প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারের ওপর ‘চাপ’ সৃষ্টি করতে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকারের ওপর ‘চাপ’ সৃষ্টি করতে জাতিসংঘের ‘সহায়তা’ চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। চিঠিতে সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে তাকে এবং বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ‘ষড়যন্ত্র’ করছে বলেও অভিযোগ করেছে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী দলটি।

বুধবার ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া শেপুর মাধ্যমে মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুটেরেস বরাবর এ চিঠি পাঠায় বিএনপি। একইসঙ্গে ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টের বিশেষ দূতের কাছেও একই চিঠি দিয়েছে দলটি। বিএনপির আন্তর্জাতিক উইংয়ের নেতাদের মাধ্যমে এসব চিঠি পাঠানো হয়। অবশ্য চিঠি দেওয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে কিছু বলতে নারাজ বিএনপি নীতিনির্ধারকরা। তবে দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ‘অনুপস্থিত’ দাবি করে গণতন্ত্র ‘পুনঃপ্রতিষ্ঠা’র ব্যাপারে ‘ভূমিকা’ রাখতে জাতিসংঘকে অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিতে চলমান সংকট নিরসনে সরকারকে প্রধান বিরোধীদলসহ অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসতে ‘চাপ’ দেওয়া এবং একজন প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সমকালে ‘জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে চিঠি দিচ্ছে বিএনপি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

সূত্র জানায়, চিঠিতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দি ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা, মানবাধিকার পরিস্থিতি, বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধাসহ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আন্তর্জাতিক উইংয়ের আহ্বায়ক ড. ইনাম আহমেদ চৌধুরী এবং সদস্যসচিব ড. আসাদুজ্জামান রিপন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা সমকালকে বলেন, ক্ষমতাসীন দল আবারও একটি ‘একতরফা’ নির্বাচন করার নানা নীল-নকশা প্রণয়ন করেছে। সারাবিশ্বের অভিভাবক হিসেবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ‘পুনরুদ্ধারে’ ভূমিকা রাখতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করে দেশবাসী।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, যদিও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত। তারপরও দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন তারা।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত