শিরোনাম
◈ সেঞ্চু‌রি না পে‌য়ে হতাশ শান্ত ও মুশফিক, আফগা‌নিস্তা‌নের বিরু‌দ্ধে চালকের আসনে বাংলাদেশ ◈ বিএনপিতে অপকর্মে জড়ালে ছাড় নয়, চাঁদাবাজি-দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: এমপিদের কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর ◈ নাটোর রেলস্টেশন থেকে জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধার (ভিডিও) ◈ নানা পাটেকরের কীভাবে মৃত্যু হয়েছিল? ময়নাতদন্তে যা জানা গেল ◈ রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা, যাত্রী টার্মিনালে আগুন; ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত ◈ গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকা করতে জীবিত গরু ও হালাল মাংস আমদানির দাবি ◈ সরকারিভাবে এখন থেকে পালিত হবে ৯২টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস ◈ ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি যৌতুক নয়, হাইকোর্টে খালাস পেলেন দণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী ◈ কন্যাশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ মেগা প্রকল্প নয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি হোক পারস্পরিক মর্যাদা ও জনস্বার্থ: রিয়াজ হামিদুল্লাহ

প্রকাশিত : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৭, ০৯:২৫ সকাল
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৭, ০৯:২৫ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চালের বাজারে প্রধান নিয়ন্ত্রক মিলাররা

ডেস্ক রিপোর্ট : কৃষক, সরকার ও মিলার-তিনটি পর্যায়েই মূলত দীর্ঘমেয়াদে চাল মজুদ করা হয় দেশে। পাশাপাশি মৌসুমি ও পাইকারি ব্যবসায়ীরাও স্বল্প সময়ের জন্য খাদ্যশস্যটি মজুদ করে থাকেন। তবে অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে চাল মজুদে শীর্ষে রয়েছেন মিলাররা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক গবেষণা বলছে, প্রায় ৯৭ লাখ টন মজুদ সক্ষমতা নিয়ে মিল মালিকরাই এখন চালের বাজারে প্রধান নিয়ন্ত্রক।

দেশে কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত চালের কতটুকু তারা ভোগ করে, নিজস্ব প্রয়োজন মিটিয়ে কতটুকুই বা বিপণন করে ও মজুদের পরিমাণ কত-এসব জানতে প্রথমবারের মতো মাঠপর্যায়ে এ গবেষণা পরিচালনা করেছে বিবিএস। দেশের ৬৪টি জেলার ১২০ মৌজায় গবেষণাটি চালানো হয়েছে। প্রায় আট হাজার পরিবারের ২০১৬ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে এতে।

‘অ্যানালিটিক্যাল রিপোর্ট অন মেথডোলজিস অব দ্য ক্রপ এস্টিমেশন অ্যান্ড ফোরকাস্ট সার্ভে অ্যান্ড প্রাইভেট স্টক অব ফুড গ্রেইন সার্ভে ২০১৬-১৭’ শিরোনামে চলতি বছর ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিএস।

চালকলগুলোকে ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি থেকে বড়-এ তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে তাদের সক্ষমতাকে পরিমাপ করা হয়েছে গবেষণায়। এতে দেখা গেছে, ক্ষুদ্র চালকলগুলোর মজুদক্ষমতা ২৮ লাখ ৫৭ হাজার ১৭০ টন, ছোট চালকলগুলোর ৩৭ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫১ ও মাঝারি থেকে বড় চালকলগুলোর ধারণক্ষমতা ৩০ লাখ ৭০ হাজার ৬৬৫ টন। এ তিনটি ক্যাটাগরির চালকলে সব মিলিয়ে ৯৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৬ টন চাল মজুদ করা সম্ভব। এ সক্ষমতার বিপরীতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৪ লাখ ১৫ হাজার টন চাল মজুদ করে চালকলগুলো।

অন্যদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন খাদ্যগুদামে প্রায় ২২ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ রাখা সম্ভব। এসব গুদামে চালের পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্যশস্য ও বীজ রাখা হয়। আর কৃষক পর্যায়ে মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ মজুদ রাখা হয়; গত অর্থবছরের উৎপাদন হিসাবে নিলে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪২ লাখ টন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মজুদ সক্ষমতা যত বাড়বে, চালের বাজারের নিয়ন্ত্রণ ততই মিলারদের হাতে আরো কুক্ষিগত হবে। তাই চালের বাজারে ভারসাম্য আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, এরই মধ্যে চালের বাজারের পুরো নিয়ন্ত্রণ মিলাররা নিয়ে নিয়েছেন। এক দশক ধরেই দেশের অটো রাইস মিলগুলোর উৎপাদন ও মজুদক্ষমতা অনেক বেড়েছে। মিলারদের মজুদ সক্ষমতা যত বেড়েছে, ততই চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে।

তিনি বলেন, ধান উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো অংশগ্রহণ না থাকলেও চাল উৎপাদন ঠিক রাখতে প্রচুর ধান মজুদ করছে অটো রাইস মিলগুলো। এছাড়া ধান থেকে চাল করার পর অতিরিক্ত মুনাফার আশায় তাও মজুদ রাখছে তারা। ফলে বাজারে দাম ওঠানামা করানোর ক্ষেত্রে এক ধরনের সুযোগ নিচ্ছেন মিল মালিকরা। এ অবস্থায় চালের বাজারে ভারসাম্য আনার জন্য পরিকল্পনা নিতে হবে।

চালকলে ধান ও চালের মজুদ কী পরিমাণ ও কতদিন রাখা যাবে, সে বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, চালকলে ১৫ দিনের উৎপাদন সক্ষমতার পাঁচ গুণ ধান ও দ্বিগুণ চাল মজুদ রাখা যাবে। এর চেয়ে বেশি মজুদ রাখলে তা হবে বেআইনি। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা না মেনে চাল মজুদ করেন মিলাররা। এর মধ্য দিয়ে তারা চালের বাজারে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি সহিদুর রহমান পাটোয়ারী (মোহন) বলেন, চালের বাজারে আমরা মোটেও নিয়ন্ত্রক নই। আমরা সরকারের ও কৃষকের সহায়ক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা নিজেরা শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গেই কাজ করছি। আমাদের কোনো মিলে আইনবহির্ভূতভাবে এক চুল পরিমাণ বাড়তি মজুদ পাওয়া যায়নি কিংবা যাবেও না।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চুক্তিযোগ্য চালকলের সংখ্যা ২২ হাজার ৬৫৪। বিবিএসের গবেষণায় এসব চালকলকে তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। তিন ধরনের চালকলের মাধ্যমে প্রতি বছর ২ কোটি ৭৯ লাখ ২৬ হাজার টন চাল উৎপাদন করা হচ্ছে। এ পরিমাণ চাল উৎপাদনে প্রায় ৪ কোটি ৪৬ লাখ টন ধান ভাঙানো হচ্ছে। অর্থাত্ দেশের সিংহভাগ ধান এখন চালকলগুলোতেই ভাঙানো হচ্ছে। ফলে চাল মজুদের বড় অংশই থাকছে এসব চালকলে।

সূত্র : বণিক বার্তা

  • সর্বশেষ