প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অল্পে তুষ্টি : নববী চরিত্রের গুণ

হাবীবুল্লাহ সিরাজ :

অল্পেতুষ্টির আরবি শব্দ হলো ‘কানেয়াহ’। ‘কানেয়াহ’ এর অর্থ হলো যতটুকু হলে চলে ততটুকু পেয়ে সন্তুষ্ট থাকা, যতটুকু ভাগ্যে আসে ততটুকু পেয়েছে শুকরিয়া আদায় করা। অল্পেতুষ্টি যাদের চরিত্রে আখলাকে মাধুর্যে ব্যবহারে অনুপস্থিত তারা জীবনে অনেক কিছু হারাতে হয়। অল্পেতুষ্টির ব্যাপারে কুরআন হাদীসের কথা শুনার আগে আমাদের গ্রামবাংলার একটি প্রবাদের দিকে নজর দিই। প্রবাদে আছে ‘আগিলা গো আগিলা, কত ভালা আছিলা’ এর অর্থ হলো হায়! আগের সময়টা কতই ভালো ছিল। এর পিছনে সুন্দর একটি ঘটনাও আছে।

এক অত্যাচারি মালিক তার দাসীকে এভাবে ব্যবহার করতো যে; মালিকের খাবার সময় হাতে আলো নিয়ে এভাবে বসে থাকতে হতো যে, কোনো অবস্থাতেই যেন হাতের আলো না নড়ে। দাসীর কাছে এটা অত্যাচার মনে হলো এবং কষ্টসাধ্য ব্যাপার ঠেকলো, তাই সে তার মালিককে বললো আমাকে বিক্রি করে দিন, আমি আপনার এখানে আর থাকতে পারবো না। মালিক তাই করলো। দাসী এখন আরেক মালিকের কাছে; তার কাছে সেই একই কাজ। তবে একটু ভিন্ন, আগে আলো হাতে রাখতে হয়েছে এখন মাথায় রাখতে হয়। কষ্ট আরেকটু বাড়লো। এই মালিককেও সে বললো আমাকে বিক্রি করে দিন, আমি আপনার এখানে থাকতে পারবো না। মালিক তাই করলো। দাসী এখন তৃতীয় মালিকের কাছে; এখানেও আগের কাজই। তবে একটু ভিন্ন, আগে আলো মাথায় রাখতে হয়েছে; এখন রাখতে হয় মুখে কামড়িয়ে। এখানেও দাসী স্থায়ী হলো। এখন দাসী চতুর্থ মালিকের কাছে। এখানেও আগে কাজ। তবে আরেকটু ভিন্ন; এখন আলো রাখতে হয় কপালে। এখানেই এসে দাসী বলছিল- ‘আগিলা গো আগিলা, কত ভালা আছিলা’। এটাই হলো অল্পেতুষ্টি যাদের নেই তাদের ভাগ্য বর্ণিত দাসীর ভাগ্যের মতো।

অল্পেতুষ্টি এটি একটি ঈমানি দাবিও বটে। কারণ ছয় জিনিসের উপর ঈমান রাখার কথা বলা হয়েছে জোরালোভাবে। ছয়টির একটি হলো তাকদিরের ভালোমন্দ। এখন যদি আমি আমার তাকদিরের ফায়সালাকে মেনে না নিই; তাহলে তো আমার ঈমানই নড়েবড়ে হয়ে গেল। একজন সফল মুমিনের অন্যতম একটি চরিত্র হলো অল্পেতুষ্টি। কারণ তার আশা পাওয়ার ফয়সালা এই নশ্বর দুনিয়াতে না। তার সকল চাওয়া পাওয়া হলো পরম সুখের বাড়ী জান্নাত লাভ করা। হযরত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সফল মুমিনের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন- ‘ওই ব্যক্তি সফলকাম, যে ইসলাম গ্রহণ করল, প্রয়োজন মাফিক রিযিক গেল এবং এর উপরই আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট রাখল’ মুসলিম ১০৫৪

এক হাদীসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মানুষের অবস্থা এমন যে; পৃথিবীর মাটি ছাড়া তার পেট ভরবে না। হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোন বনী আদমের যদি দুটি স্বর্ণের পাহাড়ের মালিক হয়, তাহলে সে তৃতীয় পাহাড়ের জন্য দৌড়ায়, আর যদি তার তিনটি স্বর্ণের পাহাড় থাকে; তাহলে সে চতুর্থটা জন্য দৌড়ায়। এভাবে সে দৌড়াতে থাকে, কিন্তু তার দৌড় থামেনা। দিকে ইঙ্গিত করে মহান আল্লাহ বলেন, ‘প্রাচুর্যের লালসা তোমাদের গাফিল করে রাখে, এমন কি তোমরা কবরস্থানে পৌঁছে যাও। এটা কখনো উচিৎ নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে’ (সুরা আততাকাসুর ১-৩)। মানুষের সুখের স্থান হলো কলব। কলব যদি সুখি হয়, তাহলো সবসুখি। কলবের কৃপণতা বড়ো কৃপণতা।

হাদীসে শরীফে রয়েছে আল গিনা, গিনান নাফস’ অন্তরের প্রাচুর্যই বড়ো প্রাচুর্য। এই মহান গুণটি অর্জনে বাঁধার কিছু সরল সমীকরণ আছে; যথা বেশি বেশি টাকার ধান্ধা করা, সদা অপচয় প্রবণতা, দুনিয়ার পিছনে ছুটা, মৃত্যুর কথা বেমালুম ভুলে যাওয়া, মদ গাজা হিরোইনসহ নেশাদ্রব্যাদি সেবন করা। যতদিন এই সুমহান গুণটি অর্জন করতে মানুষ ব্যর্থ হবে ততো তাকে সুখ স্পর্শ করবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ