প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আফ্রিকার অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করছে শিশুদের দুর্দশা

বণিক বার্তা : এশিয়ার পর আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় বিচারে বৃহত্তম মহাদেশ আফ্রিকা। হীরা, জহরত, স্বর্ণ, চিনি, লবণ, লোহা, ইউরেনিয়াম, পেট্রোলিয়াম, সিলভার, কপার, দামি কাঠ ও ট্রপিক্যাল ফ্রুটসসহ বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ আজকের সবচেয়ে পশ্চাত্পদ এ মহাদেশ। প্রধানত ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেন হলেও গত শতকের পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত পশ্চিম ইউরোপের কোনো না কোনো দেশের উপনিবেশ ছিল সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশ। অজস্র সমস্যায় জর্জরিত অথচ অপার সম্ভাবনাময় এ মহাদেশের ৫৪টি দেশ সম্পর্কে একসময় খুব অল্পই জানত দুনিয়ার মানুষ। উপনিবেশ অবসানের পর ধীরে ধীরে নতুন গুরুত্ব নিয়ে বিশ্বদরবারে সবলে হাজির হয়েছে আফ্রিকা।

আগেই বলা হয়েছে, বিশাল জনসংখ্যার দেশ আফ্রিকা। আফ্রিকার জনসংখ্যার বড় অংশ শিশুদের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আফ্রিকা চাইল্ড পলিসি ফোরামের (এসিপিএফ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকায় ক্ষুধার্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। শিশুদের দুর্দশা আফ্রিকার অর্থনীতি ও সামাজিক অগ্রগতিকে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত করছে, পেছন থেকে ছুরি মারছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

আফ্রিকার দেশগুলোয় পুষ্টিহীনতা বিষয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদনে বলা হয়, পুষ্টিহীন, অন্নহীন, ক্ষুধার্ত শিশুদের প্রয়োজন মেটাতেই আফ্রিকার দেশগুলোকে নিজেদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৭ শতাংশ ব্যয় করতে হয়। ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় উপস্থাপিত এ প্রতিবেদনে আফ্রিকার সরকারগুলোকে নিজেদের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি রক্ষার তাগিদে শিশুদের পর্যাপ্ত খাবারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ও সাধারণ জনগণের সার্বিক জীবনযাপনের মান উন্নত করতে আহ্বান করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ট্রিকল-ডাউন তত্ত্বের ফলে আফ্রিকার সবাই উপকৃত হতে পারবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, আফ্রিকার ক্ষেত্রে এ তত্ত্ব কাজ করছে না—এমনটি জানিয়েছেন এসিপিএফের নির্বাহী পরিচালক আসসেফা বেকলে। তিনি আরো বলেন, সরকার যদি শিশুদের উন্নয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকারে নিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক ও বাজেট নীতি প্রণয়ন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নিকট ভবিষ্যতে শিশুদের চলমান দুর্দশার তেমন কোনো উন্নতি বা পরিবর্তন হবে না।

বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, আফ্রিকান শিশুদের পুষ্টিহীনতা আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে ভালো হয়েছে। তবে আফ্রিকায় জন্মহার এত বেশি যে, জন্মহারের তুলনায় শিশুদের একটি বিরাট অংশ পুষ্টিহীনই রয়ে যাচ্ছে। ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের নিচে পুষ্টি, চিকিৎসা, আশ্রয় তথা বিভিন্ন দিক থেকে বঞ্চিত, দুর্দশাগ্রস্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৮৮ লাখ। অথচ ২০০০ সালে তা ছিল ৫ কোটি ৩ লাখ।

বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিটি ডলার শিশুদের দুর্দশা কমানোর জন্য বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে আদ্দিস আবাবায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে। তবে এ বিনিয়োগের রিটার্ন হয়েছে শাদে ২২ ডলার, সেনেগালে ২১ এবং নাইজার ও উগান্ডায় ১৭ ডলার করে।

এসিপিএফের প্রতিবেদনে আফ্রিকার শিশুদের জন্য সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্যমাত্রার খাবার ও স্কুলগুলোয় খাদ্য প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন নিশ্চিতের জন্য আরো বেশি রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গীকারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। শিশুদের অবস্থার বিষয়টি ঠিকমতো তদারকির জন্য তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এ প্রতিবেদনে।
আসসেফা বেকলে জানিয়েছেন, আফ্রিকাজুড়ে এখনো ছয় কোটি শিশু ক্ষুধার্ত রয়ে গেছে। এর অর্থ, এসব শিশুর জন্য নিজ নিজ দেশের সরকার ও আন্তর্জাতিক মহল প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে এবং ক্ষুধা থেকে তাদের বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে। এত শিশু এখনো ক্ষুধার মতো প্রাথমিক প্রয়োজন মেটাতে না পারার জন্য আফ্রিকার দেশগুলোর নোংরা রাজনীতির চরম উদাসীনতা, জবাবদিহিবিহীন শাসন ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন এ কর্মকর্তা।
শিশুদের ক্ষুধা, বঞ্চনা রোধে শিল্পোন্নত দেশগুলোর সঙ্গে আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটগুলো যৌথভাবে কাজ করার পাশাপাশি দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বাড়ানো প্রতিও মনোযোগ দেয়ার কথা বলেছেন এসিপিএফ প্রতিবেদনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান খ্রিস্টিয়ান চিল্ড্রেন’স ফান্ড অব কানাডার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পেট্রিক কানাগাসিংহাম।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত