প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোলায় আমনের বাম্পার ফলনে উৎসবের হাওয়া

অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা : ভোলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর মাঠ জুড়ে সোনালী ধানের সমারোহ।

কিছু কিছু এলাকায় ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু হলেও অধিকাংশ ধান এখন ও মাঠে রয়েছে। কয়েক দিন বাদেই মাঠে মাঠে ধান কাটা শুরু করবে কৃষকরা। তাই কৃষকের ঘরে ঘরে নবান্নর উৎসবের হাওয়া বইছে। নতুন ধান ঘরে আসার সাথে সাথে পিঠা পায়েসে মেতে উঠবেন তারা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ভোলায় এক লক্ষ ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষমাত্রা থাকলেও আবাদ হয় এক লক্ষ ৭৯ হাজার হেক্টর জমিতে।

এর মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ২৫ হাজার ৫৫০ হেক্টও জমিতে, দৌলতখান উপজেলায় ১৬ হাজার ৫৪০ হেক্টর, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ১৮ হাজার ৫০০ হেক্টর, তজুমদ্দিন উপজেলায় ১১ হাজার ৮০০ হেক্টর, লালমোহন উপজেলায় ২৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর, চরফ্যাশন উপজেলায় ৭০ হাজার ৫৬০ হেক্টর এবং মনপুরায় ১২ হাজার ৩০০ হেক্টর ও জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা ছাড়িয়ে যাবেন বলে ধারণা করছেন কৃষি অফিস।

এছাড়া এ বছর ধানের দাম মণ প্রতি গড়ে ৬শত ৫০টাকা থেকে ৭শত টাকা। যা কৃষকের খরচ পুষিয়ে প্রতি ৮ শতাংশে ১ হাজার টাকা লাভ থাকবে বলে মনে করছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর।

জেলার মনপুরা উপজেলার চরযতিন গ্রামের আলাউদ্দিন এবং চরফ্যাশন উপজেলার নীল কমল ইউনিয়নের মহিমা বেগম এর সাথে আলাপ করে জানা যায়, প্রতি ৮ শতাংশ জমিতে চাষ করতে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৭শত টাকা। প্রতি ৮ শতাংশ জমিতে ধান উৎপাদন হবে গড়ে ৪ মন।

প্রতিমণ ধান গড়ে ৬৮০ টাকা ধরে বিক্রয় করলে মোট টাকা হবে ২ হাজার ৭শত বিশ টাকা। খরচ বাদে প্রতি ৮ শতাংশে লাভ হবে ১হাজার ২০ টাকা।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, এবার ভোলায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় মাঠে মাঠে সোনালী ধানের সমারোহ। কিছু কিছু এলাকায় ইতিমধ্যে ধানকাটা শুরু হয়েছে। তবে এখনও অধিকাংশ ফসল মাঠে রয়েছে।

এবছর লক্ষ মাত্রার চেয়ে দুই হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসূমে আমন উৎপাদনের লক্ষমাত্রা রয়েছে ৪ লক্ষ ২০ হাজার মেট্রিকটন। তবে উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা এবছর ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ