প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেড় মাসে শেয়ারবাজারে রেকর্ড সংখ্যক বৈঠকের উদ্যোগ

রমজান আলী : শেয়ারবাজারের পতনরোধে গত দেড় মাসে রেকর্ড সংস্কার করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যেগুলো শেয়ারবাজারের জন্য কার্যকরী ও সময় উপযোগি। এছাড়া কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের আহ্বানে রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থমন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও শেয়ারবাজারে গতি ফিরছে না। এখনো দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন ৩০০ কোটির আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। আর মূল্যসূচক রয়েছে ৫ হাজার ২৫১ পয়েন্ট।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত কয়েকদিনে শেয়ারবাজারের জন্য যেসব পদক্ষেপ বা সংস্কার করা হয়েছে, তা খুবই সময় উপোযোগি। যেগুলো শেয়ারবাজারের ভিত্তি মজবুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ওইসব পদক্ষেপের কারনে শেয়ারবাজারে স্বাভাবিকভাবেই গতি ফিরে আসার কথা। কিন্তু কেনো যেনো আসছে না।
শেয়ারবাজারের উন্নয়নে যা যা করার দরকার, তাই করবেন বলে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন। তিনি বাজারের স্বার্থে অর্থমন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়া কয়েক দফায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেয়ারবাজারের উন্নয়নে যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে বিএসইসি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন। এরইআলোকে খায়রুল হোসেন শেয়ারবাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যকরি পদক্ষেপ নিয়েছেন।

সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, নানা সংস্কারের কারনে বাজারে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে প্রত্যাশিত গতি ফিরে না আসার পেছনে কারন হিসাবে রয়েছে ব্যাংকিং খাতের দুরাবস্থায় সৃষ্ট তারল্য সংকট।

ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, বিএসইসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অনেক সংস্কার হচ্ছে। তিনি শেয়ারবাজারের স্বার্থে আইপিও থেকে শুরু করে প্লেসমেন্ট, উদ্যোক্তা/পরিচালকদের ২ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারন, উদ্যোক্তাদের শেয়ারে লক-ইনসহ প্রত্যেকটি সংস্কার কাজ করে যাচ্ছেন।

গত ২৯ এপ্রিল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে বিতর্কিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) পূর্ব প্লেসমেন্টে শেয়ার ইস্যু (ক্যাপিটাল রেইজিং) নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামিতে বিএসইসির অনুমোদন নিয়ে প্লেসমেন্টে কোন শেয়ার ইস্যু করার সুযোগ থাকবে না। একইসঙ্গে আইপিওকালীন সকল শেয়ারে ৩ বছর লক-ইন থাকবে। যা প্রসপেক্টাসের সংক্ষিপ্ত সংস্করন প্রকাশের দিনের পরিবর্তে লেনদেন শুরুর দিন থেকে গণনা করা হবে। এছাড়া আইপিওতে ফিক্সড প্রাইস মেথডে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা ও বুক বিল্ডিং মেথডে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করতে হবে।

এরপরের দিনই (৩০ এপ্রিল) অতালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য প্রাইভেট প্লেসমেন্টে অর্থ উত্তোলন সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। একইসঙ্গে পাবলিক ইস্যু রুল সংশোধন হওয়ার আগে নতুন করে আর কোনো প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

গত ২ মে শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রণোদনা স্কীমের আওতায় আদায়কৃত (সুদ ও আসল) ৮৫৬ কোটি টাকা পুণ:ব্যবহারের অর্থাৎ আবার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সম্মতি দেয় অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। যে টাকা এরইমধ্যে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কাছে পাঠানো হয়েছে। যা সহজ শর্তে ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরন করা হবে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), প্লেসমেন্ট, আইপিও পরবর্তী বোনাস শেয়ার ও উদ্যোক্তা/পরিচালকদের এককভাবে ২ শতাংশ ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারন সংক্রান্ত বিদ্যমান নোটিফিকেশনের সংশোধনীর জন্য ২টি কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ৮ মে কমিশনের ৬৮৫তম নিয়মিত সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। একইদিনে এখনো বিক্রয়যোগ্য হয়নি (লক-ইন ফ্রি) এমন সব শেয়ারে লেনদেনের প্রথম দিন থেকে লক-ইন গণনা করা হবে বলে ডিরেকটিভ জারি করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশের আলোকে গত ১৪ মে উদ্যোক্তা/পরিচালক ও প্লেসমেন্টধারীদের শেয়ার নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। বিএসইসি জানায়, এখন থেকে তালিকাভূক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক, প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তাদের ইউনিট সিডিবিএল’র ব্লক মডিউল ব্যবহার করে ব্লক করে রাখবে।

দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশিত বিনিয়োমসীমা সমাধানে গত ১৬ মে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এলক্ষ্যে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা থেকে অতালিকাভুক্ত ( ইক্যুইটি শেয়ার, নন-কনভার্টঅ্যাবল প্রিফারেন্স শেয়ার, নন-কনভার্টঅ্যাবল বন্ড, ডিবেঞ্চার, ওপেন-ইন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড) সিকিউরিটিজকে বাদ দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যাতে শেয়ারবাজারে ব্যাংক থেকে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো যাবে।

গত ২১ মে পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ ও পৃথকভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারন ও বোনাস শেয়ার নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করে বিএসইসি। ওইদিন বিএসইসি জানায়, স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যতিত অন্যসব উদ্যোক্তা/পরিচালকেরা সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারন ছাড়া সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বোনাস শেয়ারসহ কোনভাবে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো যাবে না। আর ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারন ছাড়া কোন পরিচালক এবং উদ্যোক্তা ওই কোম্পানির শেয়ার বিক্রয় বা হস্তান্তর বা বন্ধক রাখতে পারবে না। একইসঙ্গে কোন পরিচালকের ২ শতাংশ শেয়ার ধারনে ব্যর্থতার কারনে শূণ্য পদে ২ শতাংশ শেয়ার ধারন করে এমন শেয়ারহোল্ডারদের মধ্য হতে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূরণ করতে হবে।
এদিকে আগামিতে কোম্পানির স¤প্রসারণ, সুষমকরন, আধুনীকরন, পুন:গঠন ও বিস্তার (বিএমআরই) এবং গুণগতমান উন্নয়ন ব্যতিত বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা যাবে না বলেও ২১ মে সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। বোনাস শেয়ার ঘোষণার নিয়ে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশের সময় বোনাস শেয়ার ঘোষণার কারন এবং এর বিপরীতে রেখে দেওয়া মুনাফা কোথায় ব্যবহার করা হবে,তা উল্লেখ করতে হবে।

গত ৩০ এপ্রিল শেয়ারবাজার নিয়ে কাউকে খেলতে দেওয়া হবে না বলে জাতীয় সংসদে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপরেও কেউ যদি গেম খেলতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি ও নেব বলে জানান তিনি। তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ