শিরোনাম
◈ মার্কিন নির্বাচনে রেকর্ড ৩৬ মুসলিম প্রার্থীর জয় ◈ যুদ্ধবিরতি চাইলে সৌদিকে গুনতে হবে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা! ◈ শ্রমিক বিক্ষোভ না থামলে কারখানা বন্ধের চিন্তা পোশাকমালিকদের ◈ মধ্যরাতে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে উত্তেজনা, অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধের ঘোষণা ◈ বাদামতলী থেকে হাতিরপুলে পৌঁছাতেই মাল্টার দাম প্রায় দ্বিগুণ! ◈ সৌদি আরবের মদিনা অভিমুখে হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের ◈ সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট চালুর দাবি, হাজার কোটি টাকার কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা উত্তরবঙ্গে ◈ পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটির ভেতরে মিলল ধারালো ব্লেড, তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত ◈ ২০৩০ সালের মধ্যে আঞ্চলিক শিপিং হাব হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর, চলছে, ডিসেম্বরের মধ্যে হচ্ছে ‘স্মার্ট বন্দর’ ◈ পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হতে হবে শিশুদের: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৩ সকাল
আপডেট : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৫২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শীত এলেই সাপেরা কোথায় উধাও হয়ে যায়?

সাপের নাম শুনলেই অনেকে ভয় পেয়ে যান। গ্রীষ্মকাল হোক বা বর্ষা, প্রায়শই মাঠে, বাগানে এবং বাড়ির আশেপাশে সাপ দেখা যায়। কখনও তো আবার সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসে দোতলায় অথবা রাতের অন্ধকারের মশারির ভিতরে ঢুকে ঘুমন্ত মানুষকে কামড় বসায় সাপ! অথচ শীত আসতেই সাপেরা যেন হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায়।

আচ্ছা, বলুন তো, শীত আসলেই সাপেরা আসলে কোথায় যায়? এর পিছনের বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক কারণগুলো জানলে আপনি অবাক হবেন। চলুন আজ এই প্রতিবেদনে জেনে নেওয়া যাক সেই অবাক করা উত্তরটি!

সাপ শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। এর অর্থ হল, সাপের নিজেদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এই প্রাণীটি সম্পূর্ণরূপে বাইরের পরিবেশ থেকে প্রাপ্ত উষ্ণতার উপরই নির্ভরশীল। তাই গ্রীষ্মকালে সূর্যের আলো তাদের শরীরকে উষ্ণ রাখে, যা তাদের সক্রিয় রাখে।

কিন্তু যখন শীতকাল আসে এবং তাপমাত্রা কমে যায়, তখন সাপেদের শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। এতে তাদের চলাচল ও হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং তারা প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

Advertisement

বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শীতকাল এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সাপেরা শীতনিদ্রা নামক এক অবস্থায় প্রবেশ করে। এটি এক প্রকার শীতকালীন ঘুম। শীতনিদ্রা হল এমন একটি পর্যায় যেখানে প্রাণীরা তাদের শক্তি সঞ্চয়ের জন্য প্রায় সব ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করে দেয়।

ব্যাঙ, টিকটিকি, ভালুক এবং সাপ-সহ অনেক প্রাণীই এই অবস্থায় প্রবেশ করে যখন তাদের পক্ষে খাবার খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা মরশুমে সাপের হৃৎস্পন্দন খুব ধীর হয়ে যায়, তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর হয়ে যায় এবং তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এটি তাদের জন্য একটি প্রাকৃতিক আত্মরক্ষার কৌশল। আবহাওয়া আবার উষ্ণ হলেই কেবল তারা তাদের লুকানোর জায়গা থেকে বেরিয়ে আসে।

অর্থাৎ শীতকাল এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সাপেরা লুকানোর জন্য একটি নিরাপদ ও উষ্ণ জায়গা খুঁজতে শুরু করে। তারা মাটির নীচের গর্তে, বড় পাথরের ফাটলে, গাছের শিকড়ের কাছে বা পুরোনো দালানের দেয়ালের ভেতরে লুকিয়ে থাকে।

কখনও কখনও, কয়েকটি সাপ একই জায়গায় তাপমাত্রা ভাগাভাগি করে উষ্ণ থাকার জন্য আশ্রয় নেয়। সাপেদের সাধারণ বিচরণ ক্ষেত্র, পুরোনো বাঁধের নীচে বা মাঠের কাছাকাছি পাথরের নীচে এসময় আর সাপ দেখতে পাওয়া যায় না, কারণ তারা সেখানে মাটির গভীরে বা গর্তের মধ্যে লুকিয়েই গোটা শীতকাল কাটায়।

সাপের শরীরে লোম বা তাপ উৎপাদনকারী অঙ্গ নেই। তাই তাপমাত্রা কমলে তাদের শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। বাইরে ঠান্ডায় থাকলে তাদের দেহের কোষগুলো জমে গিয়ে তারা মারা যাবে। একারণেই তারা মাটির নীচে বা গর্তের মতো একটি স্থির তাপমাত্রার জায়গা বেছে নেয়। সেই জায়গায় তাপমাত্রা বাইরের চেয়ে সামান্য বেশি থাকে, যা তাদের বেঁচে থাকার জন্য উপযুক্ত।

  • সর্বশেষ