা করেছেন তিনি। অর্থাৎ যারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তারা আগামী কমিটিতে থাকছেন না।তবে গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আসছে কি না তা নিয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

জানা গেছে, জাতীয় সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতিমণ্ডলী থেকে শুরু করে সম্পাদকমণ্ডলী, কার্যনির্বাহী সদস্য প্রতিটি পর্যায়েই যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তারা বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছেন।এর মধ্যে মন্ত্রিসভার সদস্য এমন নেতারাও আছেন।প্রতি সম্মেলনেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিববর্তন আসছে।এই পরিবর্তনের বা বাদ পড়া জায়গাগুলোতে তরুণ ও নতুনরা গুরুত্ব পাবেন। ছাত্রলীগ থেকে ওঠে আসা নেতা, বিশেষ করে যারা সংগঠনটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বা শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে ছিলেন এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখছেন, তাদের একটি অংশ স্থান পাবেন।

এদিকে, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ, এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পোস্টার টাঙানো হয়েছে। প্রস্তুতি নিতে নিয়মিত কাজ করছে ১১টি উপ-কমিটি। এছাড়াও সম্মেলনকে ঘিরে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্রুত চলছে মঞ্চের কাজ। মঞ্চ যেন পদ্মা নদীর বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে একটি বিশাল নৌকা। সেই নৌকার চারপাশজুড়ে থাকছে প্রমত্ত পদ্মার বিশাল জলরাশি। এর মধ্যে থাকছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুও। পদ্মার জলতরঙ্গ, পদ্মার বুকে ঘুরে বেড়ানো ছোট ছোট নৌকা, এমনকি চরের মধ্যে কাশবনের উপস্থিতিও থাকবে। এর মধ্যে মূল মঞ্চটি হবে ১০২ ফুট দীর্ঘ, ৪০ ফুট প্রশস্ত। আর সামনের পদ্মা সেতুতে থাকবে ৪০টি পিলার। ২০ ডিসেম্বর সম্মেলনের সূচনা হলেও ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাবে সম্মেলনের জন্য। এরপর ১৬ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চার দিন সম্মেলনস্থল থাকবে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। তারা এই সময়ের মধ্যে সম্মেলনস্থলটি ঘুরে-ফিরে দেখতে পারবেন। এরপর ২০ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় শুরু হবে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা। এ সম্মেলনে সারা দেশ থেকে কাউন্সিলর, ডেলিগেটসহ ৫০ হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। পরদিন ২১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে দলের কাউন্সিল অধিবেশন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্ল্যাহ বলেন, উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে।সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নবীন-প্রবীনের সমন্বয়েই আসছে আগামী নেতৃত্ব। তবে সাধারণ সম্পাদক পদটিতেও আসতে পারে পরিবর্তন। কারণ ইতোমধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরই বলেছেন, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতির পদ ছাড়া, যেকোনো পদেই পরবির্তন আসবে। এতেই বোঝা যাচ্ছে তিনি নাও থাকতে পারেন। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গঠনতন্ত্রে কোনো পরিবর্তন না আসার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞাণ ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর বলেন, নবীন-প্রবীনদের নিয়েই আগামী কমিটি হচ্ছে। তবে যারা সাবেক ছাত্র নেতা তাদেরকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হতে পারে।

তিনি বলেন, গঠনতন্ত্রে কোনো পরিবর্তন আসবে বলে এখনও কোনো কিছু আমি জানি না। তবে পরিবর্তন করারও তেমন কিছু নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত