প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনী ইশতেহার, উন্নয়ন ধারাবাহিকতার স্মারক হোক

আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে যেসব অঙ্গীকার করেছিলো তা পালন করেছে। সংকট মোচন করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে কর্মসূচি দিয়েছিলো, অত্যন্ত সততা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে তা বাস্তবায়িত হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের প্রতি দেশের সর্বস্তরের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন, অক্লান্ত শ্রম, মেধা এবং দেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলেই বিগত ১০ বছরের সাফল্যগুলো অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নয়ন, অগ্রগতির যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও পথ রচনা করা হয়েছে, সে পথ থেকে কোনো অপশক্তি আওয়ামী লীগকে বিচ্যুত করতে পারবে না। এভাবেই তাদের রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্বিতীয় মেয়াদের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচিÑ জাতীয় সনদ ২০১৪ উপস্থাপন করা হয়েছিলো।

উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং দেশকে শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে দেশ সেবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিলো। একইভাবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে দেশবাসী সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ খাদ্যে উদ্বৃত্ত হবে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অপুষ্টির অভিশাপ দূর হবে; দারিদ্র্যের লজ্জা ঘুচে যাবে, নিরক্ষরতা দূর হবে, শিক্ষিত দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে, শিল্প-সভ্যতার ভিত্তি রচিত হবে; প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছবে, বেকারত্বের অবসান ও কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে; যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে, পরিকল্পিত নগর-জনপদ গড়ে উঠবে, রাজধানী ঢাকা যানজটমুক্ত তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত হবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ সমৃদ্ধির সোপানে পা রাখবে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণ করা হবে। রাজনীতি থেকে হিংসা, হানাহানি, সংঘাতের অবসান হবে, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নের ধারা থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে আসবে। গড়ে উঠবে একটি সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহারে বলেছিলো, আগামী পাঁচ বছরের (২০১৪-১৮) মধ্যে জাতিকে উপহার দেবে নতুন পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা রূপকল্প-২০৪১। ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের পর্যায় পেরিয়ে এক শান্তিপূর্ণ, সমৃৃদ্ধ, সুখী এবং উন্নত জনপদ। সুশাসন, জনগণের সক্ষমতা ও ক্ষমতায়ন হবে এই অগ্রযাত্রার মূলমন্ত্র। নারীর ক্ষমতায়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, শিক্ষার প্রসার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এই অগ্রযাত্রার নিয়ামক উপাদান ছিল। ইশতেহার অনুযায়ী দেশের উন্নয়ন যে হয়েছে তা এখানে লেখাবাহুল্য।

দেশের দুটি ধারার রাজনৈতিক বলয়ের একটির নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। অন্যদিকে আরেকটি শক্তির অভিলাষ- যেকোনো মূল্যে ১৫ কিংবা ২১ আগস্টের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়া। এসব দুষ্কৃতিকারী সবসময় দেশের অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে চেয়েছে। বিশেষত ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে ১৯ বার শেখ হাসিনার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে। মূলত হত্যার প্রচেষ্টা ও হুমকির মধ্যেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়েছে তাতে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে- এটা নিশ্চিত। তাই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল অশুভ শক্তির মোকাবেলা করতে হবে। সামনে বাধা এলে তা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলায় সচেষ্ট থাকতে হবে। একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে দেশের স্বাধীনতা ও স্বপ্নকে হত্যা করতে চেয়েছিলো। শেখ হাসিনা জীবিত রয়েছেন। তিনিই তার পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা বসে নেই; ষড়যন্ত্রকারীরা নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সকলকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

লেখক : শিক্ষক, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়

ৎিরঃবৎসরষঃড়হনরংধিং@মসধরষ.পড়স)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ