প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মহাসড়কে স্থাপন করা হচ্ছে অপটিক্যাল ফাইবার

ডেস্ক রিপোর্ট : সর্বজনীন ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে এবার মহাসড়কে যুক্ত হচ্ছে অপটিক্যাল ফাইবার। রেলওয়ের মতো মহাসড়কে যুক্ত হওয়া ফাইবারের মালিকানা থাকবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ)। এর ফলে দীর্ঘ মহাসড়কজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ফাইবার লিজ দিতে পারবে সংস্থাটি। এর আয় দিয়ে মহাসড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। তা ছাড়া এতে ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়েভুক্ত দেশগুলোয় উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার সম্ভব হবে।

জানা গেছে, সওজর মহাসড়ক নেটওয়ার্ক স্মার্ট হাইওয়েতে রূপান্তর হচ্ছে। এতে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল থেকে প্রাপ্ত টাকা সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে রোড ফান্ডের উৎস হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সুবিধা পাবে দেশ।

এ নিয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক করেছেন। সেখানে স্মার্ট হাইওয়েতে মহাসড়ক নেটওয়ার্ক রূপান্তরে ১ মাসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এখন কাজ করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। তারা বলছে, মহাসড়কে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে টোলপ্লাজা এক্সেল লোড, নির্দিষ্ট পয়েন্টে মোটরযানের চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য সুবিধা প্রবর্তনের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সওজের প্রস্তাবের পর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করবে মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সওজের অধীনে মহাসড়কে ইতোমধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করা হয়েছে। তবে সওজের ডাক্টের মাধ্যমে ফাইবার অপটিক স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে সওজের আয়ের একটা বড় উৎস তৈরি হবে। যদিও বিটিআরসি থেকে লাইসেন্স নেওয়ার বিষয় থাকতে পারে।

সওজের এক কর্মকর্তা জানান, ভূমি অধিগ্রহণ আইনের অধীনে মহাসড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়ে থাকে। তাই অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোয় কীভাবে তা স্থাপন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে নিরীক্ষা করে স্মার্ট হাইওয়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

সওজ সূত্রমতে, এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ের মাধ্যমে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ট্রান্স এশিয়ান রেললাইন বরাবর ফাইবার অপটিক ক্যাবল দিয়ে সংযুক্ত করার মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হবে। এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপারহাইওয়ে (এপিআইএস) স্থাপনের উদ্যোগটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুপার হাইওয়েটির জন্য পথাধিকার (রাইট অব ওয়ে) হিসেবে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে (১ লাখ ২৭ হাজার কিলোমিটার) এবং এশিয়ান হাইওয়েকে (১ লাখ ৪৩ হাজার কিলোমিটার) বিবেচনা করা হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে পাঠানো ইন্টারগভর্নমেন্টাল অ্যাগ্রিমেন্ট অন এশিয়ান হাইওয়েজ সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদন দেয় ইউএন-অ্যাসক্যাপ। এর মাধ্যমে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে উচ্চগতির টেরিস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। বিদ্যমান সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের অতিরিক্ত সংযোগ হিসেবে এটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চগতির টেরিস্ট্রিয়াল সংযোগ স্থাপিত হলে চোক পয়েন্টসের সমস্যা দূর হবে। শুধু তা-ই নয়, এ অঞ্চলের দেশগুলোয় বিদ্যমান ডিজিটাল ডিভাইড দূর হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হবে। তা ছাড়া প্রস্তাবিত কাঠামোয় এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোয় একাধিক ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ পয়েন্ট এবং ইন্টারনেট ডাটা সেন্টার ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদেশিক ট্রাফিক চলাচলের জন্য বিদ্যমান অতিরিক্ত ট্রানজিট বা পিয়ারিং-সংক্রান্ত ব্যয় কমবে। ব্যান্ডউইথ ট্রানজিট ও পিয়ারিং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।

এতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহারে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলজুড়ে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সহায়ক হবে। এই উদ্যোগ সফল হলে একই নীতিমালার আলোকে পরিচালিত হবে অঞ্চলজুড়ে বিদ্যমান ব্যাকবোন নেটওয়ার্কের ব্যবহার। এর সুফল অংশগ্রহণকারী সব দেশের জন্য উন্মুক্ত হবে। নিম্ন ব্যান্ডউইথ-সম্পন্ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এটি বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার। এর ফলে সব দেশের মধ্যে ক্রসবর্ডার ই-কমার্স সূচনার জন্য মাইলফলক হবে। আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত