প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উগ্র জাতীয়তাবাদের আন্তর্জাতিক চেহারা

মুনশি জাকির হোসেন : দক্ষিণ আফ্রিকাতে বিদেশি কর্মজীবীদের উপর দীর্ঘদিন ঘৃণার চাষাবাদ চালাচ্ছিলো স্থানীয় উগ্র-জাতীয়তাবাদী চক্র। এদের দাবি বিদেশিরা সব চাকরি, ব্যবসা, বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তার করে স্থানীয়দের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে। এই চক্র প্রায়শই ছোট-বড় হামলা করে, এসব খবর কমবেশি প্রচারিত হয়। তবে গত তিনদিন যেটি হয়েছে সেটি অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এই পর্বে পাঁচজন মারা গেছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠাগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, ফ্রিস্টাইলে লুটপাট চলেছে, অগ্নিসংযোগ চলেছে। এখানে ভিকটিম হয়েছে নাইজেরিয়া, জিম্বাবুয়ে, কেনিয়ার মতো দেশের নাগরিকেরা। এর মধ্যে বাংলাদেশের, ভারতের নাগরিকও আছে। দক্ষিণ আফ্রিকাতে নাইজেরিয়ান মারা যাবার রিটালিয়েশন হয়েছে নাইজেরিয়াতে। যেখানে তিনজন দক্ষিণ আফ্রিকানকে হত্যা করা হয়েছে।

এখানে লক্ষণীয় হলো যেভাবে, যে প্রক্রিয়াতে অভিযোগ/প্রপাগান্ডা চলেছে সেই একইভাবে ইংল্যান্ডেও চলতো। এখানকার উগ্র-জাতীয়তাবাদী চক্র পূর্ব-ইউরোপসহ ইইউ-এর সব দেশের বিরুদ্ধে বিষদগার চালাতো এই বলে যে, ইংল্যান্ডের সব চাকরি/ব্যবসা বিদেশিরা দখল করেছে। এই ঘৃণার চাষাবাদের ফসল আজকের ব্রেক্সিট এবং ব্রিটিশ সংসদের অচলাবস্থা। ভারতে এই একই পন্থা অবলম্বন করেছে বিজেপি/শিবসেনা/আরএসএস। এদের দাবি ৪০ লাখ বাংলাদেশি ভারতে ব্যবসা/বাণিজ্য করছে, অবৈধ্যভাবে বসবাস করছে। তাদের বাংলাদেশে পাঠাতে হবে, সর্বশেষ সংযোজন ১৯ লাখ ভারতীয় দেশহীন। মিয়ানমারে এই ঘটনা ঘটেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে। যেখানে চীনের অংশগ্রহণ রয়েছে। বাংলাদেশেও এর বাতাস লেগেছে অনেক আগেই। বাংলাদেশে নাকি দশ লাখ ভারতীয় চাকরি করছে। অথচ বাস্তবতা বলছে, ৭৫ হাজার বিদেশি বাংলাদেশে চাকরি করে, এর মধ্যে চীনা সর্বোচ্চ, ভারত আছে তৃতীয় অবস্থানে। বাস্তবতা হচ্ছে ক্রস বর্ডার ইকোনোমিক মাইগ্রেশন ৩০০ বছর আগেও ছিলো, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। এটিকে বাইপাস করা সম্ভব নয়। বরং আগের থেকে বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থাতে আরও বেশি ইন্টিগ্রেশন হয়েছে। সমস্যা হলো উন্নত/অনুন্নত সর্বত্র উগ্র জাতীয়তাবাদ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, লেবারেলিজমের চর্চা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। যারা উদারনৈতিকতার কথা বলে তাদের সংখ্যা কমে আসছে। এমনকি রাজনীতিতেও তাদের পরাজয় হচ্ছে। হিটলারকে ঘৃণা করলেও এরা সবাই ভেতরে ভেতরে একেকজন জ্যান্ত হিটলার। দেশে দেশে যারা উগ্র জাতীয়তাবাদের চর্চা করে, ঘৃণার চাষাবাদ করে তাদের সবার রক্ত দূষিত। এরা সকলেই ইতর। মজার ঘটনা হলো যে ইতরটি নিজে ইতরামি করছে সেই ইতরটি অন্য দেশের ইতরের সমালোচনা করে। আমরা এখন ইতরের হাটবাজারে বসবাস করছি। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত