প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনীতি কি জটিল দিকে মোড় নিচ্ছে?

মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা যদি State-back crime হয়, তাহলে পুরো মন্ত্রিপরিষদ-পুলিশসহ পুরো প্রশাসন সেই ক্রাইমের জন্য দায়ী। তাদের সবার বিচার হওয়া উচিত ছিল। আমরা স্বাধীন, তাই যেকোনো শব্দ চয়নে আমাদের স্বাধীনতা তো আছেই! কিন্তু সেই স্বাধীনতা যখন অন্যের অধিকারের ওপর অন্যায় প্রভাব ফেলে তখন তা কোনো দ-েই মেনে নেওয়া যায় ন

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা অবশ্যই একটি জঘন্যতম হামলা, যা কোনো দৃষ্টিকোণ থেকেই মেনে নেয়া যায় না। আমি মনে করি, এই হত্যার সঙ্গে যারাই জড়িত; তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু রাষ্ট্র অতীতেও যেমন এ ধরনের জঘন্য হামলা বা হত্যার সঠিক বিচার করতে পারেনি, বর্তমান সরকারও নিরপেক্ষভাবে সেই বিচার করতে পারেনি। তাই যখন দায়িত্বশীল পত্রিকার শিরোনাম হয় ‘State-back crime, punished’ তখন জনগণ ভয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে যায়। যে রায় হয়েছে, সেই রায় যে সঠিক এবং যথোপযুক্ত হয়নি তা তখন জনগণের সামনে পরিষ্কার হয়ে উঠে। যদি সত্যিই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ‘ঝঃধঃব-নধপশ পৎরসব’ হয় তাহলে বাংলাদেশ তথা বাংলাদেশ ও জনগণের ভাবমূর্তি কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে! বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কোথায় থাকে, সে প্রশ্ন অতি স্বাভাবিকভাবেই দেখা দিতে পারে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা যদি ‘State-back crime’ হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের কোন অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান এই অপরাধ করেছে তার কোনো প্রমাণ উল্লেখ কিন্তু রায়ে নেই বা রায় যেটুকু প্রকাশিত হয়েছে তাতে কোথাও দৃশ্যমান নয়। জনগণ এখনো জানে না গ্রেনেডগুলো কে বা কারা ছুঁড়েছিলো?

যেকোনো রাষ্ট্রেই অপরাধ হতে পারে এবং অপরাধ হবে বলেই রাষ্ট্রে পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। রাষ্ট্র অপরাধীর বিচার করবে, যা অতি স্বাভাবিক। কিন্তু রাষ্ট্রের অপরাধ করার সুযোগ নেই এবং যদি করেও তাহলে সেই অপরাধের বিচার করার কোনো সুযোগও রাষ্ট্রের নেই। তেমনি ‘State-back crime’ বলে কিছু নেই। রাষ্ট্রের কোনো কর্ণধার যদি রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গ বা ব্যক্তিদের যোগসাজসে কোনো অপরাধ করেও থাকে তাহলেও সেটা ‘ঝঃধঃব-নধপশ পৎরসব’ হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রতিটি হত্যা বা হামলার পিছনে হামলা বা হত্যাকারীর সুনির্দিষ্ট মোটিভ বা লক্ষ্য থাকে। ২১ আগস্টের হামলার এবং হত্যার পিছনে যে মোটিভ বলা হয়েছে, তার সত্যতা নিয়ে জনমনে দৃশ্যত কোনো দ্বিমত নেই কিন্তু যাকে এই হামলা ও হত্যার মূল ব্যক্তি হিসেবে যাকে পরোক্ষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে বা হচ্ছে তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সংশয় আছে। একজন ক্ষমতাসীন ব্যক্তি কখনোই তার ক্ষমতার অধীনে নিয়ন্ত্রিত প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হামলা বা হত্যা করতে যাওয়ার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না, যদি না সে ব্যক্তি প্রকৃতই নির্বোধ এবং খেয়ালি না হন। যে কেউ স্বীকার করবে, কারো বাড়িতে যদি প্রতিপক্ষ আক্রান্ত বা নিহত হয়, তাহলে বাড়ির মালিক কোনো অবস্থাতেই রক্ষা পাবে না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ কোনোদিন ছিলো না, এখনো নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। তাই জনগণ মনে করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ‘State-back crime’ ছিল না এবং এর পিছনে তারেক রহমানের সম্পৃক্ততার কোনো সুযোগ ছিল না এবং নেই । যদি থাকতো তা হলে ১১/১১ এর মইন উ আহমদের সরকার তাকে ছেড়ে কথা বলতো না। তবে জনগণ অবশ্যই মনে করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা প্রতিহত করতে না পারা এবং তৎপরবর্তিতে এই হামলার মূল কারণ এবং দায়ী ব্যক্তি বা সংগঠনকে উদঘাটন করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা তৎকালীন সরকারের দায়িত্ব এবং কর্তব্য ছিল, যা এড়ানোরও কোনো সুযোগ নেই।

জনগণ বিশ্বাস করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার বর্তমান রায়ের মাধ্যমেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। রায় কার্যকর করতে আরো সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে নির্বাচন চলে আসবে। এই রায়ের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নির্ভর করবে আগামী নির্বাচনের রায়ের ওপর। নির্বাচনে জনগণের রায় যদি স্বতস্ফূর্ত হয় তাহলে বিচারের রায় প্রলম্বিত এবং পুনর্বিবেচিত হতে পারে। আর যদি নির্বাচনে জনগণের রায় প্রস্তুতকৃত হয় তাহলে বিচারের রায় পরিবর্তিত ও বর্ধিত হয়ে খুবই দ্রুত বাস্তবায়িত হতে পারে বলে জনমনে আশঙ্কা।

রাজনীতি খুবই জটিল দিকে মোড় নিচ্ছে। রাষ্ট্র এবং রাজনীতি ব্যক্তিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে যেখানে সততা, মেধা বা জনহিতকারীদের চেয়ে ব্যক্তির প্রতি আনুগত্য ও নির্লজ্জ চাটুকারিতা প্রাধান্য পাচ্ছে। যার নগ্ন প্রমাণ সাম্প্রতিক টেলিভিশনের টকশোগুলোতে দেখা যাচ্ছে। এই অপরাজনীতির ভবিষ্যৎ ভালো না এবং ভালো হতে পারে না। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত