প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিডও সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে সম্পত্তিতে পূর্ণ অধিকার পাবে নারী

ইয়াসমিন: নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদের (সিডও) পূর্ণ অনুমোদন দিলে বাংলাদেশের নারীরা সম্পত্তিতে পূর্ণ অধিকার পাবে। এমনটিই বলছেন নারী অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তারা সম্পদ ও সম্পত্তিতে পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিলম্বে সিডও সনদের পূর্ণ অনুমোদন দেয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

সূত্র জানায়, সিডও সনদ জাতিসংঘ ঘোষিত নারীর মানবাধিকারের দলিল, যা ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৪ সালে এই সনদটির কয়েকটি ধারায় আপত্তি রেখে অনুমোদন দেয়। বর্তমানে সরকার এই সনদের দুটি ধারায় আপত্তি রেখেছে। এগুলো হচ্ছে ধারা ২ এবং ১৬.১ এর গ। সনদের ২ নম্বর ধারায় রয়েছে, নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নিরসনে শরিক দেশগুলো আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে এবং আইনের সংস্কার করবে। ১৬.১ (গ) ধারায় বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের উত্তরাধিকার আইন ধর্মীয় আইন দিয়ে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ভাইয়ের অর্ধেক সম্পদ বোন পায়। হিন্দু আইনে মেয়ে বাবার সম্পদে জীবনসত্ত্ব ভোগের অধিকার পায়। তবে, পুত্রবতী কন্যা বাবার সম্পদ ভোগ এবং বিক্রির সুযোগ পান। দেশে বৌদ্ধ ধর্মে হিন্দু আইন অনুসরণ করা হয়। খ্রিস্টান ধর্মে ছেলে ও মেয়ে সম্পদের সমান অংশ পায়। সংবিধানের বেশ কয়েকটি ধারায় নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে উত্তরাধিকার আইনে এটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, ‘সিডও সনদের ১৬.১ (গ) ধারাটি বলছে, ধর্মীয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। আবার বলছে যে, ২ নম্বর ধারাটি সিভিল আইনের সঙ্গে বাধা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া সিডওর পূর্ণ অনুমোদন দিয়েছে। সম্প্রতি ছেলে-মেয়ের সম্পত্তির বিষয়টি নিয়ে ভাবনার কথা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারও পূর্ণ অনুমোদন দেবে, এটা আমরা চাই। একইসঙ্গে আমরা উত্তরাধিকার আইনে নারীর পূর্ণ অধিকার বাস্তবায়িত হোক, সেটা চাই।’

বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, ‘নারী পুরুষের সম অধিকার নেই যেসব আইনে, সেগুলোর সংশোধন জরুরি। দেশের উত্তরাধিকার আইনে নারী পুরুষের সম অধিকার নেই। যতোদিন উত্তরাধিকার আইনে নারী পুরুষের সম অধিকার নিশ্চিত না হবে, ততোদিন নারীর মর্যাদা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে না। যতোদিন এই মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত না হবে, নারীরা ততোদিন ভোগ্যপণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এ কারণেই এখন শিশুরাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। কারণ, নারীকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেয়া হচ্ছে না। নারীকে সম্পদে পূর্ণ অধিকার না দেয়া হলে নারীর পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না।’

‘জাতিসংঘ যখন দেখেছে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তখন এই সনদ তৈরি করেছে। বাংলাদেশ সরকার এখনও এই সনদের দুটি ধারায় আপত্তি রেখেছে। যেখানে সংবিধানে পূর্ণ মর্যাদা দেয়া হচ্ছে, সেখানে দুটি ধারায় আপত্তি থাকার কোনো কারণ নেই। আমরা চাই সরকার সিডওর সব আপত্তি প্রত্যাহার করুক। আর সেই আলোকে সব আইন সংশোধন করলে অবশ্যই নারীর সম্পদে পূর্ণ অধিকার আসবে। একদিনে তো সব আইন পরিবর্তন হবে না। আমরা চাইবো, সরকার যেন নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক প্রচার আন্দোলন হাতে নেয়। পরিবারে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে কোথাও তার অধিকার আসবে না। তাই অবশ্যই উত্তরাধিকার আইনে নারীকে পূর্ণ অধিকার দিতে হবে।’
সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত