প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মহাত্মা ও বঙ্গবন্ধু : শান্তি ও সংগ্রামের দুই আদর্শ পুরুষ

মোনায়েম সরকার : মহাত্মা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধুকে তুলনা করার জন্য আমার এ লেখার অবতারণা নয়। আজ স্বার্থান্ধতা আর সহিংসতায় পৃথিবীর মানুষ যে অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে, তাতে করে আমরা এই মহাপ্রাণদের আদর্শের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।

আমাদের প্রতিবেশী ও দূরবর্তী দেশগুলো ক্রমাগত সহিংসতায় মেতে উঠেছে। ধর্মীয় মৌলবাদ ধ্বংস করে দিচ্ছে মানুষের সৃজনশীলতা, শুরু হয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার নির্লজ্জ মাতামাতি। এ অবস্থায় আমার বুঝতে অসুবিধে হয় না যে, আমরা আমাদের পরিবেশ-প্রতিবেশ সবকিছু মিলিয়ে ক্রমাগত অবনমনের দিকে যাচ্ছি। এই অবনমন আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক সর্বোপরি আত্মিক। আমরা আমাদের আত্মাকে কলুষিত করি, ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হই, অনাবশ্যক আত্মম্ভরিতা আর স্বার্থপরতার পরাকাষ্ঠে বলি হই। মানবতা আমাদের অন্তর থেকে নির্বাসিত প্রায়। কথায় কথায় পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের প্রতিযোগিতায় নেমে নিজেদের শক্তিমত্তা জাহির করতে তৎপর। আমাদের মানবিক অধোগতির এই অবস্থায় মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতার প্রয়োজন, যারা আমাদের সামনে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন যেন তাদের কথায় বিশ্বাস করে আমরা শান্তি ও স্বস্তি ফিরে পেতে পারি।

মহাত্মা গান্ধী ছিলেন অহিংসার মন্ত্রপুত মানুষ। তিনি বলতেন, নিরস্ত্র প্রতিরোধ হচ্ছে ব্যক্তিগত ত্যাগতিতিক্ষার মাধ্যমে অধিকার সংরক্ষণের একটি কৌশল। এটি সশস্ত্র প্রতিরোধের বিপরীত পদ্ধতি। যে দৃঢ়তার বলে তিনি সমগ্র পৃথিবীকে সচেতন করেছিলেন, সেই প্রচ- শক্তি সমস্ত স্থবিরতার জগদ্দল পাথর নাড়িয়ে দিয়েছিল। তার উজ্জ্বল আবির্ভাবের পূর্বে ভারতবর্ষ ছিল ভয়ে আচ্ছন্ন। ভারতবাসীর মজ্জায় মজ্জায় ছিল নিজেদের উপর আস্থাহীনতার দৈন্য।

বিলেতের ব্যারিস্টার হওয়া সত্ত্বেও রেলের প্রথম শ্রেণির কামরা থেকে তাকে ফেলে দিয়েছিল একজন সাহেব। সেদিন তিনি কী ভেবেছিলেন, তা কখনও জানা যাবে না। কিন্তু লক্ষ্য করবার বিষয় যে, তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন না করে দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে গেলেন। বর্ণ বৈষম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত শ্বেতাঙ্গদের শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে গান্ধী সাহসের সঙ্গে তার অহিংস সত্যাগ্রহ পরিচালনা করেন। তার সংগ্রাম ভারতীয় উপমহাদেশ ব্যাপকভাবে আলোড়িত করেছিল। এ বিষয়টি তার মনে আত্মপ্রত্যয় জাগায়। তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্বে অবিচল আস্থা নিয়ে তার মতাদর্শ পরিচালনা করেছেন। তিনি দেশের মঙ্গলের জন্য আন্দোলনকে গ্রামমুখী করার সিদ্ধান্ত দেন। তিনি সুতে াকাটার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি মনে করতেন এতে নারী-পুরুষের জীবিকার সংস্থান হবে। তানজানিয়ার ড. জুলিয়াস নায়ারে গান্ধীজির গ্রাম উন্নয়নের মডেলে ‘উজামা’ গ্রাম গড়ে তুলেছেন। জাম্বিয়ার ড. কেনেথ কাউন্ডাও গান্ধীর অহিংস প্রতিরোধ ও সত্যাগ্রহের ধারণা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। আজকের বিশ্বে যারা নিজেদেরকে বিবেকের ভূমিকায় দেখতে ভালোবাসে সেই আমেরিকানরাও হিংসা-দ্বেষের বলয় থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এই ক্ষীণদেহী মহাত্মা মানুষটির কাছে কৃতজ্ঞ ও ঋণী। সাদা কালোর দ্বন্দ্বে গান্ধীর দর্শন তাদের মানসিক শক্তি জুগিয়েছিল। আমেরিকান কালোদের মহান নেতা মার্টিন লুথার কিং বহুবার গান্ধীর কাছে ঋণ স্বীকার করেছিলেন। নেলসন ম্যান্ডেলা বহুবার প্রকাশ্যে গান্ধীজির কাছে ঋণ স্বীকার করেছেন। বিপ্লবী আন্দোলনকে তিনি সমর্থন করেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, বিপ্লবী আন্দোলন সরকারি দমন নীতির মুখে ভেঙে পড়বে এবং জাতীয় আন্দোলনকে শেষ পর্যন্ত দুর্বল করবে। তিনি মনে করতেন নতুন সমাজ গড়বার জন্য অহিংসার দরকার। গান্ধীজি হিন্দু মুসলমান সম্প্রীতির স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলবার পক্ষপাতী ছিলেন। খিলাফত আন্দোলনে মুসলমানদের প্রতি তার ভালোবাসা প্রতিফলিত হয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, হিন্দু মুসলমান সম্পর্কের উন্নয়ন না হলে দেশ স্বাধীনতা লাভ করতে পারবে না। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এ সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। এ কারণে তাকে বহু মূল্য দিতে হয়েছে। অস্পৃশ্যতা বর্জন গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের এক বিশেষ দিক। তিনি দৃঢ়ভাবে হিন্দুসমাজের বাধা উপেক্ষা করে অস্পৃশ্যদের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। তিনি হিন্দু মুসলমানের ঐক্য চেয়েছিলেন কিন্তু সে ঐক্য ঘটেনি। হিংসা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন কিন্তু হিংসা এখন ভারতীয় সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। ভারতের মানুষ তার অহিংসার আদর্শ থেকে সরে গেছে। গান্ধীজি মানুষের জীবনাচরণ থেকে সাতটি সামাজিক পাপকে চিহ্নিত করেছেন। নীতি বর্জিত রাজনীতি, কর্মবিহীন সম্পদ, বিবেকশূন্য আনন্দ, চরিত্রবিহীন জ্ঞান, নৈতিকতা বর্জিত বাণিজ্য, মানবতাবিহীন বিজ্ঞান, ত্যাগ বিনা প্রার্থনাÑ এই সাতটি সামাজিক পাপকে তিনি মানুষের শত্রুজ্ঞান করতেন। আজকে আমরা আমাদের চারপাশে অসংখ্য মানুষের মাঝে এই পাপগুলোর প্রতিফলন দেখতে পাই। দেখতে পাই রাজনৈতিক নেতাদের নীতি জ্ঞানহীন রাজনীতি। কথায় কথায় দেশকে ঠেলে দিচ্ছেন ধ্বংসের দিকে।

১৯৪৭-এর পরের কালকে গান্ধীর জীবনের শেষ অধ্যায় বলে চিহ্নিত করা যায়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় তিনি ছুটে গেছেন সর্বত্র। লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন একে বলেছেন মাই ওয়ান ম্যান বাউন্ডারি ফোর্স। বেলেঘাটায় অবস্থান করে সোহরাওয়ার্দীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দাঙ্গা বন্ধের জন্য জীবনপণ করলেন। এই দাঙ্গা চলেছিল স্বাধীনতার আগের দিন পর্যন্ত। তার এ অনশনের বিরুদ্ধে হিন্দু সমাজের একটা বড় অংশের তীব্র অসন্তোষ ছিল। কলকাতার পর দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ল নোয়াখালিতে। তিনি নোয়াখালিতে ছুটে গেলেন। উন্মত্ততা বন্ধের জন্য ছুটে গেলেন নোয়াখালির পর বিহারে। গান্ধী বিহার থেকে দিল্লিতে এলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার প্যাটেল এ সময় হিন্দু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সমর্থক হলেন এবং পাকিস্তানকে ৫৫ কোটি টাকা দেবার পূর্বশর্ত অস্বীকার করলেন। অনশনের সময় গান্ধীজি প্যাটেলকে বলেছিলেন তুমি সেই সর্দার নও যাকে আমি চিনতাম। ইতোমধ্যে গান্ধী হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গিয়েছিল। আধুনিক গবেষণা থেকে জানা গেছে, সাভারকরের শিষ্য এবং ভক্ত, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সভ্য নাথুরাম গডসে গান্ধী হত্যার দায়িত্ব নিয়ে দিল্লিতে এসেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার প্যাটেল এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। গান্ধীজি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা। তবে যে অর্থে এই ‘নেতা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয় গান্ধী ঠিক সেরকম নেতা ছিলেন না। নেতার চাইতে অবতার শব্দটিই তাকে বেশি মানায়।

গান্ধীজিকে যেমন মহাত্মা উপাধি দেওয়া হয়েছে, শেখ মুজিবকেও জনগণ ভালোবেসে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেছে। তিনি একটা জাতিকে মুক্ত করেছেন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণের নাগপাশ থেকে। বাঙালির হাজার বছরের সাধনার সফল রূপকার বঙ্গবন্ধু। শেখ মুজিবের বিদ্রোহী সত্তার উন্মেষ কোনো আকস্মিক ঘটনার ফলশ্রুতি নয়। তার শৈশব ও কৈশোর এমন এক সময়ে অতিবাহিত হয়েছে যখন বাংলার আকাশে-বাতাসে অসন্তোষের অগ্নি ধূমায়িত হয়ে উঠেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন তার আবির্ভাব। তাই পরিণত বয়সে এই বিদ্রোহের লক্ষণগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবেই জাগ্রত হয়েছে। তবে এই বিদ্রোহের ছিল একটি স্বতন্ত্র রূপ। এ বিদ্রোহে কোনো হঠকারিতা ছিল না, ছিল না ধ্বংসাত্মক মনোভাবের প্রতিফলন। বুদ্ধদেব, গান্ধীজি, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ যে প্রক্রিয়ায় বিদ্রোহ করে গিয়েছেন সেই ঐতিহ্যই বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রাণিত করেছে। অসহযোগ আন্দোলনই শেখ মুজিবের বিদ্রোহী সত্তার প্রধান বৈশিষ্ট্য। তিনি সকল সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতাকে মনে প্রাণে ঘৃণা করতেন। বস্তুত তিনি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মূর্তপ্রতীক। বাংলার আপামর জনসাধারণের আশা-আকাক্সক্ষা, বেদনা-বিক্ষোভ সর্বোপরি আবহমান বাংলার বৈশিষ্ট্যকে তিনি নিজের জীবনে আত্মস্থ করেছেন। তার কণ্ঠে বাঙালি জাতির সঠিক মুক্তির আকাক্সক্ষা প্রতিধ্বনিত হয়েছে। উপমহাদেশের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর আবির্ভাবও মহাত্মা গান্ধীর মতো। স্বাধীন পাকিস্তানের পূর্ব বাংলার মানুষের জীবন হাহাকার আর বঞ্চনাপূর্ণ ছিল। এই অবস্থা থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার জন্য সুদীর্ঘ ২৪ বছর নিরলস সংগ্রাম করেছেন বঙ্গবন্ধু। তার এই সুদীর্ঘ সংগ্রামের ভেতর আমরা কেবল অহিংসার জ্যোতি বিচ্ছুরিত হতে দেখেছি। পাকিস্তানি শাসকদের শোষণমাত্রা ছাড়িয়ে গেল যখন, তখন বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলেন। অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু সামরিক সরকারকে অবিলম্বে গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা সমর্পণ করে ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলিষ্ঠ কণ্ঠে ঘোষণা করেন, বাংলার গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ব্যারাকে না যাওয়া পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে স্বাধীনতাকামী বাংলার মানুষ আর সহযোগিতা করবে না। কোনো কর-খাজনা দেবে না। এই জনসভায় লক্ষ লক্ষ মানুষকে বঙ্গবন্ধু সর্বাত্মক অহিংস অসহযোগের আহ্বান জানান। তার এ আহ্বানে সাড়া দেয় বাংলার মানুষ। বস্তুত বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের ডাক সমগ্র বাঙালি জাতির বিবেককে জাগ্রত করে। মোটকথা জাতিকে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় শোষণের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য তার এ সংগ্রাম। বাঙালি ও বাংলাদেশকে সর্বপ্রকার শোষণের হাত থেকে মুক্ত করার স্বপ্ন ছিল তার আমৃত্যু। বঙ্গবন্ধু তার সংগ্রামী জীবনে দুঃখ কষ্ট ও নির্যাতনকে নিত্যসঙ্গী হিসেবেই গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অহিংসনীতি পরবর্তীকালে নিজের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনে। মহাত্মা গান্ধীর মতো তাকেও প্রাণ দিতে হয় স্বজাতির হাতে। পাকিস্তানপন্থী লোকজনদের তিনি তার স্বভাবসুলভ উদারতায় ক্ষমা করে দেন। তিনি মৃত্যুর পূর্ব দিন পর্যন্ত স্বীয় আদর্শে অটল থাকেন। রাজনীতিতে হত্যা কোনো নতুন ঘটনা নয়। কিন্তু যে-সকল মহামানব সারাজীবন দেশের জন্য, আদর্শের জন্য নিজেদেরকে বিপন্ন করেছেন সেই মহাপুরুষদের প্রাপ্য স্বজাতির হাতে মৃত্যু নয়। অথচ ইতিহাসের নির্মম পরিহাস এই মহৎপ্রাণ ব্যক্তিদের জীবনে এ ধরনের পুরস্কারপ্রাপ্তিও ঘটে। বিবেক যখন স্তব্ধ, আত্মা তখন এমনভাবেই কলুষিত হয়। বিশ্ব-ইতিহাসের জুলিয়াস সিজার, আব্রাহাম লিঙ্কন, ট্রটস্কি, মার্টিন লুথার কিং, কেনেডি, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধীর মতো মহৎপ্রাণ ব্যক্তিগণ আততায়ীর হাতে প্রাণ দিয়েছেন।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু, গান্ধীজির হত্যার খবরে মুহূর্তের জন্য হলেও সভ্যতার ইতিহাস থমকে দাঁড়ায়। মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছিলেন। গান্ধীজি বিশ্বাস করতেন, হিংসার পথে মানুষের মুক্তি আসতে পারে না। অন্যায় আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদের ভাষা ছিল প্রচ- শক্তিমান। মানুষে মানুষে ভেদাভেদকে তিনি অস্বীকার করতেন। বাতিল করে দিয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ নিকৃষ্টের ফ্যাসিবাদী ধারণা। শেখ মুজিব ছিলেন মহাত্মা গান্ধীর মতো অহিংস ধারার রাজনীতিবিদ। আজকের পৃথিবীতে যেখানে হিংসা দ্বেষ আর ঘৃণার রাহুগ্রাস, সেখানে তাদের দর্শনকে ইউটোপিয়া মনে হতে পারে।

বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা, এই শব্দগুলোর মাঝে মিশে আছে মানুষের ভালোবাসা, ভক্তি ও শ্রদ্ধা। আজ পৃথিবী হানাহানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান উপমহাদেশে মহাত্মা গান্ধী কিংবা বঙ্গবন্ধু যুগে যুগে জন্মান না। আমরা ক্রমশ পারমাণবিক সহিংসার দিকে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, তা কখনই ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না। বস্তুত আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্নেই পারমাণবিক অস্ত্র পরিহার করা উচিত। সেদিন হয়তো খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্ফোরণে মুহূর্তে তুলোর মতো উড়ে যাবে গোটা পৃথিবী। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে প্রাণী মানুষের অস্তিত্ব। আজ শুধু ভারতীয় উপমহাদেশেই নয়, বিশ্ব রাজনীতিতে মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধুর মতো প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বের আবির্ভাবই আমাদের সাম্প্রদায়িকতা ও পারমাণবিক সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে পারে।

লেখক : রাজনীতিবিদ ও কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত