প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্লাস্টিকের সাত টুকরো পাইপ যখন বোমা!

ডেস্ক রিপোর্ট: সিনেমার স্টাইলে ৭ টুকরো প্লাস্টিকের পাইপ, ঘড়ি, বৈদ্যুতিক তার, চার্জ লাইটের ভাঙা অংশ স্কচ টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে বোমা সদৃশ বস্তু বানিয়েছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ছিনতাইচেষ্টাকারী মাহাদী। কমান্ডো অভিযানে মাহাদী ওরফে পলাশ নিহত হওয়ার পর তার কাছ থেকে এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কমান্ডো অভিযানে নিহত মাহাদীর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো আমরা দেখেছি। কয়েক টুকরো প্লাস্টিকের পাইপ পাওয়া গেছে, যেগুলো লাল রঙ করা ছিল। পাইপের দুপাশে লাল স্কচ টেপ মোড়ানো ছিল। এরপর পাইপগুলো এক করে স্কচ টেপ পেঁচিয়ে তার সঙ্গে লাল, হলুদ, কালো বৈদ্যুতিক তার মোড়ানো ছিল। পাইপগুলোর ওপর একটা ঘড়ি ও চার্জ লাইটের এলইডি লাইট যুক্ত সার্কিট বোর্ড লাগানো ছিল। প্রাথমিক ভাবে দেখে যে কেউ এটাকে বোমা ভাবতে পারে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ধারণা করছি এই টুকরোগুলো আলাদাভাবে ব্যাগে করে বিমানবন্দরে নিয়ে আসে সে। এরপর বিমানবন্দরে প্রবেশের পর কোনও এক সময়ে টয়লেটে গিয়ে শরীরে যুক্ত করে নিতে পারে।

এক্স-রে মেশিনে তার ব্যাগে এসব ধরা পড়েনি কেন সে প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘চেকিং এ আমাদের প্রধান টার্গেট, অস্ত্র, বিস্ফোরক। তার সঙ্গে এ ধরনের কিছু্ই ছিল না। এক্স-রে মেশিনে সলিড মেটাল বস্তু সহজে ধরা পড়ে। মেশিনের আলোক রশ্মি মেটাল বস্তু ভেদ করে যেতে পারে না, এ কারণে সলিড মেটাল শনাক্ত সহজ। আলাদা করে কয়েক টুকরো প্লাস্টিকের পাইপ, ঘড়ি, বৈদ্যুতিক তারের খণ্ড এক্স-রে মেশিনে নিরাপত্তা হুমকিজনক বস্তু হিসেবে শনাক্ত হবে না।’

মাহাদীর সঙ্গে থাকা খেলনা পিস্তল

গত রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) খেলনা পিস্তল ও বোমা সদৃশ বস্তু নিয়েই ঢাকা থেকে দুবাইগামী ফ্লাইটটি ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা ঘটে। এর জেরে বিমানটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।এই ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘দুষ্কৃতকারী বোমাসদৃশ বস্তু ও অস্ত্র’ দেখিয়ে বিমানটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। আবার দুষ্কৃতকারীর কাছে ‘বোমা ও অস্ত্রসদৃশ বস্তু’ দেখা যায় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মামলার তদন্ত স্থানান্তর করা হয়েছে চট্টগ্রামের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কাছে। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়াকে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মামলাটির তদন্তভার মঙ্গলবার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি।’ সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত