প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধান চাষে ইকো ইঞ্জিনিয়ারিং কমাবে কীটনাশক, বাড়বে আয়

মতিনুজ্জামান মিটু: ইকোলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এমন একটি পদ্ধতি যা ধান ক্ষেতে উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের সংরক্ষণ বা জীব বৈচিত্র বাড়িয়ে তোলে। এতে উপকারী পোকামাকড়ের খাদ্য ও আশ্রয়ের উৎস বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায়। ধানের ক্ষেতের চারিধারের আইলের ওপরে ফুল চাষের মাধ্যমে শত্রু পোকা দমনের এই কৌশলকে বিজ্ঞানীরা বলছেন ইকো ইঞ্জিনিয়ারিং।

ধানক্ষেতের আইলে পুষ্পমধু উৎপাদনকারী গাঁদা, কসমস, ডাল ও তেল জাতীয় ফসল যেমন শিম, মুগডাল, সূর্যমূখী ইত্যাদির ফুল বিভিন্ন উপকারী পোকামাকড়ের আশ্রয় ও খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে। এসব উপকারী বাব বন্ধু পোকা ফুলের পুষ্পমধু খেয়ে বেঁচে থেকে ক্ষতিকর পোকার প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে বিষাক্ত কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই ধান উৎপাদন করা সম্ভব হয় এবং ধানের ফলনেরও কোন ঘাটতি হয় না।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের(ব্রি) মহাপরিচালকের দপ্তরের সিনিয়র লিয়াজো অফিসার কৃষিবিদ এম. আব্দুল মোমিন তার ধান, ‘ধ্যান ও বিবিধ বিজ্ঞান’ বিষয়ক গ্রন্থে ধান চাষে ইকো-ইঞ্জিনিয়ারিং জানালেন, ধানের জমির আইলে ফুলের চাষ করে ক্ষতিকর পোকার প্রাকৃতিক শত্রু বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কীটনাশক ছাড়াই বাংলাদেশে ধান উৎপাদন করা সম্ভব। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত বিভাগের বিজ্ঞানীরা গত ২০১৪-১৫ বোরো মৌসুম থেকে ধানের প্রধান শত্রু পোকা দমনের জন্য ধানের জমিতে আইল ফসল হিসেবে গাঁদা, কসমস, ও সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে ক্ষতিকর পোকা দমনে সাফল্য পেয়েছেন।

তিনি আরো বললেন, ব্রি’র কীটতত্ত¡ বিভাগের বিজ্ঞানীরা ধানের ২৩২ ধরণের ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশে ২০ থেকে ৩০ ধরনের পোকা ধানের অর্থনৈতিক ক্ষতি করে থাকে। ধান ক্ষেতে ৩৭৫ ধরণের পরভোজী ও পরজীবি পোকা রয়েছে যা উপকারী বা বন্ধু পোকা নামে পরিচিত।
কৃষিবিদ এম. আব্দুল মোমিন বললেন, গত এক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন-ভিয়েতনাম, চীন, ফিলিপাইন এই পদ্ধতিতে ধানের পোকা মাকড় দমনে সফলতা পাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার চালর্স স্টার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিওফ গুর ৪ বছর এশিয়ার তিনটি দেশে (ভিয়েতনাম, চীন, ফিলিপাইন) এ পদ্ধতির ব্যবহার মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে কাজ করেছেন। তার গবেষণায় পাওয়া ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় এই পদ্ধতিতে ধানের ক্ষতিকারক পোকা ৫০% দমন করে কীটনাশক প্রয়োগের মাত্রা শতকরা ৭০ ভাগ কমানো সম্ভব। এতে ধানের ফলন ৭% বাড়ানো যেতে পারে।। এছাড়া এ পদ্ধতি ব্যবহার করলে মাটিতে বসবাসকারী (ডেট্রিভোরস) বিভিন্ন পোকার সংখ্যাও বৃদ্ধি পায় যা মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। বাংলাদেশের ধানের জমি ছোট ছোট খন্ডে বিভক্ত থাকায় এই পদ্ধতির মাধ্যমে পোকা দমনে সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এ পদ্ধতি থেকে কৃষকেরা তাদের ধানের জমির পতিত আইলে লাগানো ফুল ও অন্যান্য ডাল ও তৈল জাতীয় শস্য থেকে অতিরিক্ত বাড়তি আয়ও করতে পারবে।

বর্তমানে ধান উৎপাদনে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে উপকারী পোকা মাকড়ের সংখ্যা প্রকৃতি থেকে কমে গেছে। যা পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ অবস্থা থেকে উত্তরনে ইকো ইঞ্জিনিয়ারিং হতে পারে ফলদায়ক পদ্ধতি।

সর্বাধিক পঠিত