প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর)- এর মাধ্যমে মামলাজট কমানো সম্ভব, বললেন ব্যারিস্টার মৌসুমী কবিতা

জুয়েল খান : বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া) একটা শাখা আছে, কিন্তু এই বিষয়টা সাধারণ মানুষ জানেন না যে, কোর্টের বাইরেও বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়। তবে সব মামলায় এডিআর প্রযোজ্য নয়, যেমন ধর্ষণ মামলা, হত্যা মামলা, নারী-শিশু নির্যাতন মামলা। যদি কোনোভাবে মনে হয় যে, এই মামলাটা সমঝোতা করা সম্ভব তাহলে সেটা এডিআরের মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে মামলার উভয় পক্ষকে (বাদী- বিবাদী) একসঙ্গে বসে সবার কথা শুনে সেখানে বসেই লিখে পর্যালোচনা করে একটা রায় দেন তাহলে সেই রায় মেনে নিয়ে মামালা দ্রুত সমাধান সম্ভব। তাহলে আদালতের উপরে বাড়তি মামালার জট কমবে বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মৌসুমী কবিতা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মামলাজট একটা জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন যাচ্ছে আর মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর পেছনে রয়েছে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব। কেউ কেউ সামান্য একটা বিষয় নিয়ে কারো সঙ্গে ঝামেলা হলেই আদালতের দ্বারস্থ হয়। আর সেখানে অপেক্ষমাণ আইনজীবীরা কোনো বাদবিচার না করেই মক্কেলকে দিয়ে মামলা করিয়ে দেয়। বিশেষ করে নি¤œ আদালতে এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়া গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে নি¤œ আদালতের অনেক মামলা এখানে সমাধান করা সম্ভব। তবে এখন পর্যন্ত গ্রাম্য আদালতের অবকাঠামো শক্তিশালী হয়নি। এখানে কিছু জটিলতা রয়েছে। যেমন : গ্রামের সালিশের মাধ্যমে সমাধান করতে গেলে অভিযোগ আছে যে, গ্রাম্য সালিশে টাকা খেয়ে পক্ষ অবলম্বন করা হয় যার ফলে সুষ্ঠু সমাধান হয় না। তাই অনেকেই সালিশের ভয়ে কোর্টে মামলা করে আসে। আবার ইউপি সদস্যরা অনেকেই আছেন একেবারে অশিক্ষিত শুধু নিজের নাম লিখতে পারেন, তাহলে তিনি কীভাবে মামলার নিষ্পত্তি করবেন। তবে প্রধানমন্ত্রী একটা উদ্যোগের কথা বলেছেন যে, চেয়ারম্যান-মেম্বার হতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা করতে হবে। এটা করলে গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে গ্রাম অঞ্চলের অধিকাংশ মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব এবং এটা খুবই অল্প সময়ের মধ্যেই করা সম্ভব।

এছাড়া বাংলাদেশে যে, পরিমাণ মামলা আছে তার তুলনায় কোর্টের সংখ্যা কম এবং বিচারকের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় কম। নি¤œ আদালতের একজন বিচারকের একদিনে দশটার বেশি মামলার শুনানি করা সম্ভব হয় না, কিন্তু সেই বিচারকের হাতে দুইশোর বেশি মামলা থাকে তাহলে কীভাবে মামলা জট কমবে। তাই কোর্টের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে হবে, বিচারকের সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মামলা না করার জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তবে আদালতে মামলাজট কমানোর ক্ষেত্রে আইনজীবীদেরও একটা বড় ভূমিকা আছে, যেটা তারা পালন করেন না। ছোটখাটো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি উকিলের কাছে মামলা করার জন্য গেলে আইনজীবীর দায়িত্ব হচ্ছে তাকে বুঝিয়ে মামলা না করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা এবং এটা আইনজীবীদের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তারা সেটা না করে টাকার জন্য মামলা করায় উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ আছে। আসলে আইনপেশা হচ্ছে একটা মহান পেশা। সেই পেশাকে সম্মান করতে হবে, কেবল টাকার জন্যই মামলা নেয়া উচিত নয়, সাধারণ মানুষকে মামলা না করার জন্য পরার্মশ দেয়া উচিত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত