প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

হোমিওপ্যাথি কুসংস্কার নাকি মেডিকেল থেরাপি?

জাহিদ হাসান : হোমিওপ্যাথিকে প্রায়ই এক ন্যয়সঙ্গত ঔষধ, যা বিভিন্ন রোগ সারানোয় কার্যকর হিসেবে উপস্থাপন করা হয় । কিন্তু হোমিওপ্যাথি আসলে কী?

২০০ বছর আগে স্যামুয়েল হানেমান নামের এক চিকিৎসক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন। এই চিকিৎসার তত্ত্ব হচ্ছে, কোনো একজন সুস্থ ব্যক্তির দেহে কোনো একটি ‘সাবস্টেন্স’ বা উপাদান প্রয়োগ করা হলে যে প্রতিক্রিয়া হয়, সেই একই প্রতিক্রিয়া দেখানো রোগীকে সুস্থ করতে সেই সাবস্টেন্স ব্যবহার করতে হবে। আর একজন রোগীকে চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাঁর শারীরিক লক্ষণগুলোর পাশাপাশি মানসিক এবং আবেগী অবস্থাকেও মূল্যায়ন করেন হোমিওপ্যাথরা। তাঁরা একটি ঔষধে যেসব উপাদান ব্যবহার করেন, তা এতটাই দ্রবীভূত করা হয় যে, তার মধ্যে থাকা উপাদানটি বিশ্লেষণ করে আর মূল উপাদান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না।

কিন্তু তারপরও তাহলে হোমিওপ্যাথিক ঔষধে কাজ হয় কীভাবে?

হানেমান এক্ষেত্রে এক গূঢ় ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, হোমিওপ্যাথিক ঔষধে এক ধরনের ‘স্পিরিট-লাইক পাওয়ার’ রয়েছে। একটি উপাদানকে যখন রীতিনীতি মেনে ক্রমাগত অ্যালকোহল বা জলে দ্রবীভূত করে লঘু করা হতো, তখন তা সেই উপাদানে প্রবেশ করতো। বলা বাহুল্য, এ ধরনের কথাবার্তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহৃত উপাদানগুলো নানাভাবে আসে। এতে খুবই বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান আর্সেনিক এবং প্লুটোনিয়াম প্রায়ই ব্যবহার করা হয়। হোমিওপ্যাথি ঔষুধ তৈরির উপাদানের তালিকায় পটাশিয়াম সায়ানাইড এবং মার্কারি সায়ানাইডও রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন হার্বাল এবং অ্যানিমেল প্রোডাক্টও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

একজন রোগী কি জানেন তাঁকে ঠিক কী ঔষধ দেয়া হচ্ছে?

এটা আসলে অনেকটা চিকিৎসক বা হোমিওপ্যাথি চর্চা করা ব্যক্তির উপর নির্ভর করে। তবে অধিকাংশ রোগীই জানেন না যে, তিনি ঔষধ হিসেবে ঠিক কী গ্রহণ করছেন। আর ফার্মেসিতে হোমিওপ্যাথিক ঔষধগুলো শুধু সেসবের ল্যাটিন নাম দিয়ে চিহ্নিত করা থাকে। হোমিওপ্যাথির সমালোচকরা অবশ্য বারংবার দাবি করে আসছেন যে, একজন রোগীকে যেসব ঔষধ দেয়া হয় সেগুলোতে যাতে সেসবের জার্মান (অন্য দেশে হতে পারে ইংরেজি) নাম যোগ করা হয়, যাতে করে একজন রোগী বুঝতে পারেন যে তিনি ঔষুধ হিসেবে কী গ্রহণ করছেন।
হোমিওপ্যাথিক ঔষধে আর কী থাকে?

গোল ‘পিল’ আকারের হোমিওপ্যাথিক ঔষধগুলোর মূল উপাদান হচ্ছে ‘ক্রিস্টাল সুগার’। আর তরল অবস্থায় হোমিওপ্যাথি সাবস্টেন্সগুলোকে আসলে অ্যালকোহল বা পানির বাইরে আর কিছু বলা যায় না। কেননা, অ্যাক্টিভ কম্পোনেন্টগুলোকে দ্রবীভূত করে এতটাই পাতলা করে ফেলা হয় যে, সেগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত জটিল ব্যাপার।

ন্যাটোরোপ্যাথি এবং পাইথ্যোথেরাপিকে বিজ্ঞানসম্মত মনে করা হয়। তবে এসবের সঙ্গে হোমিওপ্যাথির কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন হার্বাল চায়ের মধ্যে অনেক শনাক্ত করা যায় এমন সক্রিয় উপাদান রয়েছে, আর হোমিওপ্যাথিক ঔষধে অসনাক্তযোগ্য উপাদানই বেশি।

হোমিওপ্যাথিক থেরাপির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী?

অকার্যকর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিতে একজন রোগী যে সময় ব্যয় করেন, সেই সময়ের কারণে তাঁর রোগ আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে। যেমন, একজন ক্যানসার রোগী যদি কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির বদলে হোমিওপ্যাথিক উপায়ে রোগ সারানোর পথ বেছে নেন, তাহলে পরবর্তীতে তাঁর ক্যানসার চিকিৎসা করা দুরূহ হয়ে পড়তে পারে। আর এ ধরনের ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাছাড়া জার্মানিতে কোনো অভিভাবক যদি তাঁর সন্তানকে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে জোর করে বাইরে রেখে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণে বাধ্য করেন, তাহলে তিনি আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।

তাহলে হোমিওপ্যাথির সাফল্য কিসের উপর নির্ভরশীল?

হোমিওপ্যাথরা সাধারণত একজন রোগীকে এবং তাঁর রোগ সম্পর্কে জানতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন। তাঁরা সহানুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে রোগীর দুর্বলতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন এবং নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেন যাতে রোগী নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে শুরু করেন। আর এ কারণে হোমিওপ্যাথিকে মেডিসিনের বদলে সাইকোথেরাপি হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকে। এভাবে আসলে একজন মানুষের ‘সেল্ফ-হিলিং’ ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। ঔষধ এখানে গৌণ ব্যাপার। হোমিওপ্যাথি তাই বিশ্বাসের ব্যাপার, যুক্তির নয়। সূত্র : ডয়েচেভের

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত