প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিনে ১৬ ঘণ্টা কাজ করে শুধু খেয়ে বাঁচার নাম সিকিউরিটি গার্ড

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন সুজন। সাপ্তাহিক কোনো ছুটি নেই। তাই কাজের পর বাকি আট ঘণ্টায় ঘুম, গোসলসহ যাবতীয় ব্যক্তিগত কাজ শেষ করতে হয় তাকে। আট ঘণ্টার জন্য চার হাজার ২০০ টাকা এবং অতিরিক্ত (ওভারটাইম) আট ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি পান তিন হাজার টাকা।

 

সুজন মাসে ৩০ দিন ১৬ ঘণ্টা করে কাজ করেন। এতে ঘণ্টাপ্রতি তিনি পান প্রায় ১৫ টাকা। আর রাজধানীর কড়াইল বস্তির মতো জায়গাতে থাকতে সুজনকে খরচ করতে হয় মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা। তিন হাজার ৩০০ টাকায় খাওয়া এবং বাকি দুই হাজার ৪০০ টাকা যাতায়াত ও হাতখরচেই শেষ হয় তার।

 

ঢাকা শহরে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করা সুজন ব্যক্তিগত-পারিবারিক-সামাজিক জীবন উপেক্ষা করেই বড় বড় দালানের নিরাপত্তা দেন। এর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান তাকে যা দেয় তা দিয়ে শুধু থাকা-খাওয়াই হয়। এর বাইরে আর কোনো সুযোগ-সুবিধা তিনি পান না। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে থাকা বয়স্ক বাবা-মাকে মাস শেষে টাকা না পাঠাতে পেরে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া সুজনের অসহায় স্বীকারোক্তি, ‘বাবা-মা টাকা চায়। দিতে পারি না তো। কী করতাম!’

 

রাজধানীর প্রায় প্রতিটি ভবনে, প্রতিষ্ঠানে সুজনের মতো নিরাপত্তাকর্মীদের (সিকিউরিটি গার্ড) দেখা মেলে। খুব অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানই নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খরচ বাঁচাতেই তারা নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেন না। কারণ নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়োগ দিলে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধাও দিতে হয় তাদের। তাই নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ না দিয়ে তৃতীয় পক্ষের শরণাপন্ন হন তারা।

 

এসব প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিতে গড়ে উঠেছে তৃতীয় শ্রেণির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যেসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী লাগবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো টাকার বিনিময়ে নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহ করে।

 

২৫ জানুয়ারি কথা হয় বহুজাতিক নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রুপ ফোর (জিফোরএস), এলিট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড, অরনেট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড, আজনবী সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড, বেস্ট সিকিউরিটাস সার্ভিসেস লিমিটেড, অরিয়ন সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড এবং নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ব্যান্ড গ্রুপ ও কুয়েত এয়ারলাইন্সের মোট ১৭ জন নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে।

 

এই ১৭ জনের মধ্যে ১৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন সাতজন। এর মধ্যে ৩ জন বেতন পান ১০ হাজার টাকা করে (৮ ঘণ্টায় ৬ হাজার + ওভারটাইম ৪ হাজার), ১ জন পান ১১ হাজার (৬ হাজার + ওভারটাইম ৫ হাজার), ১ জন পান ১১ হাজার ৯০০ (৭ হাজার ৩০০ + ওভারটাইম ৪ হাজার ৫০০), ১ জন পান ৭ হাজার ২০০ (৪ হাজার ২০০ + ৩ হাজার) এবং ১ জন পান ১০ হাজার ৩০০ টাকা (৫ হাজার ৮০০ + ওভারটাইম ৪ হাজার ৫০০)।

 

১২ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন ১০ জন। এদের ৪ জনের বেতন ৮ হাজার টাকা করে, ১ জন পান সাড়ে ৭ হাজার, ১ জন পান ৯ হাজার, ১ জন পান ১০ হাজার (৭ হাজার + ওভারটাইম ৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার)। এ ছাড়া ১২ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের একজনের বেতন সাড়ে ৯ হাজার এবং একজনের ১২ হাজার টাকা। ১২ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করে ১ জন সুপারভাইজার পান ১২ হাজার টাকা। এর মধ্যে ওভারটাইম ৪ হাজার টাকা।

 

দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার তিন ভাগের দুই ভাগ সময় কাজ করেও এই নিরাপত্তাকর্মীদের বেশিরভাগই পরিবার নিয়ে রাজধানীতে থাকতে পারেন না। নিজেরাই কোনোরকমে থাকেন বস্তিতে। যারা থাকছেন, তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদেরও আয় করতে হয়। যাদের পরিবার গ্রামের বাড়িতে থাকে, পরিবারের জন্য তাদের কেউ কেউ একেবারেই টাকা পাঠাতে পারেন না, কেউ পাঠালেও তা পরিমাণে খুবই অল্প। ফলে সংসারে অভাব, ধার-দেনা লেগেই থাকে।

 

এই অবস্থা প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা কাজ করা নিরাপত্তাকর্মীদের। আর যারা দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করেন, তাদের বেতন পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজারের মধ্যে। ফলে তাদের অবস্থা আরও খারাপ।

 

এই ১৭ জনের মোট কর্ম ঘণ্টা ও বেতন হিসাব করে দেখা যায়, তারা এক মাসে মোট ৬ হাজার ৯৬০ ঘণ্টা কাজ করেন। একেক জন মাসে গড়ে ৪০৯ ঘণ্টা কাজ এবং দিনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা করে কাজ করেন। তারা এক মাস কাজ করে পান মোট এক লাখ ৬২ হাজার চারশ’ টাকা। প্রতি ঘণ্টার জন্য গড়ে প্রত্যেকে পান প্রায় ২৩ টাকা এবং একদিনে ৩২২ টাকা। গড়ে প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা কাজ করে মাসে তারা পান প্রায় ৯ হাজার ৬৬০ টাকা।

 

এ বিষয়ে কথা হয় রাজধানীর অররা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. কবিরের সঙ্গে। এই প্রতিষ্ঠানে সাতজন নিরাপত্তাকর্মী কাজ করে থাকেন। তারা কেউই এখানকার নিয়োগপ্রাপ্ত নন। নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অরনেট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেডের কাছ থেকে তারা নিরাপত্তাকর্মী নেন। প্রতি ৮ ঘণ্টার জন্য তারা একজন নিরাপত্তাকর্মীকে ১০ হাজার টাকা দেন অরনেট সিকিউরিটি সার্ভিসেসকে।

 

কবির জানান, অরনেট দুই হাজার টাকা কেটে রেখে বাকি আট হাজার টাকা নিরাপত্তাকর্মীদের দেয়। এই প্রতিষ্ঠান ছাড়া খুব কম প্রতিষ্ঠান আছে যারা আট হাজার দেয়। অন্যরা চার হাজার, সর্বোচ্চ ছয় হাজার টাকা দেয়। তিনি বলেন, ‘সিকিউরিটি ব্যবসায়ী যারা তাদের ব্যবসা এই প্রহরীদের দিয়ে। নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়েই তারা নিজেরা ব্যবসা করে, অফিস ভাড়া দেয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেয়। সব মিলিয়ে দেখা যায়, সব চাপ নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর দিয়েই যায়।’

 

কবির বলেন, ‘মূল বেতনের সঙ্গে কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা নাই। সপ্তাহে এক দিন ছুটি, সরকারি ছুটি, ঈদের ছুটি, কোনো ছুটিই তাদের দেওয়া হয় না। ছুটিতে গেলে যেদিন ছুটি কাটাবে, সেদিনের বেতন তারা পাবে না।’

 

কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতি আট ঘণ্টার জন্য ১০ হাজার টাকারও বেশি নেয়। কিন্তু দেখা গেছে, অনেক নিরাপত্তাকর্মী ১৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেও পান সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা।

 

পরিবার তাদের সঙ্গে থাকেন কি না-এমন প্রশ্নে দুজন নিরাপত্তাকর্মী জানান, তারা সঙ্গে পরিবার থাকেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের কোথাও না কোথাও কাজ করতে হয়।

 

এদের একজন মশিউর রহমান জানান, বড় মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর ঋণ হয়ে যাওয়ায় সংসার আর কোনোভাবেই চলছিল না। তাই পরিবার নিয়ে চলে আসতে হয় ঢাকায়। প্রায় ৪ বছর ধরে নিরাপত্তার কাজ করা মশিউর রহমানের সংসার চালাতে তার স্ত্রীকে কাজ করতে হয় অন্যের বাসা-বাড়িতে। সেই সঙ্গে সপ্তাম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া মেয়েকে পড়াশোনা বাদ দিয়ে কাজ করতে হয় গার্মেন্টে।

 

তিনজন নিরাপত্তাকর্মী জানান, অল্প বেতনের কারণে পরিবার গ্রামে রেখে তারা বস্তিতে থাকেন। যাদের দুজন এক হাজার টাকা এবং একজন ১৫০০ টাকা বাসা বাড়া দিয়ে থাকেন। এদের মধ্যে গোপালগঞ্জের একজন, প্রায় ৬৫ বছর বয়সী সিদ্দিকুর রহমান। রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে থাকা সিদ্দিকুর ১০ হাজার ৩০০ টাকা বেতন পান। খাওয়া-দাওয়া, থাকা, হাতখরচ শেষে প্রতি মাসে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বাসায় পাঠান। কিন্তু সংসার চালিয়ে ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা করাতে গিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত ঋণ করতে হচ্ছে।

 

 

সিদ্দিকুর রহমান জানান, বড় ছেলে এসএসসি পাস করার পর লেখাপড়া বাদ দিয়ে ঢাকায় কাজ করছে। মেয়ে দশম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তিনি বলেন, ‘লেখাপড়া করাইতে কষ্ট হয় না মানে? ঋণ আছে, ঋণ, ঋণ।’

 

সাত বছরে ধরে কাজ করলেও এখনো এক টাকাও বেতন বাড়েনি সিদ্দিকুর রহমানের। তাহলে এই কাজ করেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বইসা থাকলে চলে না তো। এলাকায় কাজ নাই। এলাকায় কাজ থাকলে আইতাম নাকি? একদিন কাজ করলি পরে তিন-চার দিন বইসা থাকতি হইবে। এইহানে রেগুলার (নিয়মিত) কাজ চলে, এই।’

 

অরিয়ন সিকিউরিটি সার্ভিসেসের একজন সুপারভাইজার বাদল জানান, নিরাপত্তাকর্মীরা রাস্তার শব্দ, ধুলাবালু, ঠান্ডা, মশার কামড় খেয়ে রাত জেগে দায়িত্ব পালন করেন। তারপরও তারা যে অল্প টাকা বেতন পান, সেটাও ঠিকমতো দেওয়া হয় না। ১০ তারিখের বেতন ২০ তারিখে দেওয়া হয়। অন্যান্য পেশাজীবী, শ্রমিকদের অধিকারের কথা বলতে বিভিন্ন সংগঠন থাকে। কিন্তু সারা দেশে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাজ করলেও তাদের কোনো সংগঠন নেই। ফলে তারা বঞ্চনার কথা বলতে পারেন না।

 

প্রায় দুই হাজার নিরাপত্তাকর্মী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত রয়েছে কমান্ডো গার্ড লিমিটেডের। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আট ঘণ্টার জন্য মূল বেতন পাঁচ হাজার ৩০০ টাকার নিচে দেওয়া যাবে না। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে ছয় হাজার টাকার নিচে বেতন দেই না। এ ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মীরা কাজ করেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের মালিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা তাদেরকে বকশিস দিয়ে থাকেন।’

 

শরীফুল ইসলামের ভাষ্যমতে, যেসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীর প্রয়োজন হয়, তারাই বেশি টাকা দিতে চায় না। কারণ নামে-বেনামে অসংখ্য নিরাপত্তা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেশে গড়ে উঠেছে। ফলে যাদের নিরাপত্তাকর্মী প্রয়োজন তারা কম টাকায় নিরাপত্তাকর্মী পেয়ে যায়। তাই মালিক পক্ষের কাছে নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য বেশি টাকা চাওয়া যায় না। মালিকপক্ষ বেশি টাকা না দিলে নিরাপত্তাকর্মীদেরও বেশি বেতন দেওয়া যায় না।

 

নিরাপত্তাকর্মীদের নাজুক জীবনযাপনের কথা স্বীকার করে অররা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. কবির বলেন, ‘বর্তমান বাজারের নিরাপত্তাকর্মীদের যে বেতন, তাদের দিয়ে ঢাকা শহরের নিজের থাকা-খাওয়াটাই মুশকিল। পরিবার নিয়ে থাকা কোনো নিরাপত্তাকর্মীর পক্ষেই সম্ভব না।’

 

আপনারা তো জানেন, মালিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি বেতন দিলে নিরাপত্তাকর্মীরা বেশি টাকা পাবে। তারপরও কেন মালিক পক্ষ বেতন বাড়ায় না? এর জবাবে মো. কবির বলেন, ‘আমরা যদি এর চেয়ে আরো বেশি বেতন দিতে পারি, তাহলে তো আমরা নিজেরাই নিরাপত্তাকর্মী রাখতে পারি। আমরা নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিরাপত্তাকর্মী নিই এজন্য যে, ওদেরকে কম বেতন দেব এবং সেবাটাও ভালো পাব। সেই সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করলে আমার প্রতিষ্ঠান যে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে, সেই সব সুযোগ-সুবিধাই তাদেরকে দিতে হবে। কিন্তু আমরা দিতে রাজি না। যার যার জায়গা থেকে সবাই ব্যবসা নিয়েই চিন্তা করে।’

 

নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স দিয়ে থাকে সিটি করপোরেশন। কিন্তু সিটি করপোরেশন তৃতীয় শ্রেণির এইসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মীদের বেতন-ভাতা কেমন হবে, কিংবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে কোনো কিছুই উল্লেখ করে না।

 

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম  বলেন, ‘নিরাপত্তাকর্মীরা অমানবিক অবস্থায় চাকরি করছে। তাদের এই অমানবিক জীবনযাপনের ব্যাপারে আমরা উদ্বিগ্ন এবং এই বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। তাই শ্রম আইনে সংশোধনীতে নিরাপত্তাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারকে আমরা বলেছি। শ্রম আইনের আওয়াতায় এলে নিরাপত্তাকর্মীরা ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারবে এবং অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারবে। তখন হয়তো তাদের অবস্থার উন্নতি হবে।’

 

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘তারা এখনো সংগঠিত হয়ে তাদের অধিকার আদায়ের দাবি তুলে ধরতে পারেনি। আমাদের দেশে অসংখ্য লোক বেকার থাকায় তারা বেতন নিয়ে দর কষাকষি করতে পারে না। যারা নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহ করছে, সরবরাহের পর যে টাকা তারা পাচ্ছে, সেটার বড় অংশ ওই কোম্পানিগুলো নিয়ে যাচ্ছে। তাদের যে মানবিক অধিকার আছে, সেগুলো থেকে তারা বঞ্চিত। তাদের শ্রম ঘণ্টা মানা হয় না, তাদের ন্যূনতম বেতনও দেওয়া হয় না।’

 

নিরাপত্তাকর্মীদের বঞ্চনার ব্যাপারটি এখনো প্রতিষ্ঠিত নয় বলেও জানান এই মানবাধিকারকর্মী। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার্মীদের অধিকার নিয়ে মানবাধিকারকর্মীরাও খুব একটা কাজ করেননি। তাদের অধিকার নিয়ে ভয়েস (আওয়াজ) তোলা দরকার। যাতে তারাও তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে। নিরাপত্তাকর্মীদের অধিকার নিয়ে আমরা কথা বলব। সরকারের কানেও দিব, যাতে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের মানবাধিকার পায়।’প্রিয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত