প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বরগুনায় আমনধানের পাতা ঝলসানো রোগের আক্রমণে দিশাহারা কৃষক

বীরেন্দ্র কিশোর, বরগুনা : আমন ফসলে পাতা ঝলসানো রোগের আক্রমনে বরগুনার তালতলীর অধিকাংশ এলাকার কৃষকরা দিশাহারা। বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও ফসলের রোগ দমনে তারা ব্যর্থ।

ফসলে পাতা ঝলসানো রোগের আক্রমণ ক্রমেই তালতলীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও কৃষি বিভাগ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের। এদিকে নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের দাবী।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তালতলী উপজেলায় এ বছর ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ফসলের আবাদ করা হয়েছে। আমন আবাদের শুরুতে বৈরী আবহাওয়া থাকলেও কৃষকরা ভালো ফসলের আশায় আমনের ক্ষেত প্রস্তুত করে বীজ রোপন করেছেন।

এ বছর আমনের বাম্পার ফলনের আশা করেছেন তারা। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে আমন ক্ষেতে পাতা ঝলসানো রোগ ও পোকার আক্রমন শুরু হয়েছে। এতে কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছে। তারা এই পাতা ঝলসানো রোগের আক্রমন থেকে ফসল রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক ওষুধ ব্যবহার করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কচুপাত্রা, নলবুনিয়া, শারিকখালী, কড়ইবাড়িয়া, শানুরবাজার, হরিনখোলা, তারিকাটা, ছাতনপাড়া, লাউপাড়া, কবিরাজপাড়া, তালুকদারপাড়া, গাবতলী, বগী, বেহালা, গেন্ডামারা, হেলেঞ্চাবাড়িয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমন খেতে পাতা ঝলসানো রোগ দেখা দিয়েছে।

এতে আমনের ধান গাছের পাতা লালচে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কঠোর শ্রমের ফসল চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দেখে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন তালতলী উপজেলার অধিকাংশ এলাকার কৃষকরা।

দক্ষিন গেন্ডামারা গ্রামের আবুল হোসেন জানান, পাতা ঝলসানো রোগে আমন ধানের চারা লালচে আকার ধারন করেছে ও আমন ধানের খেত দিনে দিনে সাদা হয়ে যাচ্ছে। এ রোগে ফসল রক্ষার জন্য তারা বালাইনাশক ব্যবহার করছেন। কৃষি বিভাগের তরফ থেকে কোনো প্রকার পরামর্শ বা সহায়তা পাচ্ছেনা বলে একাধিক কৃষকের অভিযোগ।

তালতলী উপজেলা কৃষি অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এসএম বদরুল আলম জানান, ঝড়ের কারণে আমন ধান গাছের পাতা ঝলসানো রোগ দেখা দিয়েছে।

আমাদের পক্ষ থেকে আমন ক্ষেতকে রক্ষার জন্য ১০ লিটার পানির মধ্যে ৬০ গ্রাম এমওপি ও ৬০ গ্রাম থিওভিট মিশ্রণ করে ৫ শতাংশ জমির আমন খেতে ছিটিয়ে দিতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বরগুনা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইনুর আজম খাঁন বলেন, পাতা ঝলসানো রোগে ফসল রক্ষায় তিন-চার বার বালাইনাশক ওষুধ ছিটিয়ে দিতে হবে।

এছাড়া কৃষি বিভাগ থেকে ইতিমধ্যেই জেলার সকল উপজেলায় কৃষকদের এই রোগের প্রতিকার স¤পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ