প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অতিরিক্ত ৯ হাজার কনটেইনারের চাপ

ডেস্ক রিপোর্ট : দণ্ডভাড়া আরোপের হুশিয়ারির পরও চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার জট পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। কনটেইনারের চাপ না কমে বরং দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ৯ হাজার টিইইউএস (টোয়েন্টি ফিট ইকুইভেলেন্ট ইউনিটস) কনটেইনারের চাপে রীতিমতো হাঁসফাঁস অবস্থা বন্দর কর্তৃপক্ষের। এতে ব্যাহত হচ্ছে বন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্ম। ধারণক্ষমতা অতিক্রম হওয়ায় কনটেইনার দ্রুত ইয়ার্ড থেকে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের বারবার তাগাদা দিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানি কনটেইনার খালাস না নিলে দণ্ডভাড়া আরোপ করা হবে বলে ৮ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তিতে আমদানিকারকদের সতর্ক করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপর ২২ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এরপরও গতি আসেনি কনটেইনার খালাসে।

এদিকে বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে অপরদিকে আমদানি বাড়ার বিপরীতে কনটেইনার ডেলিভারি নেয়ার গতি বাড়েনি। এ কারণে দিন দিন বাড়ছে খালাস না নেয়া কনটেইনারের পরিমাণ। বর্তমানে বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনারের পাহাড় জমেছে। সাধারণত ছুটির দিনে শুল্কায়ন জটিলতা ও লোকবল স্বল্পতায় কনটেইনার খালাস ধীরগতিতে হয়। এ অবস্থায় আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল সরকারি ছুটি হওয়ায় এ দু’দিনে জট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বন্দরে সব ধরনের আমদানি কনটেইনারের ধারণক্ষমতা ২৬ হাজার ৮৫৭ টিইইউএস। এর বিপরীতে রোববার কনটেইনার ছিল ৩৫ হাজার ৯৫৬ টিইইউএস। যা ধারণক্ষমতার চেয়ে আরও ৯ হাজার ৯৯টি বেশি। ইয়ার্ডে এফসিএল (ফুল কনটেইনার লোড) কনটেইনারের ধারণক্ষমতা ২২ হাজার ৪৮৫ টিইইউএস হলেও বর্তমানে আছে ২৯ হাজার ৭৫৪ টিইইউএস। এ ছাড়া বেসরকারি ডিপো (আইসিডি) অভিমুখী কনটেইনার রয়েছে ৪ হাজার ১৮৪টি। আইসিডি অভিমুখী কনটেইনার যেদিন আসবে সেদিনই নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা না করায় বন্দরের ইয়ার্ডে পড়ে থাকছে দিনের পর দিন। আমদানি কনটেইনারের মোট ধারণক্ষমতা ২৬ হাজার ৮৫৭ টিইইউএস হলেও স্বাভাবিকভাবে খালাসের জন্য এর চেয়ে আরও ১৫-২০ শতাংশ কম রাখতে হয়। কিছু ফাঁকা জায়গা না থাকলে ইকুইপমেন্টের মাধ্যমে কনটেইনার মুভমেন্ট করানো যায় না। এ অবস্থায় কনটেইনারের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাওয়ায় ফাঁকা জায়গা কমে কনটেইনার প্রায় গায়ে গায়ে লেগে গেছে। এতে স্বাভাবিক সময়ের মতো কনটেইনার ডেলিভারি দেয়া যাচ্ছে না। একেকটি কনটেইনার বের করতে সময় লাগছে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ।

কনটেইনার জটের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানিকারক ও তাদের এজেন্টদের (ক্লিয়ারিং-ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট) দায়ী করে বলছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কনটেইনার খালাস নিচ্ছে না। এ কারণে ধারণক্ষমতার বেশি কনটেইনার জমা হয়ে আছে। বন্দরে আমদানি করা কনটেইনার প্রথম চার দিন বিনা ভাড়ায় রাখা যায়। এর মধ্যে ডেলিভারি না নিলে ভাড়া আরোপ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, আমদানিকারকদের অনেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বন্দরের ভেতর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি নেন না। তারা দিনের পর দিন বন্দর ইয়ার্ডকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করেন। যখন বাজারে আমদানি পণ্যের দাম অথবা চাহিদা কম থাকে তখন তারা কনটেইনার ডেলিভারি নিতে চান না। দাম বাড়ার আশায় ফেলে রাখেন বন্দরে। এভাবে জমে যায় কনটেইনারের স্তূপ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) গোলাম ছরওয়ার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমদানিকারক ও তাদের এজেন্টরা ধীরগতিতে খালাস নেয়ার কারণে কনটেইনার জট অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তবে আমরা দণ্ডভাড়া আরোপের হুশিয়ারি দেয়ার পর থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সে জন্য আর দণ্ডভাড়া আরোপ করিনি। বর্তমানে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত কনটেইনার রয়েছে। তবে সপ্তাহখানেক আগে তা আরও বেশি ছিল।’

অবশ্য কনটেইনার খালাস নিতে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ মানতে নারাজ আমদানিকারকরা। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমদানিকারক কখনোই বন্দরে কনটেইনার ফেলে রেখে ডেমারেজ দিতে চায় না। যত তাড়াতাড়ি মাল বাজারে ছাড়া যায়, ততই আমদানিকারকের লাভ। বন্দর থেকে আাইসিডিতে কনটেইনার যেতে অনেক সময় লাগছে। এ সময় কমিয়ে আনতে না পারলে কনটেইনারের জট বাড়বে, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ব্যবসায়ীরা। আমদানিকারকদের লাখ লাখ টন মাল পড়ে আছে জেটি ও বহির্নোঙরে। সেগুলো যেখানে সময়মতো খালাস করতে পারছে না বন্দর, সেখানে আমদানিকারকদের ওপর দোষ চাপানো অযৌক্তিক।’

চট্টগ্রাম ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু যুগান্তরকে বলেন, ‘কয়েকটি কারণে কনটেইনারের জট দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো আমদানিকারক শুল্ক পরিশোধে দেরি করছেন। আবার কাস্টমস কর্মকর্তারা কায়িক পরীক্ষার জন্য কিছু কিছু কনটেইনার আটকে রাখে। এতে খালাস কাজ ৪-৫ দিন বিলম্বিত হয়। আইসিডিগামী কনটেইনার বন্দর ইয়ার্ডে পড়ে থাকার কথা না। কিন্তু এ ধরনের চার হাজার কনটেইনার এখন বন্দরে রয়েছে। এগুলো সময়মতো নিচ্ছে না আইসিডি মালিকরা। এর বাইরে সামনে রমজান উপলক্ষে ডাল ও ছোলা জাতীয় পণ্যের আমদানি বেড়েছে। সব মিলিয়ে এ জট দেখা দিয়েছে।’ সূত্র : যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত