প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আস্থার সংকট কেন?

সজীব সরকার : পশ্চিমের দেশগুলোকে আমরা উন্নত ও সভ্য দেশ হিসেবে ভাবতে পছন্দ করি। জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত সেই দেশগুলোতে সেরা পাঁচ বা দশের তালিকায় বেসরকারি বা রাষ্ট্র পরিচালিত নয়… এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাধিক্য ও প্রাধান্য দেখা যায়। এর মানে হলো, কেবল বেসরকারি বা প্রাইভেট হওয়ার কারণে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ‘খারাপ’ হয় না, কি আদর্শে ও কাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ভর করে মূলত এর উপর।

আমাদের দেশে যতোগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সবগুলো কি যথেষ্ট মানসম্পন্ন? যদি হতো, তাহলে শিক্ষার্থীরা ভর্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দের তালিকা তৈরি করতো না। আবার চাকরিদাতারাও যে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটকে এক পাল্লায় মাপেন না, সে কথাও আমরা জানি। অন্যদিকে দেখবো, দু-একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা অনেক শিক্ষার্থীর কাছে কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও বেশি। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা বা হার (এমপ্লয়্যাবিলিটি) দিন দিন বাড়ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত এগিয়ে থাকে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে তারা এক অর্থে ভালো বা সেরা মানের শিক্ষার্থীদের বেছে নেয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক থাকেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে অনেক ছাড় দিতে হয়, ‘লাভ-লসের’ চাপে পড়ে জেনে-বুঝেও অনেক দুর্বল শিক্ষার্থীকে ভর্তি করতে হয়। তবে ভালো মানের শিক্ষার্থী যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একেবারেই আসে না, এ কথাও ঠিক নয়, শিক্ষার্থীর ভালো-মন্দ তো কেবল এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত গ্রেড দিয়ে হিসাব করা চলে না।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যারা ভালো করতে চায়, তাদের অনেকেই ক্লাস-পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক অন্যান্য বিষয়ে কঠোর নজরদারি করে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সব ক্ষেত্রেই উপাচার্য থেকে শুরু করে উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধান পদে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য শিক্ষকরাই পূর্ণকালীন বা খ-কালীন দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নন… পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসেবে এমন যারা নিয়োগ পান, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও বেশ স্বচ্ছ, একাধিক স্তরবিশিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে তবেই তারা নিয়োগ পান। আবার একটা সময় যারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। ফলে অযোগ্য বা দুর্বল শিক্ষক দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চালানো হচ্ছে… ঢালাওভাবে এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্ন থাকলেও তা কি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও নেই?
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও বিভিন্ন সময় নানা প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, কিন্তু এরপরও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই সেরা এ কারণে যে, এখানে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পর্ষদ বা ব্যক্তির প্রত্যেকেই শিক্ষার মান নিশ্চিত করার ব্যাপারে আপসহীন। একই ভাবাদর্শ নিয়ে যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে, সেই দু-চারটি এরই মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে পাবলিকের প্রায় সমান কাতারে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পেরেছে। অন্য কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও একই চেষ্টা করছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারাও উঠে আসবে।

তবে এ কথা অস্বীকার করা যাবে না, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কিছু এখনো কেবল ব্যবসার উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে, পড়াশোনার ব্যাপারে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় কেবল সার্টিফিকেট বিক্রি করছে, সাংবাদিকদের কল্যাণে আমরা তাদের অনেকের নামও জানি। সার্টিফিকেট বিক্রি না করলেও পড়াশোনার নি¤œ মান এবং সর্বস্তরে সীমাহীন দুর্নীতির কারণে অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও তো সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই উঠে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় কেবলই বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক-প্রাইভেট বলে কিছু নেই। ভালো হলেও যে কোনোটি হতে পারে, খারাপ হলেও যে কোনোটি হতে পারে। তাহলে কেবল পাবলিক হলেই ভালো আর বেসরকারি হলেই খারাপ… এই ধারণা আসলে ঠিক নয়। এই ধারণার পরিবর্তন ঘটানো দরকার এবং অন্ধভাবে এবং সবাইকে ঢালাওভাবে কেবল দোষারোপ না করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যারা ভালো করতে চাচ্ছে তাদের নানাভাবে সহযোগিতা দিতে হবে, উৎসাহিত করতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মানেই তারা ভালো নয়… এই নেতিবাচক ব্র্যান্ডিং এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে… এটি বোঝা দরকার। লেখক : সহকারী অধ্যাপক জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত