প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইশতেহার হোক দৃঢ়তার অঙ্গীকার

মঞ্জুরুল আলম পান্না : নির্বাচনী ইশতেহার হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনার একটি রূপরেখা। এতে ভোটারদের কাছে নিজ দলের আদর্শিক ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা থাকে, যা দলটির নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রথাগতভাবে এবারও একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েকদিনের মধ্যে ইশতেহার ঘোষণা করবে প্রতিটি রাজনৈতিক দল। পূর্ববর্তী নির্বাচনী ইশতেহারগুলো একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, সরকার গঠনের পর ক্ষমতাসীন দলগুলো তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো পালন করছে খুব কমই। কোনো দল একটু বেশি, কোনোটা কম। আমাদের দৃঢ় প্রত্যাশা থাকবে, এবারের নির্বাচনী ইশতেহারগুলোতে কথার ফুলঝুরি, বাগাড়ম্বর আর মুখরোচক শব্দের বদলে রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে বড় দলগুলো তাদের ইশতেহার প্রকাশ করবে আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা, সুশাসন নিশ্চিত করা, দলীয় প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার জাতি গঠন, সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ ও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সত্যিকার অর্থে একটি পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তর করা, নারী-শিশুর সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানের উন্নয়ন ঘটানো, উন্নত স্বাস্থ্যসেবাসহ অনেক মুখরোচক শব্দের সমাহার এবারও নিশ্চয় ইশতেহারগুলোতে থাকবে তা আমাদের জানা। কিন্তু মন ভোলানো এইসব কথায় মানুষ আর আস্থা রাখতে চান না। তারপরও বাস্তবতার নিরিখে রাজনৈতিক দলগুলোকে কিছু বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার অবশ্যই করতে হবে।

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের বহু দিনের দাবির বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিলসহ গণমাধ্যম এবং মানুষের বাক স্বাধীনতার সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা প্রদান, জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া এবং গবেষণায় পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা, সুন্দরবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মতো কথিত কোনো উন্নয়ন প্রকল্প না করার অঙ্গীকার, পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা এগিয়ে নেয়া, কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি রোধে প্রতিটি সরকারি-বেসরকারী-স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে আলাদা সেল গঠনের নীতিমালা করা, শিশুর বিরুদ্ধে সংহিসতা রোধে অপরাধীদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা, শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়নে বাস্তবমুখী মজুরী কাঠামো প্রণয়ন, তিন কোটি তরুণ ভোটারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা প্রদান, জাতীয় শিক্ষানীতির পূর্ণ বাস্তবায়ন, স্বাধীনতাবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠির সঙ্গে সব ধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করা, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের সময়সীমা স্পষ্ট করে ঘোষণা দেয়া, রাজধানীকে স্বল্প সময়ের মধ্যে যানজটমুক্ত করার বাস্তবসম্মত অঙ্গীকার এবার আমরা ইশতেহারগুলোতে সুস্পষ্টভাবে দেখতে চাই। পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি যে ঘোষণা আমরা চাই তা হলো পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনগুলো কে কোন পদ্ধতিতে করতে চায় তারও একটি দৃঢ় ঘোষণা।

আগেই বলেছি, সাধারনত মানুষের মন ভোলানো মুখরোচক প্রতিশ্রুতিতে ঠাসা থাকে নির্বাচনী ইশতেহারগুলো। তবু একটা লিখিত অঙ্গীকার হিসেবে এর গুরুত্বও কম নয়। যেমনটা এবারও ভোট দেয়ার সময় ভোটাররা বিবেচনায় নেবেন শাসক দলগুলোর আগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সেগুলোর বাস্তবায়নের তুলনা।

লেখক : সাংবাদিক
সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত