শিরোনাম
◈ জমি জটিলতায় দুই বছরেও খনন হয়নি সিলেটের ২ গ্যাস কূপ, ঝুঁকিতে ৫৬ বিসিএফ গ্যাস উৎপাদন! ◈ ঢাকা-কুমিল্লা উড়াল রেলপথে ব্যয় ৮৪ হাজার কোটি টাকা, কমবে চট্টগ্রামের দূরত্ব ◈ এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করলেই ১৫ দিনের মধ্যে আবার পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী ◈ হামলার ভয়ে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে ছুটছেন সৌদি যুবরাজ ◈ জা‌র্সিতে থাকা সৌদি আরবের পতাকায় চুমু খেলেন ক্রিশ্চিয়া‌নো রোনালদো  ◈ সৌদি-হুথি সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ ◈ বগুড়ায় ক্লাসে শাসন করায় শিক্ষককে লাঠিপেটা, সেই সপ্তম শ্রেণির ছাত্রকে স্থায়ী টিসি ◈ চকবাজারে আগুন নিয়ন্ত্রণে, ভবনের ৬-৭ তলায় এখনও তীব্র তাপ: ধোঁয়ায় চেহারা কা‌লো হ‌য়ে গে‌ছে ফায়ার ফাইটার ও স্বেচ্ছা‌সেবক‌দের ◈ অনুমোদিত মাধ্যম ছাড়া ট্রেনের টিকিট কিনে প্রতারিত হলে দায় নেবে না রেলওয়ে ◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং ও জুমার খুতবায় সচেতনতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ০৪:২৭ সকাল
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ০৪:২৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

করপোরেট হাউজগুলো যদি ডাচ-বাংলার মতো মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতো তাহলে দেশের চেহারাটারই পরিবর্তন হয়ে যেতো

কামরুল হাসান মামুন : টিভির চ্যানেল ঘোরাতে ঘোরাতে হঠাৎ করে বিটিভিতে এসে নোঙর করলাম। দেখি ডাচ-বাংলা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান লাইভ দেখাচ্ছে। ডাচ-বাংলা ব্যাংক বাংলাদেশে একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা কর্পোরেট রেসপনসিবিলিটি পালন করছে। পুরো হলরুম ভরা বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রী আর তাদের অভিভাবক দিয়ে। আমি যখন চ্যানেল সার্ফিং থামালাম তখন বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে এক রিকশাওয়ালার ছেলে বক্তব্য রাখছিলো। দারুণ বক্তব্য। গর্বভরে বলছিলো আমি এক রিকশাচালকের সন্তান। আর এই ছেলেটি পড়ছে কার্জন হলের আমার বিভাগের পাশের বিভাগ অর্থাৎ ইইই বা ইলেকট্রিকাল এবং ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। তার ভাষায় এ সবই সম্ভব হয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কারণে। আরো একটি মেয়ে বক্তব্য দিয়েছে সে এক দরিদ্র বর্গাচাষির মেয়ে। সে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পড়ছে। এক ডাক্তার বক্তব্য রেখেছেন। তিনি তার জীবনের গল্প বলেছেন। তার বক্তব্যেও উঠে এসেছে ডাচ-বাংলা পাশে না থাকলে তার পড়াশোনাও হতো না। তাদের বক্তব্য শুনতে শুনতে চোখে জল এসে গিয়েছিলো। সারাদেশ থেকে প্রায় ৪ হাজার, হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন ৪ হাজার ছাত্রছাত্রীকে তারা বৃত্তি দিয়েছে। তাদের ৯০ শতাংশই গ্রামের দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়ে। ভাবা যায়? একটি প্রতিষ্ঠান এ রকম হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর জীবন বদলে দিচ্ছে। ডাচ-বাংলা আবার গণিত অলিম্পিয়াডের সাথেও জড়িত। আবার আমাদের ফিজিক্স অলিম্পিয়াডকে সাহায্য করছে। বাংলাদেশে এতো এতো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান। তারা যদি ডাচ-বাংলার মতো এগিয়ে আসতো দেশের চেহারাটাই পরিবর্তন হয়ে যেতো।

এই যে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন বড় বড় শিল্পমালিক আছে। তাদের অনেকেই জানে না তারা কতো টাকার মালিক। সত্যি বলতে কী জীবন চালাতে টাকার খুব প্রয়োজন। ভালোভাবে জীবন চালাতে বেশ টাকার প্রয়োজন। আভিজাত্যের সাথে জীবন চালাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু একটা পর্যায় আসে যখন এর চেয়ে বেশি টাকা আসলে তাদের জীবনযাত্রার মানকে আরো বাড়াতে পারে না। এরপর তাদের দৃষ্টি দেয়া উচিত আত্মার শান্তির দিকে। মানুষকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, মানুষকে লেখাপড়া করতে সাহায্য করা, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সেবায় পাশে দাঁড়ানো ইত্যাদি করলে মনের যেই শান্তি হয় সেটা অন্য কোনোভাবে পাওয়া সম্ভব নয়। সেজন্যই সারা পৃথিবীতে কর্পোরেট রেসপনসিবিলিটি নামক একটি শব্দ চালু রয়েছে। এরই আওতায় পৃথিবীর বড় বড় ধনীরা যেমন বিল গেটস অনেক চ্যারিটি কাজের সাথে জড়িত। অধ্যাপক ইউনূস যে সামাজিক ব্যবসার কথা বলেন সেটারও মূল উদ্দেশ্য এটাই। আশা করি আমাদের বিত্তবানরাও সমাজের অপেক্ষাকৃত কম সৌভাগ্যবানদের সৌভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে। ফেসবুক থেকে