শিরোনাম
◈ লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসীদের সমস্যা ও প্রত্যাশা শুনলেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ◈ জিয়া থেকে তারেক: বিএনপির ৪৮ বছরের নেতৃত্বের ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ◈ সাগর-রুনি হত্যা: রোকেয়া প্রাচীর বাসা থেকে দু’টি ডিস্ক আনা হয়েছিল জিয়াউল আহসানের নির্দেশে ◈ ৪৮ বছরে বিএনপি, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি ◈ ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের’ সদরদপ্তর রিয়াদে, প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানি ◈ বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল বিমানবাহিনীর ৩ সদস্যের ◈ আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির ২১ বছরের যত রেকর্ড! ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন বাড়বে ৫৫ থেকে ১০০% পর্যন্ত ◈ নির্বাচনের ৭ বছর পর রাশেদ খানকে ডাকসুর জিএস ঘোষণা ◈ ডিপিডিসির জরুরি বার্তা প্রিপেইড মিটার ও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে

প্রকাশিত : ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৭, ০৩:২৯ রাত
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৭, ০৩:২৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফলের রানি ম্যাংগোস্টিন বাংলাদেশে

মতিনুজ্জামান মিটু : ফলের রানি হিসেবে সমাদৃত ম্যাংগোস্টিন চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশে। তাই দেশের মাটিতে অন্যান্য বিদেশী ফলের পাশাপাশি ম্যাংগোস্টিন চাষের ওপরও গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন কৃষিবিদরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আমদানী কমাতে এবং অমৌসুমে ফলের যোগান বাড়াতে দেশের মাটিতেই বিদেশী ফল চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ড্রাগন, রাম্বুটান, পারর্সিমন, থাই-কুল, থাই পেয়ারা ও মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের পাহাড়ী এলাকায় চাষাবাদের পরিবেশ থাকায় ম্যাংগোস্টিন চাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে এখানে।

ম্যাংগোস্টিন গুটিফেরি পরিবারের উষ্ণ মন্ডলীয় ফল। এটি অত্যন্ত সুস্বাধু। যা ইউরোপিয়ান মার্কেট ও পশ্চিম বিশ্বে খুবই সমাদৃত। সুন্দা দ্বীপপুঞ্জ এবং মালাক্কাস এর আদিনিবাস। বর্তমানে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলংকায় এ ফল বানিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।

ম্যাংগোস্টিন খুবই ধীরে বর্ধনশীল গাছ। গাছগুলো ৩০-৪০ফুট লম্বা হয়। তবে ৮২ফুট লম্বা গাছও দেখা যায়। পাকা ফল খাওয়া যায়। এছাড়া সিরাপ, ক্যান্ডি, জ্যাম, হিমায়িত ইত্যাদিভাবে প্রক্রিয়াজাত করেও খাওয়া যায়। এ ফলকে কখনো কখনো ফলের রানিও বলা হয়। কেননা এতে জ্যানথোনস বিদ্যমান। যা মুটিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। এর এলার্জি বিরোধি ক্ষমতা আছে। শরীরের তাপমাত্রা কমাতে ফিলিপিনোরা এর পাতা ও ছাল ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া ডায়রিয়া, আমাশয় এবং মুত্রনালির সমস্যা সমাধানে উপকারি ভূমিকা পালন করে। এর ছালে রয়েছে ৭-১৫ % ট্যানিন যা চামড়া এবং সুতা রং করতে, সাবান, শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনারে ব্যবহৃত হয়।

বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে বছরে প্রায় ৫.৫ লাখ মেট্রিক টন বিদেশী ফল আমদানী করতে হয়। বছরব্যাপী ফল সরবরাহের মাধ্যমে জনসাধারণের টেকসই পুষ্টি নিরাপত্তায় আমদানী নির্ভরতা কমাতে দেশের মাটিতে বিদেশী ফলের আবাদ করার কোনো বিকল্প নেই। দেশের পার্বত্য এলাকা, দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে ফল চাষের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকার পতিত জমিতে বিদেশী ফল চাষের উপযোগীতা বিদ্যমান। ২০২১ সালে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত করতে এবং মেধাভিত্তিক জাতি গঠনে আমদানী না করে দেশের মাটিতেই বিদেশী ফলের আবাদ বাড়াতে হবে। দেশের মাটিতে ম্যাংগোস্টিন, ড্রাগন, রাম্বুটান, পারর্সিমন, থাই পেয়ারা, জাবাটিকাবা, এ্যাভোকাডো ইত্যাদি বিদেশী ফল চাষের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরী। বিশেষ করে অমৌসুমে ফলের যোগান বাড়াতে অর্থকরি ও উচ্চমূল্যের ম্যাংগোস্টিন ফল চাষের দিকে নজর দিতে হবে।

  • সর্বশেষ