প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে দরিদ্র কমলেও বাড়ছে আয় বৈষম্য

দৈনিক আমাদের সময় : দেশে দরিদ্র ও অতিদরিদ্র দূর করতে হলে বাড়তে থাকা আয় বৈষম্য কমানো উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে দরিদ্র সীমাও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) উদ্যোগে দুটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা। সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের প্রকাশিত বই দুটি হলোÑ ‘ইডিং রেজিলিয়েন্স অ্যামং দ্য এক্সট্রিম পুওর ইন বাংলাদেশ’ এবং ‘এক্সট্রিম প্রভার্টি, গ্রোথ অ্যান্ড ইনইক্যুয়ালিটি ইন বাংলাদেশ’।

 

জিইডির সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। অনুষ্ঠানে এম এ মান্নান বলেন, দারিদ্র্য নিরসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো অনুসরণ করছে। তবে এ দেশে দারিদ্র্য কমলেও বৈষম্য বাড়ছে। এ বৈষম্য কমাতে দারিদ্র্যসীমা সময়োপযোগী করা হতে পারে নির্বাচনের পর।

 

অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ সামাজিক নিরাপত্তায় ভালো করলেও এখনো কর্মসূচির দ্বৈততা রয়েছে। সেই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। প্রকৃত মজুরি না বাড়ায় মানুষ এখনো অতিদরিদ্র অবস্থা থেকে বের হতে পারছে না। সম্পদেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা-ে সম্পদের চাহিদার তুলনায় যোগান কম। তাই রাজস্ব আয় বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

 

আগামী অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বৈষম্য বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানান ড. শামসুল আলম। তিনি জানান, দেশের দারিদ্র্য নিরসনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র বাস্তবায়ন করছে। সেখানে সামাজিক নিরাপত্তার লাইফ সাইকেল সিস্টেম রয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়েক সেন বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিদরিদ্রের আলাদা গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দেশে ছিন্নমূল গরিবের সংখ্যা বেড়েছে। এদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণের সক্ষমতাও কমেছে। দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাড়ছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তারা সামাজিক সুযোগ-সুবিধা কম পাচ্ছে।

 

ফলে জাতীয় উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারছেন না তারা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল বায়েস বলেন, দেশে আয় বৈষম্য এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে কৃষিখাত অতিদরিদ্র নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মূল প্রবন্ধে যুক্তরাজ্যের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গুফ উড বলেন, অতিদরিদ্র নিরসনে পোভার্টি সোস্যাল ওয়ার্কার তৈরি করতে হবে। কেননা, দরিদ্রদের সবার চাহিদা বা সমস্যা সমান নয়। তাই ঢালাও সহায়তা না দিয়ে অতিদরিদ্রদের ঘরে ঘরে গিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে বলে মনে করছেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ