প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বার্সেলোনার চেয়ে ৩৮৩ মিলিয়ন কম খরচ করেছে রিয়াল মাদ্রিদ!

স্পোর্টস ডেস্ক : রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার দ্বৈরথ মানেই ধ্রুপদি লড়াই। কিন্তু আজকের ‘এল ক্লাসিকো’ কি সত্যিই ধ্রুপদি লড়াই হবে? প্রশ্নটা উঠছে দুই দলের দলীয় শক্তিমত্তার কারণে। কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলে তারকা খেলোয়াড় কেনাটা রিয়াল মাদ্রিদের চিরায়ত অভ্যাস। ফলে তাদের নামই হয়ে গেছে ‘ক্রেতা ক্লাব’! খেলোয়াড় বেচার চেয়ে কেনার দিকেই তাদের ঝোঁক বেশি। অথচ সেই রিয়াল মাদ্রিদ গত ৫ বছরে নামীদামী কোনো তারকা খেলোয়াড়ই কেনেনি।

উল্টো দিকে বার্সেলোনা একের পর এক তারকা খেলোয়াড় কিনে দলের শক্তি বৃদ্ধি করছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ৫ বছরে, অর্থাৎ ২০১৪ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত নতুন খেলোয়াড় ক্রয়ের পেছনে রিয়ালের চেয়ে বার্সেলোনা ৩৮৩ মিলিয়ন ইউরো বেশি খরচ করেছে!

আর শুধু বার্সেলোনাই কেন। এমনকি খেলোয়াড় কেনায় রিয়াল বর্তমানে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়েও পিছিয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ সালের পর থেকে প্রতি বছরই খেলোয়াড় কেনায় রিয়ালকে টেক্কা দিয়েছে বার্সেলোনা ও অ্যাতলেতিকো।

এমনকি ২০১৭ সালে নেইমারকে ২২২ মিলিয়ন ইউরোয় বিক্রি করার বছরেও বার্সেলোনার আয়ের চেয়ে নেট খরচ ছিল বেশি। মানে যত টাকার খেলোয়াড় বিক্রি করেছিল তার চেয়ে অনেক বেশি টাকার খেলোয়াড় কিনেছিল।

২০১৭-১৮ মৌসুমে বার্সেলোনা নেইমারসহ মোট ২৩২.৫ মিলিয়ন ইউরোর খেলোয়াড় বিক্রি করেছে। বিপরীতে কিনেছে ৪০৪.৩ মিলিয়ন ইউরোর খেলোয়াড়। এর মধ্যে ফিলিপে কুতিনহোকে কিনেছে ১৬০ মিলিয়ন ইউরোয়, উসমানে ডেম্বেলেকে ১৪৫ মিলিয়ন ইউরোয়, পওলিনহোকে কেনে ৪০ মিলিয়ন ইউরোয়, নেলসন সেমেদোকে ৩০.৫ মিলিয়ন ইউরোয়, দেউলোফুকে ১২ মিলিয়ন ইউরোয়, ইয়ারি মিনাকে ১১.৮ মিলিয়ন ইউরো এবং মারলনকে কেনে ৫ মিলিয়ন ইউরোয়!

অথচ ওই বছরে নতুন খেলোয়াড় কেনার পেছনে রিয়াল খরচ করে মাত্র ৪৬.৫ মিলিয়ন ইউরো। বিপরীতে বিক্রি করে ১৪২.৫ মিলিয়ন ইউরোর খেলোয়াড়। গত মৌসুমে অবশ্য খেলোয়াড় বেচে আয়ের চেয়ে কেনায় খরচ রিয়ালেরও বেশি। মোট ১১৩.৭ মিলিয়ন ইউরো আয় করার বিপরীতে খরচ করেছে ১৯৯.৫ মিলিয়ন ইউরো। কিনেছে ভিনিসিয়াস (৪৫ মিলিয়ন ইউরো), রদ্রিগো (৪০ মিলিয়ন), থিবো কুর্তোইস (৩৫ মিলিয়ন), ওদ্রিজোলা (৩০ মিলিয়ন), মারিয়ানো (২২ মিলিয়ন), ব্রাহিম দিয়াজ (২২), লুহিন (৮.৫ মিলিয়ন) ও মাসকারেলদের (৪ মিলিয়ন ইউরো)।

কিন্তু টাকার অঙ্কে খরচ বেশি হলেও রিয়াল যতজনকে কিনেছে, তারা সবাই মিলেও এক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সমান নন! ২০০৯ সালের পর থেকে রিয়ালকে বলতে গেলে একাই টেনেছেন রোনালদো। কিন্তু সেই সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে রিয়াল গত গ্রীষ্মে জুভেন্টাসের কাছে ১০০ মিলিয়ন ইউরোয় বিক্রি করে দিয়েছে।

তার যোগ্য বিকল্প হিসেবে কাউকে কেনেনি রিয়াল। ফলে একজন রোনালদোর শুন্যতা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে তারা। সেই শূন্যতা নিশ্চয়ই এবার এল ক্লাসিকোতে আরও বেশি করে টের পাবে রিয়াল?

আজ কোপা ডেল রের সেমি ফাইনালের প্রথম লেগটিতে অবশ্য বার্সেলোনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসির খেলা নিয়েও সংশয় আছে। তবে বার্সা কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে ঠিকই অধিনায়ক মেসিকে স্কোয়াডে রেখেছেন। আভাস-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, একটু ঝুঁকি নিয়ে হলেও মেসিকে খেলাবেন তিনি। আর মেসিও মর্যাদার এল ক্লাসিকোতে খেলতে মরিয়া। বার্সা ম্যাচটাও খেলবে নিজেদের ঘরের মাঠ ন্যু-ক্যাম্পে।

তাছাড়া মেসি যদি না খেলে, তারপরও তারকার ভারে বার্সেলোনাই এগিয়ে। লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে নতুন কেনা কুতিনহো, ডেম্বেলেরা বার্সেলোনায় অবিশ্বাস্য আক্রমণভাগ গড়ে তুলেছেন। মাঝ মাঠে নতুন আসা আর্থার, আরতুরো ভিদাল, ম্যালকমরাও ভারসাম্য এনেছেন। বিপরীতে রোনালদো চলে যাওয়ার পর গ্যারেথ বেল, মার্কো এসেনসিওরা ধুঁকছেন। সাম্প্রতিক সময়ে করিম বেনজেমা অবশ্য নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন, কিন্তু তাকে যথাযথ সহায়তা দেওয়ার কেউ নেই! রিয়াল কর্তারা টাকা ঢেলে সেই মানের কাউকে কেনেনি!

ফলে দলবদলে খরচের বিষয়টি স্পষ্টভাবেই আজকের এল ক্লাসিকোতে পিছিয়ে রাখছে রিয়ালকে। বিশেষ করে কাগজে-কলমে রিয়াল অবশ্যই পিছিয়ে। তবে এল ক্লাসিকোতে কাগজে-কলমের হিসাব অনেক সময়ই মেলে না। করিম বেনজেমারা পারবেন, কাগজে-কলমের হিসাবটা আরও একবার উল্টে ফেলে ‘এল ক্লাসিকো’র মাহাত্ম্যটা ফুটিয়ে তুলতে?

নাকি খরচের অঙ্কটাই গড়ে দিবে পার্থক্য? -সূত্র, পরিবর্তন ডটকম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত