প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

শিগগিরই চালু হচ্ছে শিশু আদালত

ডেস্ক রিপোর্ট: সাধারণ আদালতের মতো লালসালু মোড়ানো এজলাস থাকবে না। থাকবে না কোনো ডক ও কাঠগড়া। আদালত কক্ষের পরিবেশ হবে অনেকটা ঘরোয়া ও পারিবারিক। আইনের আওতায় আসা শিশুদের জন্য শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যতিক্রমধর্মীভাবে সাজানো হচ্ছে শিশু আদালতের কক্ষ।খুব শিগগিরই ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে এ ধরনের চারটি শিশু আদালত উদ্বোধন হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত এসব আদালতে বিচারকার্য চলাকালে উকিল ও বিচারকের গায়ে থাকবে না নির্ধারিত গাউন (বিশেষ ধরনের নির্ধারিত পোশাক)। পুলিশ বা আদালতের কোনো কর্মচারীও পেশাগত বা দাপ্তরিক কোনো পোশাক পরতে পারবে না। আদালত কক্ষের পাশেই থাকবে একটি ওয়েটিং রুম (অপেক্ষা কক্ষ)

এ ছাড়া থাকবে একজন প্রবেশন কর্মকর্তার কক্ষ। ওয়েটিং রুম ও প্রবেশন কর্মকর্তার কক্ষ সাজানো হচ্ছে বিভিন্ন চিত্রকর্ম দিয়ে। অভিযুক্ত শিশুরা সার্বক্ষণিক প্রবেশন কর্মকর্তার সান্নিধ্য ও সহায়তা পাবে। বিচারকাজ শুরুর আগে শিশু তার মাতা-পিতা বা অন্য অভিভাবকের সান্নিধ্যে অপেক্ষা করতে পারবে। ফলে অন্যান্য আদালতে আনীত বয়স্ক অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে এসব শিশুর সংমিশ্রণের সুযোগ থাকবে না।

গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি শিশু অধিকারবিষয়ক সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কমিটি এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। যার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশু আদালত হিসেবে নির্ধারিত আদালত কক্ষগুলোকে শিশু আইনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী শিশুবান্ধব করে গড়ে তোলা। এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রথমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনায়, সিলেট ও রাজশাহী মহানগরী ও জেলা হিসেবে দুটি করে এবং জেলা হিসেবে ময়মনসিংহ, যশোর, কক্সবাজার ও বরিশাল জেলায় একটি করে শিশুবান্ধব আদালত কক্ষ তৈরি হচ্ছে। ইউনিসেফের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা এবং মহানগর শিশু আদালতের অবকাঠামোগত সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্য জেলা ও মহানগরগুলোয় শিশুবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে অবকাঠামোগত সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। আগামী জুলাইয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের আদালত কক্ষগুলো উদ্বোধন করা হতে পারে।

জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, শিশু আইনের বিধান অনুযায়ী শিশুবান্ধব শিশু আদালত গড়ে তোলা হচ্ছে। এ কাজের জন্য শিশু অধিকারবিষয়ক সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলীসহ কমিটির অন্য সদস্যরা প্রতিটি বিভাগীয় শহরে পরিদর্শন করে পুলিশ, সমাজসেবা কর্মকর্তা, বিচারকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শক সভা করেছেন। শিশু আইনের বিধান মেনে কীভাবে শিশু আদালতের পরিবেশ শিশুবান্ধব করা যায় সে ব্যাপারে তারা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কার কী দায়িত্ব হবে, কীভাবে আইনের আওতায় আসা শিশুদের শিশুবান্ধব পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিচার সম্পন্ন করা যাবে, শিশু আইন অনুযায়ী আদালত কক্ষগুলো কেমন হবে এসব বিষয়ে তারাই দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাদের নির্দেশনার আলোকেই মোট ১৪টি আদালত শিশুবান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে। খুব শিগগিরই ঢাকা ও চট্টগ্রামের আদালত কক্ষগুলোর উদ্বোধন করা হবে।

জানা যায়, ২০১৩ সালের শিশু আইনের ১৬(১) ধারা অনুযায়ী প্রতিটি জেলা সদরে এবং ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন এলাকায় কমপক্ষে একটি করে শিশু আদালত থাকবে। এক বা একাধিক অতিরিক্ত দায়রা জজের আদালতকে শিশু-আদালত হিসেবে নির্ধারণ করে বিচারকার্য পরিচালনা করতে হবে। আইনের ১৭ (১) ধারা অনুযায়ী আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু বা আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু কোনো মামলায় জড়িত থাকলে যে কোনো আইনের অধীনেই হোক না কেন, ওই মামলা বিচারের এখতিয়ার থাকবে কেবল শিশু আদালতের। ১৭(৪) ধারায় বলা হয়েছে, সাধারণত যেসব দালান বা কামরায় এবং যেসব দিবস ও সময়ে প্রচলিত আদালতের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় সেটা ব্যতীত, যতদূর সম্ভব, অন্য কোনো দালান বা কামরায়, প্রচলিত আদালতের ন্যায় কাঠগড়া ও লালসালু ঘেরা আদালত কক্ষের পরিবর্তে একটি সাধারণ কক্ষে এবং অন্য কোনো দিবস ও সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ব্যতীত শুধু শিশুর ক্ষেত্রে শিশু আদালতের অধিবেশন অনুষ্ঠান করতে হবে। ২০১৩ সালে আইন তৈরি হলেও এর বিধি বিধানগুলো সেভাবে মানা হচ্ছিল না। শিশু আদালত বয়স্কদের আদালতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য আসে হাইকোর্ট থেকে।

জানতে চাইলে ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ শবনাজ জাহেরীন বলেন, মূলত ২০১৩ সালের শিশু আইনটি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই শিশুবান্ধব ব্যতিক্রমধর্মী আদালত কক্ষ গড়ে তোলা হচ্ছে। আইনেই বলে দেওয়া আছে শিশু আদালতের পরিবেশ কেমন হবে, বিচারক, পুলিশ, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসিয়াল ড্রেস পরতে পারবে না। কিন্তু এগুলো প্রতিপালন হচ্ছিল না। সে কারণেই আমরা এই প্রকল্পটা হাতে নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে, আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ সিআরসি (কনভেনশন অব দ্য রাইটস অব দ্য চাইল্ড) অনুস্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডগুলো আমাদের আইনে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সেই স্ট্যান্ডার্ডগুলো কী হতে পারে, সেগুলো আদৌ বাস্তবায়ন করা সম্ভব কিনা, সেগুলো পরীক্ষামূলকভাবে দেখার জন্যও পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের যে আদালতগুলো আছে, পুলিশ স্টেশন আছে, সেগুলো শিশুবান্ধব না। সেখানকার পরিবেশ, কাঠামো কোনোটাই শিশুদের জন্য উপযোগী নয়। এ কারণেই আন্তর্জাতিক যে স্ট্যান্ডার্ড, সেটা অনুযায়ী শিশুদের আদালত যাতে শিশুবান্ধব হয়, শিশুরা যেন পারিবারিক আবহ পায়, শিশু যাতে এমন উপলব্ধি না করে যে আদালত একটা অফিসিয়াল বা ভয়ঙ্কর জায়গা, সে বিষয় মাথায় রেখেই কাজটি করা হচ্ছে। সূত্র: দৈনিক আমাদেরসময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত