প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ৫০ ঘর নদীগর্ভে, হুমকির মুখে রামপুর গ্রাম

ইসমাঈল ইমু : নরসিংদীর মনোহরদীতে ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে অবৈধভাবে ক্রমাগত বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে রামপুর গ্রাম। ইতিমধ্যে ওই গ্রামের ৫০টি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বালু উত্তোলনের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছে গ্রামবাসী। বালু খেকোদের হাত থেকে গ্রাম রক্ষা করতে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ রামপুর গ্রামের উত্তরে প্রবাহমান ব্রহ্মপুত্র নাদী থেকে প্রভাবশালী চক্র মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এদের মধ্যে রামপুর ভুমি অফিসের তহশীলদার আবুল কালাম আজাদ (বাচ্চুু)। এই বাচ্চুর বিরুদ্ধে মন্দিরের জমি দখলসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বাচ্চুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

খিদিরপুর ইউনিয়ন রামপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে আবুল হোসেন, পার্শ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম বাচ্চুু, আঙ্গুর মিয়া, গোলাপ মিয়া, দুলাল মিয়া, মুঞ্জু মিয়া, আবু মিয়া মিলে নদীর পশ্চিম পার্শে মেশিন স্থাপন করেছে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গ্রামের মাঝ বরাবর ঢুকে পড়ায় ইতোমধ্যেই নদীর তীর ধ্বসে বেশকিছু বাড়ী-ঘর ও আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অনুরোধে কাজ না হওয়ায় উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগকারী প্রলয় দাস বলেন, বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙ্গনের ফলে গ্রামটি এখন নদী গর্ভে হারানোর পথে। ভিটে বাড়ী এবং ফসলী জমি নদীর সাথে মিশে যাওয়ায় গ্রামের অধিকাংশ পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

ক্ষতিগ্রস্থ মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন আরজু মিয়া বলেন, বালু উত্তোলনের ফলে আমার বাড়ী-ঘরসহ গ্রামের ৫০টি পরিবার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আমি অনত্র জমি কিনে বাড়ী নির্মাণ করছি।

স্থানীয়রা আরো জানায়, বালু উত্তোলন না করতে বালু খেকোদের বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীর উপর আক্রমন চালায় এবং অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে। এমনকি বাড়ী-ঘর নিয়ে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযোক্ত বালু ব্যবাসায়ী আবুল কালাম বাচ্চুুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসসাদিকজামান বলেন, আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত