প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা : যেতে হবে অনেক দূর

তাসমিয়া নুহিয়া আহমেদ : গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই পত্র-পত্রিকাগুলোর যেকোনো ধরনের প্রতিবেদন ও প্রবন্ধ প্রকাশের অধিকার। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য পত্র-পত্রিকা বা সামাজিক ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতে কোনো সংবাদ বা ঘটনার প্রচার ও প্রকাশ করাকে নির্দেশ করে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের স্বাধীন অভিব্যক্তি ও যোগাযোগকে উৎসাহিত করে, যার সংরক্ষণ আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষার মাধ্যমে চাওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধন এমনই এক রক্ষাকবচ। সেন্সরশিপ হচ্ছে বাকপ্রকাশের স্বাধীনতার সম্পূর্ণ বিপরীত বিষয়, যার মাধ্যমে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমগুলোকে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশে বাধা দেয়া হয়। সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ এবং কাজের স্বাধীনতা নিয়ে ২০১৯ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স প্রকাশ করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস। এই ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। ১৮০টি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে নরওয়ে আর সবশেষ অবস্থানে রয়েছে তুর্কমেনিস্তান। শুধু বাংলাদেশই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সর্বত্রই সাংবাদিকদের পরিস্থিতি খুবই নাজুক।

২০১৮ সালে প্রকাশিত ইনডেক্স অনুযায়ী, আফগানিস্তানের অবস্থান ১২১তম, যেখানে ১৬ সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। ভারতের অবস্থান ১৪০, এখানে ছয় সাংবাদিক ও পাকিস্তানের অবস্থান ১৪২-এখানে তিন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। ইনডেক্স রিপোর্টে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার জানিয়েছে, এসব দেশে অপরাধীদের সম্পূর্ণ দায়মুক্তি দিয়ে সাংবাদিকদের শারীরিক নির্যাতনকে উৎসাহিত করা হয়। এ ধরনের সহিংসতা বাড়ছেই কারণ এসবের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ও রাজনৈতিক কর্মীরাই জড়িত, বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস-ইউডিএইচআরের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানুষের মৌলিক অধিকারের একটি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এক বাস্তব সত্য, যেখানে এমন এক নিয়ম-কানুন ও আইনি পরিবেশ থাকবে যেখানে মিডিয়া সেক্টরে সবাই খোলামেলাভাবে মতামত দিতে পারবে, রাজনীতি একে সমর্থন দেবে আর আইন একে রক্ষা করবে। আইন অনুযায়ী, মিডিয়াগুলোরও তথ্য পাওয়ার অধিকার থাকবে তবে মিডিয়ারও জবাবদিহিতা থাকতে হবে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, মানুষের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংগঠনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের মত ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ সংবিধানেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

আমাদের এটা ভুললে চলবে না যে, বিশ্বব্যাপী মিডিয়ার স্বাধীনতাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। স্বাধীন, মুক্ত ও সবার অংশগ্রহণমূলক গণমাধ্যমগুলো গণতান্ত্রিক সুশাসনের কেন্দ্রস্থল। মুক্ত গণমাধ্যম স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে পারে, জনগণ ও রাজনীতিকদের আলোচনায় অংশগ্রহণের উদ্যোগ নিতে পারে এবং দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশকে অবশ্যই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। যদিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে অনেকখানি এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ, তারপরও আমাদের আরো অনেকটা পথ যেতে হবে। লেখক : দৈনিক আওয়ার টাইমের নির্বাহী সম্পাদক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত