প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতেই ফখরুলের আস্থা!

রবিন আকরাম : গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা, উঠান বৈঠক ও সভাসহ নানা কার্যক্রমে ব্যস্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থীরা। প্রেস্টিজ ইস্যু হওয়ায় নানা প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর জনমন জয় করে আসনটি ধরে রাখতে চাইছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন।

সদর উপজেলা নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২১ হাজার ৬২২ জন। এই আসনে ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৫টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে বিএনপি মাত্র ১টিতে জয় লাভ করে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম ব্যাপক ভোটে জয় লাভ করেন। আওয়ামী লীগের হয়ে ৫৭,৫৩৫ ভোট পেয়েছেন খাদেমুল ইসলাম। বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ৩৬,৪০৬ ভোট।

১৯৯৬-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একই প্রার্থী মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম ৬২,৯২১ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ৪২,৫৪১ ভোট। তবে হাল ছাড়েননি ফখরুল। দুই দফা হারের পর ২০০১ সালে জয়ের দেখা পেয়েছেন তিনি। ১৩৪,৭২২ ভোট পেয়ে বিশাল জয় পান ফখরুল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেন পেয়েছিলেন ৯৬,৮৮৭ ভোট।

ফের ২০০৮ সালে ১৭৭,১০১ ভোট পেয়ে জয় ছিনিয়ে নেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেন। আর ফখরুল পেয়েছিলেন ১২০,৪১১ ভোট। এরপর ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেন জয় পান ৮৮,১৫৫ ভোটে। তার প্রতিদন্দি ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ইমরান হোসেন চৌধুরী পেয়েছিলেন ৩,৩৫৬ ভোট।

ভোটের এই হিসাব-নিকাশে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শক্ত অবস্থানে আওয়ামী লীগ। তবে আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়ী হতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাষায়, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিততে পারবে না। তিনি বলেন, এই সরকারের নৈরাজ্য বন্ধ না হলে, এই দেশে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকবে না। আমাদের দেশে কোনও জবাবদিহিতা থাকবে না। তাই ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশের পরিবর্তন আনার জন্য ভোটারদের আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ তাদেরকে পোষ্টার লাগানো, গণসংযোগ করতে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামের গাড়ি বহরে হামলা করে সাধারণ ভোটারদের মাঠে আতংক তৈরি করে দিয়ে আওয়ামী লীগ তাই সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় তারা।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারের ভয়ে গ্রাম পর্যায়ে আমাদের নেতাকর্মীরা বাসায় থাকতে পারছে না। প্রচারনা করতে গেলেই নানা রকম ভয়ভীতি দেখা হচ্ছে। ইসি যদি সুষ্ঠ নির্বানের পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারে তাহলে ব্যালটের মাধ্যমে মানুষ জবাব দিয়ে ধানের শীষে দিয়ে। ভোট দেওয়ার জন্য মানুষ সুষ্ঠ পরিবেশ পেলেই সরকার পতনের ঘটানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, প্রচারণা করতে গেলে যারাই হামলা করে, আবার তারাই মামলা করে। আর পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করার জন্য অপেক্ষা বসে আছে। নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিদের্শনায় পরিচালিত। তাই সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ আমরা। তবুও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা ভোটে এসেছি, শেষ পর্যন্ত থাকবো। মানুষ ভোট দিতে পারলেই স্বৈচারি সরকারের পতন অনিবার্য। ৩০ ডিসেম্বর মানুষ ভোট দিয়ে বিজয় নিয়ে আসবে ধানের শীষের।

এদিকে গত ১১ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন প্রচারণায় দেখা গেলেও তা এখন দেখা যাচ্ছে না। কিছু নেতাকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ করলেও এখন নিজ নিজ এলাকার দেয়ালে তাদের কারো পোস্টার চোখে পড়েনি।

অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নৌকা মার্কার প্রার্থী রমেশ সেন বলেন, জনগন এলাকায় উন্নয়ন দেখেই নৌকাকে ভোট দিবে। এই আসনে বিগত ১০ বছরে যে পরিমান উন্নয়ন হয়েছে তা জোট সরকারে আমলে কখনই সম্ভব হয়নি আর হবেও না।

রমেশ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে এই এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, আইটি পার্ক চালু এবং নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু করা হবে।’

সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে ঠাকুরগাঁও এর রিটার্নিং অফিসার ড. কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘সব জায়গায় যাতে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় থাকে এবং জনগণ যাতে ভোটের দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোট দিতে পারে এজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত