প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধান ক্ষেত ব্লাস্ট রোগ আক্রান্ত, সাদুল্লাপুরের কৃষকের মাথায় হাত

রফিকুল ইসলাম: ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাদুল্লাপুরের কৃষকরা। ইরি-বোরো মৌসুমের শেষ সময় এখন। মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে সোনালী ফসল। আর ক’দিন পরেই ধান কাটার উৎসবে মেতে উঠবে চাষীরা। কৃষকদের চোখে-মুখে ফসল ঘরে তোলার আনন্দ হাসি। এ যেন প্রতিটি কৃষকের আজন্ম এক স্বপ্ন। কিন্তু কৃষকের সেই স্বপ্নে আগুন দিয়েছে ব্লাস্ট নামের এক প্রকার ছত্রাক রোগ। ফসলে ব্লাস্টের আক্রমণে চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ধানের শীষ বের হওয়ার তিন-চারদিন পরই শীষগুলো মরে যাচ্ছে। ধানের পেটে কোনো চাল নেই। মনে হয় ধানগুলো পেকে গেছে। কাছে গিয়ে দেখা যায় শীষের সবক’টি ধানই চিটে। এতে কোন চাল নেই। সাধারণত ব্রি-২৮, ব্রি-২৯ জাতের ধানে এ রোগটি বেশি আক্রমণ করেছে।

কৃষকরা জানায়, ধানের চারা রোপণের কিছুদিন পর সবুজ পাতায় কালো দাগ দেখা দেয় এবং ধানের পাতা পচে যেতে থাকে। ওই সময় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ট্রাইসাইক্লাজোল উপাদানের টরুপার-৭৫ ডব্লিউ পি জাতীয় বিভিন্ন ছত্রাকনাশক স্প্রে করা হয়। প্রথম দিকে কিছুটা কমলেও পরে আবারও আক্রমনের শিকার হয় ফসল। কৃষকদের দাবি এ রোগ যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে ইরি -বোরো উৎপাদন লক্ষমাত্রা অর্জন করা কোনভাবেই সম্ভব হবে না। স্থানীয় কৃষি অফিসের তত্বাবধানে ও পরামর্শ ও বিভিন্ন রকম কীটনাশক ব্যবহার করেও কোন কাজে আসছে না।

সরেজমিনে খোর্দকোমরপুর, ভাতগ্রাম, জামালপুর, ফরিদপুর, নলডাঙ্গা, ধাপেরহাট, কামারপাড়া, ইদিলপুর, বনগ্রামসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ফসলে কম বেশি ব্লাস্ট রোগে আক্রান্তের চিত্র দেখা গেছে। এ যেন কৃষকের চোখের সামনেই ক্ষেতের সোনার ফসলগুলো ধীরে ধীরে পুড়ে যাচ্ছে। এ দৃশ্য একজন কৃষকের কাছে বড়ই নির্মম।

উপজেলার কিশামত দূর্গাপুর গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, বিদ্যুতের হাজার হাজার টাকা বিল দিয়া সেচ দিচ্ছি। টাকাও গেল, ধানও গেল। এখন আর কোনো আশা নাই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খাজানুর রহমান বলেন, সাধারণত ব্রি-২৮, ব্রি-২৯ জাতের ধানে এ রোগটি বেশি আক্রমণ করেছে। কৃষকদের এ জাতের ধান রোপনে বার বার নিরুৎসাহীত করা হয়েছে এর পরিবর্তে ব্রি-৭২, ব্রি-৫৮ রোপন করার জন্য বলা হয়। আক্রান্ত জমির ফসলে ট্রাইসাইক্লাজোল উপাদানের ট্রুপার-৭৫ ডব্লিউ পি, এমকোর, ব্লাস্টিং জাতীয় কীটনাশক স্প্রে করার পর নতুন করে এ রোগ আক্রমণ করার কথা নয়। কৃষি বিভাগের সমস্ত কর্মকর্তা কর্মচারির সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছে এবং পরামর্শ প্রদান করছে। প্রায় ১০ হাজার লিফলেট সচেতনতার জন্য বিতরণ করা হয়েছে, যাতে আক্রন্ত হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে পারে কৃষক। সঠিক সময়ে ঔষধ প্রয়োগ করা হলে হয়তো আবাদি জমির ফসলগুলি নষ্ট হতো না। আমরা কৃষকদের এ রোগ প্রতিরোধ করার জন্য সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছি।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত