প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চমক আসছে আ.লীগে, প্রাধান্য পাবে নারী নেতৃত্ব

সমীরণ রায়: আসন্ন ২০-২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে উৎসব-উদ্দীপনা বেড়েছে নেতাকর্মীদের। যদিও দলটির সিনিয়র নেতারা বলেছেন, ২০২০ সালকে মুজিববর্ষ পালন করা হবে। সঙ্গত কারণেই জাতীয় সম্মেলন সাদামাঠাভাবে পালন করা হবে। তবে আগামী নেতৃত্ব নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে আসছে। একই সঙ্গে ক্যাসিনো ব্যবসা, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত অন্তত ১০জন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা বাদ পড়ছেন। পাশাপাশি ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব প্রাধান্য দেয়ার পক্ষে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া দলটির ৮১ সদস্য থেকে বাড়িয়ে সাংগঠনিক কাঠামোও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অপরদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গণে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিবর্তন হচ্ছে কি না? এমন প্রশ্নও রয়েছে। আর পরিবর্তন আসলেও কে আসছেন? যদিও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা অর্জন করেছেন। তারপরেও সাধারণ সম্পাদক পদটিতে একাধিক সিনিয়র নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ম-লীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গির কবির নানক, ডা. দিপু মণি, আব্দুর রহমান ও সাংগঠনিক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

এদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামীতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে একটি পদে কোনো পরিবর্তন হবে না। আর সে পদটি হলো সভাপতির পদ। এ পদে শেখ হাসিনাই থাকবেন। অন্য যেকোনো পদে পরিবর্তন হতে পারে। সেটা নির্ভর করবে দলীয় সভাপতির ওপর। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ছাড়া আমরা দলের জন্য অপরিহার্য নই। অর্থাৎ দলটিতে পরিবর্তন আসছে।

জানা গেছে, বয়স্ক, বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির রদবদলে নারী নেত্রীদের প্রাধান্য বেশি থাকতে পারে। এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক নারী নেত্রীর মাঠে রাজনৈতিক অর্জন, নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয়তা, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও কার্যক্রম ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেয়া হচ্ছে। সরকারি দলের শীর্ষ নেতা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাদের সম্পর্কে এসব ‘আমলনামা’ বা প্রতিবেদন সংগ্রহ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের শীর্ষ কমিটিতে জায়গা করে দিতে তিনি তাদের বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ প্রত্যাশী নারীরাও রাজনীতিতে বেশ সক্রিয়। পার্টি অফিসে উপস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মধ্য দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলেন, দলের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে কমিটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমান কমিটির অর্ধেকের বেশি নেতার পদ-পদবিতে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। অর্ধেকের মতো নেতা কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ছিটকে পড়তে পারেন। বিশেষ করে নিষ্ক্রিয়, বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে তরুণ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারা স্থান পাবেন নতুন কমিটিতে।

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন বলেন, দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। তাই এ পদ নিয়ে কোনো কথা নেই। তবে সাধারণ সম্পাদক পদটির বিষয়ে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই হবে। আর কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য পদগুলোতে রাজনীতিতে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল নেতা চাই। একই সঙ্গে যাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এবং প্রধানমন্ত্রীর ২০৪১ সালের ভিশনকে যারা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন, এমন নেতারাই আসুক আমরা সেটাই চাই।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ম-লীর সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্ণেল (অব.) ফারুক খান বলেন, আওয়ামী লীগের বিগত কমিটিগুলোর তাকালেই বোঝা যায়, দলে নতুন মুখ কিভাবে এসেছে। এবারও নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে কমিটি হবে। দলের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত রয়েছে, তাদেরকেই কমিটিতে স্থান দেয়া হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত