প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আশেকে ইলাহী, আশেকে রাসুল ও আশেকে দুনিয়া

সৈয়দ রশিদ আলম : মহান রাব্বুল আল-আমিন মানুষের অন্তরে তাঁর ও তার অনুগত মানব-মানবীর অন্তরে তাঁর অনন্ত প্রেমলীলা তৈরি করে দিয়েছেন, সেই সাথে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রকৃত উম্মতদের অন্তরে রাসূল প্রেম একই সাথে তৈরি করে দিয়েছেন। কিন্তু মানুষের চিরন্তন শত্রু ইবলিশ শয়তান মানুষের অন্তর থেকে আল্লাহর প্রেম, রাসূল প্রেম মুছে দিয়ে সেখানে দুনিয়ার প্রেম তৈরি করে দেয়। যারা দুনিয়ার মোহে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুনিয়ার প্রেমে প্রেমিক হয়ে যায়, তখন তাদের কঠোর যন্ত্রনার মুখে পরে যেতে হয়। কারণ, প্রেমিক অন্তর যাকে দেখে তাঁর অন্তরকে শীতল করে ফেলে সেটা সাময়িক, এই প্রেম এক সময় মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে যায়।

একজন আরেকজনকে চোখের পলকে পরিত্যাগ করে ফেলে, আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়ার যেই সময় টুকু লাগে, দুনিয়ার প্রেমিক-প্রেমিকেরা তার পূর্বেই পরস্পরকে পরিত্যাগ করে ফেলেন। কারণ, মানুষ তার প্রিয় মানুষের কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করতে থাকে তার কোনটাই পরিপূর্ণভাবে পায় না। তখন তার ভেতর ধারনা জন্মে যায় যে, আমি প্রতারিত হয়েছি। প্রেমিক অন্তর প্রেম পর্ব শুরুর সময় যে প্রেম ভালোবাসা প্রথম দিকেই দিতে পারে, শেষের দিকে এসে প্রথম দিকের মতো প্রেম ভালোবাসা আর দিতে পারে না। বিশ্বখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম সেক্সপিয়ার বলেছেন- অভাব যখন ঘরে প্রবেশ করে ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। বর্তমান কঠিন বাস্তবতা এটাই যে, যারা প্রেম করে সংসার পেতেছেন, সেইসব বাড়িতে বাড়িতে এসি আছে, ফ্রিজ আছে, ডিপ ফ্রিজ আছে কিন্তু একই সাথে অভাব থাকার কারণে সেই বাড়িতে জলন্ত অগ্নিকুন্ডও আছে। যাকে পছন্দ করে আপনি জীবন সাথী করেছেন আপনার অভাবের সাথে সাথে তার চেহারা, আচরণ পরিবর্তন হতে থাকবে।

প্রথম দিকে আপনার জীবন সাথী ভেবে নিয়েছিল এই জীবনটা একটি গোলাপ ফুলের বাগিচা কিন্তু এখন সে টের পাচ্ছে এই গোলাপে একই সাথে রক্তাক্ত করে দেওয়ার মত কাঁটাও রয়েছে। যেটা তার আগে জানা ছিল না। যেকারণে বাধ্য হয়ে পৃথিবীবাসী ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালন করছে। তারা জানেন প্রতিদিন ভালোবাসা দেওয়া সম্ভব না, ভালোবাসা পাওয়াও সম্ভব না, যেকারণে অন্য অন্য দেশের মত বাংলাদেশও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে ঈদের মতো উদযাপন করা হয়। তারপরের দিন থেকে এই ভালোবাসা অনন্তলোকে হারিয়ে যায়। পরের বছর আবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আসবে এই দিনের অপেক্ষায় সবাই থাকবে এবং বাকী সময়গুলোতে থাকবে শুধুই যন্ত্রণা আর হাহাকার। কিন্তু যারা তাদের অন্তরে মহান আল্লাহর প্রেম ও রাসুল (সা.) এর প্রেমকে বসিয়ে দিয়েছেন সেই প্রেমিক অন্তর প্রতি মুহুর্তে আল্লাহর প্রেম ও রাসুল প্রেম অনুভব করতে থাকবে। এই প্রেমের কোন দিবস নেই।

দিবস রাখার বিধানটি রাখা হয়নি। কিন্তু দুনিয়ার প্রেমে যখন আপনি জড়িয়ে পরবেন যতদিন আপনার খ্যাতি, সম্মান, অর্থ থাকবে ততোদিন আপনার প্রিয়জনের কাছ থেকে ভালোবাসাটা পেতে থাকবেন, কিন্তু যখনই আপনার জীবন কষ্টের পর্ব শুরু হবে, দেখবেন যাকে ভালোবেসে সুখে হয়েছেন চোখের পলকে তার ভালোবাসাটাও পরিবর্তিত হয়ে গেছে। যেই বাড়িতে অভাব অনাটন লেগে আছে, গিয়ে দেখবেন তাদের জীবনে ভালোবাসা তো নেই এমনকি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসেও তারা পরস্পরকে ভালোবাসতে পারছেন না। বিশ্বখ্যাত মহা পুরুষ ওমর খৈয়াম যথার্থই বলেছেন- প্রেমিক অন্তর চোখের পলকে তার প্রিয় প্রেয়শীকে পরিবর্তিত হতে দেখবে, বার বার কোনোভাবেই তার অন্তরে সে প্রবেশ করতে পারবে না। দুনিয়ার লোভ তার প্রেয়শীকে চূড়ান্ত লোভের স্তরে নিয়ে গেছে। যেখান থেকে তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব না।

লেখক: গবেষক, প্রাবন্ধিক/সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত