প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শাসন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণকে কেন্দ্রীয় শাসনের বিপরীত হিসেবে দেখা হচ্ছে সম্পূরক হিসেবে নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা

হ্যাপি আক্তার : দেশের সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকারগুলো ক্ষমতা কমে যাওয়ার একটি জুজুুর ভয় থেকে শাসন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না। তারা মনে করেন, এককেন্দ্রীক শাসন ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী হওয়ায় ‘ঢাকা বনাম বাংলাদেশ’ এমন বাস্তবতার দিকে সবকিছু আগাচ্ছে। বিবিসি বাংলা, ৭:৩০।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি সংসদ অধিবেশনে বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে শাসন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে কিন্তু এতো সময়ের প্রয়োজন কেন লাগবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাসন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার কাঠামোকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা চলছে চার দশক ধরে। তাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব তারা দেখছেন।

কিন্তু দিনে দিনে সেখানে এক কেন্দ্রীক শাসন ব্যবস্থাই জেকে বসেছে। এখন শাসন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের জন্য ২০৪১ সাল পর্যন্ত সময়ের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আরো ২০ বছর সময় কেন প্রয়োজন সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের বক্তব্য হলো, বর্তমান বাস্তবতায় দেশে নাগরিকদের পিয়নের চাকরি পাওয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আসতে হয় ঢাকায়।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেন ড. হোসেইন জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের কুড়িগ্রামের স্কুলে বাড়তি একটি সেকশন হবে কি না, এটি কি সেই স্কুলে প্রিন্সিপালই দায়িত্ব নিতে পারে না। তার জন্য ঢাকায় মন্ত্রণালয় পর্যন্ত আসতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বলা যায় আমাদের শাসন দর্শনের অন্যতম দুটি ঘাটতি আছে। আমরা বিকেন্দ্রীকরণকে কেন্দ্রীয় শাসনের বিপরীত হিসেবে দেখছি, সম্পূরক হিসেবে দেখা হচ্ছে না। যার কারণে ধীরে ধীরে দেশে যে বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে সেটা ‘ঢাকা বনাম বাংলাদেশ’। এই বাস্তবতার দিকে আমরা অবধারিতভাবে আগাচ্ছি।

আশির দশকের শেষ দিকে জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনের সময় দেশকে কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিলো এবং চালু করা হয়েছিলো উপ-জেলা পরিষদ। তখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ এই বিকেন্দ্রীকরণের বিরোধিতা করেছিলো।
এরশাদ সরকার পতনের পর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারগুলো বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে অনেক কথা বলে আসছে। তবে কতটা বাস্তবতা হয়েছে সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসে তখন সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম জিল্লুর রহমানের নের্তৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন স্থানীয় সরকার কমিশন গঠন করা হয়েছিলো, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের জন্য। সেই কমিশনের ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেরিনা রহমান খান। তিনি মনে করেন, বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে রাজনীতিকদের মাঝে একটি জুজুর ভয় কাজ করে। তিনি বলেন, মানসিকতা থাকতে হবে যে, শাসন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ করবো। আইন আছে, সেটা শুধু পলিসি করে কার্যকর করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের উপরে স্থানীয় সরকার কখনোই উঠতে পারে না। সুতরাং যে ভয় তা কাটিয়ে উঠতে হব।

তবে এককেন্দ্রীক শাসন ব্যবস্থার বিষয়টি মানতে রাজি নয় সরকার।

প্রধানমন্ত্রী অন্যতম প্রধাদ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, শাসন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের মূল বিষয়টি তাদের সময়ে হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বিকেন্দ্রীকরণের প্রশ্নে একটা সময়ের প্রয়োজন, তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে উন্নয়ন করার জন্য ক্ষমতা দেয়া আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য কমিটি আছে কিন্তু আইন প্রয়োগের যে ক্ষমতা তার কিছু অংশ দেয়া আছে। তাছাড়া যে অফিসগুলো ঢাকাতে আছে যেগুলো ভাগ করে বিভিন্ন এলাকায় দেয়া জন্য প্রশাসনিকভাবে সময়ের প্রয়োজন।

টানা তৃতীয়বার আওয়ামী লীগের এই সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে মনে হয়েছে তারা দেশকে বিভিন্ন পর্যায়ে বিভক্ত করে শাসন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে চায় না। তারা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং প্রশাসনকে সমন্বয় করে বিকেন্দ্রীকরণের চিন্তা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্পাদনা : রাশিদুল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত