শিরোনাম
◈ অল্প সময়ে বেশি ফলন, কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে মুড়িকাটা পেঁয়াজে ◈ শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়তে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ জাতীয় সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে একাধিক সুপারিশ কমিটির ◈ মাইকিং করে বাণিজ্যমেলার মাঠে ভাঙচুর, ভেকু দিয়ে গেট ভাঙছেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা: মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি ◈ মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট নিয়ে যে নতুন সিদ্ধান্ত ◈ এবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড আড়াই ঘণ্টা পোশাক শ্রমিকদের অবরোধ ◈ জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সামরিক প্রস্তুতি নয়, প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান: রাষ্ট্রপতি ◈ মেসি জাদুতে জয়, চ্যাম্পিয়ন্স কাপে ইন্টার মায়ামি ◈ পোশাকশিল্পে অস্থিরতায় ক্রয়াদেশ হারানোর শঙ্কা, ভাঙচুরে ভাড়াটে লোক ব্যবহারের অভিযোগ; ২৪ ঘণ্টায় আন্দোলন বন্ধের আশ্বাস, গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তি দাবি ◈ আজ রাতেই অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, বাংলাদেশের ৪ সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত

প্রকাশিত : ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ০৪:২৪ সকাল
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ০৪:২৪ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা রাষ্ট্রের কর্তব্য

রাজেকুজ্জামান রতন : জাতীয়করণের জন্য শিক্ষকদের যে আন্দোলটি চলছে, এর একটা নৈতিক ভিত্তি আছে। আর সরকারের একটা অর্থনৈতিক দায়িত্ব আছে। শিক্ষা সব সময় হতে হবে গণতান্ত্রিক। শিক্ষা হতে হবে সার্বজনীন। শিক্ষা আমাদের বৈষম্যমুক্ত একটি সমাজের স্বপ্ন দেখায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যদি বৈষম্য থাকে, তাহলে ছাত্র-ছাত্রীরা জীবনের শুরুতেই বুঝে গেল তাদের জীবনটা বৈষম্যের মধ্যে। কেউ সরকারি, কেউ বেসরকারি। যাদের টাকা আছে, তাদের শিক্ষা আছে। শিক্ষা হয়ে গেছে পণ্য। যাদের টাকা আছে তাদের ছেলে মেয়েরাই শুধু পড়ালেখা করতে পারবে।

শিক্ষকদেরকে যদি নির্ভরশীল করে ফেলা হয় যে, ছাত্রদের বেতন থেকেই তাদের জীবিকা চলবে, তাহলে শিক্ষক শিক্ষাদানের পরিবর্তে বিক্রি করতেই উদ্বুদ্ধ হবে বেশি। জ্ঞান বিতরণের মাধ্যম না হয়ে জ্ঞান বিক্রয়ের দোকান হয়ে যাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। নৈতিক কারণে শিক্ষাটাকে যদি গণতান্ত্রিক করতে হয়, তার আর্থিক দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। শিক্ষার আর্থিক দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেয়া মানেই শিক্ষাকে জাতীয়করণ করা। শিক্ষকদের বেতন ভাতা, তাদের শিক্ষার জন্য আনুষাঙ্গিক ব্যয় এসব রাষ্ট্র কতৃক নির্বাহ করা। শিক্ষা যে মানব সম্পদ তৈরি করে তার প্রভাব গোটা সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। তার ফল গোটা সমাজ পায়।

একটা শিক্ষিত জনগোষ্ঠী মানে উন্নত জনগোষ্ঠী। পৃথিবীর যত উন্নত, আধুনিক, অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল দেশের কথা বলি তারা প্রত্যেকে শিক্ষিত। যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত উন্নত। আমরা এখনো জ্ঞান বিজ্ঞানে পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে পিছিয়ে আছি। অতি দ্রুত যদি ওদের সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হয়, শিক্ষার মান উন্নত করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এক্ষেত্রে বিনিয়োগটা কি হতদরিদ্র মানুষরা করবে? নাকি তারা যে রাষ্ট্রে থাকে সে রাষ্ট্রের করা উচিত? আমি মনে করি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই শিক্ষকদের বেতন ভাতা নিশ্চিত করা উচিত । যাতে করে আমাদের দেশ একটা উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে রুপান্তরিত হয়। মানব সম্পদের উন্নয়ন করতে হবে। যাতে ডেভেলপমেন্টটা স্থায়ী হয়।

জাতীয় সম্পদ শেষ হয়ে যায়, কিন্তু মানব সম্পদ টিকে থাকে। সে কারণে আমরা মনে করি শিক্ষার জাতীয়করণের দাবীতে একটা নৈতিক ভিত্তি আছে। অর্থনৈতিক গুরুত্ব আছে। এর অর্থনৈতিক দায়িত্বটা সরকারের। বিপুল পরিমাণ টাকা জনগণের কাছ থেকে ট্যাক্স হিসেবে আসে। শিক্ষার ক্ষেত্রে, চিকিৎসার ক্ষেত্রে, অবকাঠামো নির্মানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের প্রধান ভূমিকা থাকা উচিত বলে মনে করি।

তাহলেই এই টাকার পরিপূর্ণ ব্যবহার হবে। দেশের টাকা লুটপাট হয়ে যায়। জনতা ব্যাংকে এক ব্যক্তি পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে পারেন। তাহলে দেশ কেন শিক্ষার জন্য বিনিয়োগটি করবে না? শিক্ষাকে জাতীয় করণ করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।

পরিচিতি: কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য, বাসদ
মতামত গ্রহণ : সানিম আহমেদ
সম্পাদনা : গাজী খায়রুল আলম

  • সর্বশেষ