প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশে ডায়বেটিসের রোগীর সংখ্যা ৭১ লাখ, অর্ধেকই নারী

হ্যাপী আক্তার: গ্রামীণ নারীদের সামনে বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সচেতনতার অভাব। এই বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিয়েই বাংলাদেশে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। এই বছর প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে ডায়বেটিস ও নারী বিষয়টিকে। বাংলাদেশে ডায়বেটিসের প্রকৃত সংখ্যা না বলা গেলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন রোগীর সংখ্যা ৭১ লাখ যার অর্ধেকই হচ্ছে নারী। বিশ্ব ডায়বেটিস দিনটিকে জাতিসংঘে স্বীকৃতির পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের অবদান। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

বাংলাদেশ ডায়বেটিস সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বিবিসি বাংলায় ডায়বেটিস সম্পর্কে সাক্ষাৎকারের সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডায়বেটিস সমিতির হয়ে আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করা হয় একটি ডায়বেটিস দিবস করার জন্য। তিনি বলেন, বিশ্বে যেভাবে ডায়বেটিস বেড়ে যাচ্ছে তা নিয়ে একটি দিবস করা হলে মানুষের মাধ্যে একটা সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে তার জন্য উদ্যোগ নেয়া হোক। আজাদ খানের কথায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী রাজি হলেন এবং জাতিসংঘের তখনকার সময়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন এখতিয়র তাকে নির্দেশ দেয়া হয় সেখানে ডায়বেটিস দিবস সম্পর্কে উপস্থাপন করার জন্য। এবং তিনি জাতিসংঘে ডায়বেটিস দিবস সম্পর্কে উপস্থাপন করেন।

ডায়বেটিসে আক্রান্ত বাংলাদেশে যে ৩৫ লাখ নারী আছেন তাদের জন্য আজকের যে ডায়বেটিস দিবস সে বিষয়ে তার গুরুত্বটা ঠিক কোথায়?

এমন প্রশ্নের জবাবে আজাদ খান বলেন, ডায়বেটিস নারীদের একটা বিশেষ দিক। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, নারীরা যখন গর্ভবতী হয় তখন তাদের ডায়বেটিস হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেক। গর্ভবতী অবস্থায় প্রথম যদি ডায়বেটিস প্রকাশ পায় তখন তাকে গর্ভকালীন ডায়বেটিস বলা হয়। গর্ভকালীন সময়ে ডায়বেটিস হবার কারণে ভবিষ্যতে ডায়বেটিস হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আর ওই শিশুটিরও ভবিষ্যতে ডায়বেটিস হবার সম্ভাবন বেড়ে যায়।

তবে তিনি বলেন, গর্ভকালীন সময়ে যদি নিয়ন্ত্রণ করা হয় তাহলে হয়তো ডায়বেটিস কিছুটা কম হবে। আর নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ডায়বেটিকস অনেক অনেক গুণ বেড়ে যাবে। তার সাথে গর্ভকালীন সময়ে যে শিশুটি জন্ম নেয় তারও ভবিষ্যতে ডায়বেটিস বেড়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, গর্ভকালীন সময়ে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বিকলাঙ্গ শিশু এবং গর্ভপাত হবার সম্ভাবনা থাকে। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং নারীদের সবাইকে সচেতন করাই হচ্ছে আজকে যে ডায়বেটিস দিবস পালনের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশে ডায়বেটিসে আক্রান্ত যে সমস্ত নারী রোগীরা আছেন তাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি?

এমন প্রশ্নের জবাবে আজাদ খান বলেন, ডায়বেটিসে আক্রান্ত যারা তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ডায়বেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। ডায়বেটিস সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা। তিনি আরো বলেন, সময় মেনে ডায়েট করলে ডায়বেটিস সম্পূর্ণ রুপে প্রতিরোধ যোগ্য। আর ডায়বেটিস যদি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তাহলে সুস্থ ও সাভাবিক জীবন যাপন করা যায়। তবে ডায়বেটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে আজীবন। আর তার জন্য রোগীকে প্রশিক্ষিত হতে হবে যাতে করে ডায়বেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা শিখে নেয়।

ডায়বেটিসের চিকিৎসা অনেকটা ব্যয়বহুল কারণ হচ্ছে রোগীকে সারা জীবন ধরে ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। এই বিষযে আজম খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডায়বেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে সারা জীবন এবং ওষুধ ব্যবহার করতে হলে সবসময় য়াক কারণে চিকিৎসাটিও তাই ব্যয়বহুল।

বাংলাদেশে ডায়বেটিস রোগীদের মধ্যে এই ব্যয়হুল চিকিৎসা বহনের ক্ষমতা কতটা আছে?
জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু ধনী দেশ নয় সে ডায়বেটিস চিকিৎসা অত্যান্ত বুঝা সবার কাছে। বাংলাদেশে ইউনিভার্সাল হেলথ ক্যাম্প নাই। তিনি বলেন, আমরা ডায়বেটিস সমিতির মাধ্যমে গরিবদের জন্য ফ্রি চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে যত লোককে ফ্রি চিকিৎসা দেবার লক্ষ্য যতখানি তত লোককে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ