প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘পলিটিক্যাল ইসলাম আলাদা করা না গেলে জঙ্গি মূলোৎপাটন প্রায় অসম্ভব’

আশিক রহমান : হলি আর্টিজান হামলার পর আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সক্রিয় জঙ্গিদের সক্ষমতা কমাতে পেরেছে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মে. জে. (অব.) আবদুর রশিদ।

আমাদের অর্থনীতিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি সুন্নি মুসলিম দেশ। সবাই মনে করে যে এখানে জঙ্গিবাদের প্রসার ঘটানোর জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যখন কেউ জঙ্গি তৎপরতা চালাতে পারে তখন পুরো দেশটাকেই জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো রং দিয়ে দিতে পারে। সেটাই দেওয়ার চেষ্টা করেছিল হলি আর্টিজান হামলার পর। কিন্তু বাংলাদেশ খুব স্বার্থকভাবে জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করে সেই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যদি বিশ্বের কোনো দেশ স্বার্থকতা অর্জন করতে পারে তাহলে বাংলাদেশের নাম থাকবে সবার উপরে। পৃথিবীর অনেক দেশই জঙ্গিবাদে আক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু তারা সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে বের হয়ে আসতে পেরেছে। এর পেছনে অনেক কারণও রয়েছে। সামাজিক সচেতনতা এর মধ্যে অন্যতম। মানুষ জঙ্গিবাদ, সহিংসতা পছন্দ করে না বলেই জঙ্গিরা এখানে সুবিধা করতে পারে না। কোথাও প্রশ্রয় না পেলে কীভাবে এরা জঙ্গি তৎপরতা চালাবে। জঙ্গিবাদের পক্ষে তারা মত দেয়নি। ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে সক্রিয় জঙ্গিদের সক্ষমতা কমানো সম্ভব হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মে. জে. (অব.) আবদুর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ জঙ্গিবাদমুক্ত হতে পারবে না যতক্ষণ জঙ্গিবাদের মতাদর্শ, ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ রাজনীতির আইটেম বা এজেন্ডা হিসেবে থাকবে। বাংলাদেশের অনেক রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বা ম্যানুফেস্টুই হচ্ছে পলিটিক্যাল ইসলাম। রাজনীতি থেকে যদি পলিটিক্যাল ইসলাম আলাদা করা না যায় তাহলে জঙ্গিদের কখনো নির্মূল করা যাবে না। কারণ তারা রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে পলিটিক্যাল ইসলাম ব্যবহার করছে। ফলে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে পলিটিক্যাল ইসলাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। এটা করা সম্ভব হলেই জঙ্গিবাদের মতাদর্শের মূলোৎপাটন করা সম্ভব। তবে তার আগ পর্যন্ত করা প্রয়োজন সেটি বাংলাদেশ করতে পেরেছে হলি আর্টিজান হামলার পর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ