প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিল্পী জামাল উদ্দিন আহমেদ বললেন, একুশে পদক পাওয়ায় দায়িত্ব বেড়েছে, আরো বেশি ভালো কাজ করতে হবে

নাঈমা জাবীন : একুশে পদক পাওয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শিল্পী জামাল উদ্দিন আহমেদ বললেন, পদক পেলে তো ভালোই লাগে। এটি একটি সম্মাননা। পদক পেলে সব কিছু শেষ হয়ে যায় না। আরো নতুন চিত্রকর্ম করার অনুপ্রেরণা এটি। এখন আমার দায়িত্ব আরো বেড়ে গেলো। আমাকে আরো বেশি ভালো চিত্রকর্ম করতে হবে। আমার বন্ধুরা আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। এখন নিজের কাছে নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই আরো বেশি ছবি আঁকতে হবে আমাকে। আমি প্রচুর কাজ করেছি। কাজের মাধ্যমেই আমাকে আরো বেশি এগিয়ে যেতে হবে। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জামাল আহমেদ বললেন, আমি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক। আমি যতোটুকু জানি, ছাত্রদের তা ভালোভাবে শেখাতে সচেষ্ট থাকবো। দেশের বাইরে থেকে আমার যতোটুকু শেখা, তা আমার কাজের মাঝে এবং ছাত্রদের শেখানোর মধ্য দিয়েই উপস্থাপন করছি। এভাবেই আমি বেঁচে থাকবো।
তিনি বলেন, শিল্পীরা তাদের কাজের মধ্য দিয়ে দেশের বাইরেও দেশকে পরিচিত করতে পারেন। বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠিত শিল্পী আছেন, যারা দেশের বাইরে নিয়মিত বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন তাদের প্রদর্শনীগুলোর মাধ্যমে। তাদের মধ্যে শাহাবুদ্দীন ভাই আছেন, যিনি দেশে এবং বাইরে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করে চলেছেন। কর্মোদ্যমী এমন অনেকে তাদের শিল্পকর্মকে দেশের গ-ি পেরিয়ে বিদেশের দুয়ারে তুলে ধরে সম্মাননা কুড়িয়েছেন। এদের মধ্যে নবীনরাও রয়েছে।শিল্পীদের নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমালোচনা সবসময়ই ছিলো। এখনও আছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাপের শিল্পীদের মধ্যে পিকাসোকেও সমালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিলো। অনেকে বলতো, কি আঁকে? কাজ করে যাওয়া হচ্ছে সবচেয়ে ভালো। নিয়মিত কাজ করলে একবার না একবার সম্মান আসতেই পারে।
নিজে কীভাবে শিল্পী হলেন, এই প্রশ্নের জবাবে সদ্য একুশে পদক পাওয়া জামাল আহমেদ বলেন, যখন আমি ক্লাস ওয়ান বা টুতে পড়ি অর্থাৎ ছোটোবেলা থেকেই ছবি আঁকা শুরু করি। সেই সময় পরিবারের কেউ সাধারণত চাইতো না যে, পরিবারের কেউ আর্টিস্ট হোক, কিন্তু অমার বাবা চাইতেন। বলতেন, যেহেতু তুমি এতো আগ্রহী, তুমি আর্ট কলেজে ভর্তি হতে পারো। এসএসসির পর বাবা আর্ট কলেজে ভর্তি করে দিলেন। তারপর চারুকলায় কলেজে ভর্তি হলাম। ছবি এঁকে আমাদের দেশে কারো জীবন চলে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিত্রকর্মতো সবার জন্য না। যারা বোঝে তাদের জন্য। চিত্রকর্ম তো পরে আসে, আগে তো ভাত-কাপড়, থাকা-চলা সবকিছু হওয়ার পর মানুষ চিন্তা করে একটা বাড়ি বানিয়েছি এবার যদি একটি চিত্রকর্ম রাখতে পারি। সারা পৃথিবীর মানুষ তো আর চিত্রকর্ম বোঝে না। মূলত যারা সৌখিন তারাই শুধু শিল্পকর্মকে ধারণ করে, সংগ্রহ করে। আমেরিকানরাও বোঝে না, বাংলাদেশিরাও বোঝে না, চিত্রকর্ম বোঝেন এমন লোক সব দেশে খুব কমই আছেন। আমাদের দেশে পেইন্টার তো খুব কম। আমার মনে হয় না যে, পেইন্টাররা সবাই খুব অভাবে আছেন। আমি একটা কিছু করে খাচ্ছি। কেউ ডিজাইন করছে, কেউ ছবি আঁকছে। বাংলাদেশে এতো মানুষ, সেই হিসেবে আর্টিস্ট অনেক কম।
চারশো-পাঁচশো আর্টিস্ট নেই যারা প্রফেশনাল। কাজেই অসুবিধা হচ্ছে না। আপনার চিত্রকর্মের মূল উপজীব্য কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা শিল্পীরা তো আশপাশের যা কিছু আছে, যা কিছু দেখি, সে সবেরই ছবি আঁকি। আমি মানুষের ছবি আঁকি। রাস্তার মানুষ, পথের মানুষ, আগেও এঁকেছি, এখনও আঁকছি। মানুষের মাঝেই আমি আমার বাংলাদেশকে খুঁজে পাই। তাই আঁকছি। মুক্তিযুদ্ধও আমার ছবির একটি অন্যতম বিষয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত