শিরোনাম

প্রকাশিত : ২২ মে, ২০১৮, ১২:০৯ দুপুর
আপডেট : ২২ মে, ২০১৮, ১২:০৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

উন্নয়নের কাঙ্খিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না

রুহুল আমিন : দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষজনের দারিদ্রতার উপর রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত দুর্যোগের প্রভাব। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সরকার ও এনজিও গুলোর উন্নয়নমূলক কার্যক্রম জলবায়ু পরিবর্তন জনিত দুর্যোগ বিশেষ করে বন্যা ও নদী ভাঙ্গন, খরা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, শৈত্যপ্রবাহের জন্য কাঙ্খিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সোমবার দুপুরে নেটজ বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিস (বিএসএএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ ও নদী ভাঙ্গন, বন্যা প্রবণ অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ধারণ ও তার ক্ষয়ক্ষতি সমূহ’ এবিষয়ে সমীক্ষার উপর গণমাধ্যম সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন ।

এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের ১০ টি উপজেলায় এখানকার প্রধান প্রধান জলবায়ু পরিবর্তন জনিত দুর্যোগ বিশেষ করে বন্যা, নদী ভাঙ্গন, তাপমাত্রা ও খরা, বৃষ্টি পাতের তারত¤্র, ব্রজপাত, শৈতপ্রবাহ ও ঘনকুয়াশার মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত এসকল দুর্যোগের কারণে এখানকার কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবন জীবিকার বিভিন্ন খাত সমূহ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কৃষি খাত ও তার উপখাত গুলো যেমন - গবাদিপশু, মৎস্য খাত, অনেক বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে । এছাড়াও এসব এলাকার মানুষ তিন বেলা খেতে পারে না।

সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, এই অঞ্চলের দরিদ্র ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিগ্রস্থ মানুষের জন্য সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা তাদের দারিদ্র হ্রাস, জীবন-জীবিকার উন্নয়ন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের জন্য কাজ করছেন কিন্তু তার ফলাফল অনেকটা সীমিত। আমরা ধারনা করছি, জলবায়ু পরিবর্তনের যে নতুন নতুন অভিঘাত এসব মানুষে উপর পড়ছে এবং এত উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে এসব এলাকার মানষুজনের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজনের খাপ-খাওয়ানোর বা অভিযোজন কৌশল ব্যবস্থাও অনেক দুর্ভল। তাদের রয়েছে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব, পাশাপাশি রয়েছে সম্পদের ব্যাপক ঘাটতি।

গণমাধ্যম সংলাপে বক্তারা বলেন, ৪৮ লক্ষ বাড়ীতে তাপবিদ্যুৎ ব্যবহার করছে যা জনসংখ্যা হিসেবে দুই কোটি মানুষ এ সুবিধা পাচ্ছে পৃথিবীর আর কোন দেশ তার জনগণের এতবড় অংশকে তাপবিদ্যুৎ আওতায় অনতে পারেনি।আমরা চাইলে পারি যা ইতিমধ্যে সরকার প্রমাণ করেছে।

আমাদের সরকার কেন? দেশের দারিদ্র জনগোষ্ঠীকে কার্যকর গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমরা বিশ্ব দরবারে যেমন নিজেদের দেশ কে ছোট ও দারিদ্র দেশ বলে সুযোগ সুবিধা নিতে চাই ।আমরা কেন? দেশের মধ্যে দারিদ্র জনপথ গুলোকে সে ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি না। দেশের কুড়িগ্রাম ও রংপুর দিনাজপুর এবং রাজশাহীর এলাকা গুলোতে অনেকেই তিনবেলা খেতে পারেনা দুই বেলা খাচ্ছে।অন্যদিকে সরকার বলে যাচ্ছে দেশের কোথাও নাকি দারিদ্রতা নেই।

সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সরকার যদিও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে অনেক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তারপরও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত এসব দুর্যোগ প্রবণ এলাকায় মানুষজনের জীবন জীবকার উন্নয়নে রয়েছে অনেকটা সীমাবদ্ধতা । অঞ্চলের সুশীল সমাজের মানুষের পরামর্শ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট ফান্ডের মাধ্যমে উত্তর -পশ্চিমাঞ্চলের জন্য আরো বেশী প্রকল্প নেওয়া হোক। প্রয়োজন ও চাহিদা ভিত্তিতে এ অঞ্চলের জন্য আরো বরাদ্দ বৃদ্ধি করা। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট ফান্ড বরাদ্দে ক্ষেত্রে সচ্ছতা বজায় রাখতে হবে ।

নেটজ বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিস (বিএসএএস) বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ ও নদী ভাঙ্গন বন্যা প্রবণ অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ধরণ ও তার ক্ষয়ক্ষতি সমূহের উপর এসমীক্ষা পরিচালনা করে ।

গণমাধ্যম সংলাপে সমীক্ষা ফলাফল নিয়ে বক্তব্য রাখেন,বিসিএএস নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান, মলেটজ বাংলাদেশের উপ-পরিচালক শহিদুল ইসলাম, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, ড. দ্বিজেন মল্লিক ও মিজানুর রহমান। আলোচনা করেন, সিনিয়র সাংবাদিক কামরুল ইসলাম চৌধুরী ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়