পৃথিবীতে অনেক বিরল প্রজাতির গাছপালা পাওয়া যায়। এর মধ্যে কিছু কাঠ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সাধারণত, চন্দন কাঠকে সবচেয়ে দামি কাঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার দাম প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। কিন্তু এমন একটি কাঠ আছে যা চন্দনের চেয়েও বহুগুণ বেশি দামি। এই কাঠ এতটাই দামি যে ধনী ব্যক্তিরাও এটি কেনার আগে দুবার ভাবেন। এই গাছটির নাম আগরউড।
আগারউড, যা ওউড নামেও পরিচিত, বিশ্বের সবচেয়ে দামি কাঠগুলির মধ্যে একটি। আগরউড হল একটি বিশেষ ধরনের সুগন্ধি কাঠ যা অ্যাকুইলারিয়া গাছের প্রজাতি থেকে পাওয়া যায়। এটি ঐতিহ্যবাহী ঔষধ, সুগন্ধি দ্রব্য এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই গাছ সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, আরব, জাপান ও ভারতের কিছু জঙ্গলে পাওয়া যায়। বিশেষ করে, ভারতের আসামে এই গাছ পাওয়া যায়। আসামকে ‘ভারতের আগরউড রাজধানী বলা হয়। আগরউড সাধারণত তুলনামূলক কম দামেও পাওয়া যায়। তবে তার মধ্যেও বিশেষ কিছু প্রজাতি রয়েছে, যা অত্যন্ত মূল্যবান। এই কাঠের নাম ‘কিনাম’ যা আগরউড গাছের এক বিরল প্রজাতি।
আরব দেশগুলিতে আগরউড পোড়ানো হয় অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য। সুগন্ধি শিল্পে এই কাঠের রজন থেকে উচ্চমানের পারফিউম তৈরি করা হয়। কোরিয়ায় এই কাঠ থেকে ওষধি ওয়াইন তৈরি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে পোশাক ও সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
বিশ্বে প্রচুর আগরউড পাওয়া গেলেও ‘কিনাম’ সবচেয়ে বিরল। এটি এতটাই দুর্লভ যে, টাইটানিয়াম, ইউরেনিয়াম এবং প্লাটিনামের চেয়েও কম পাওয়া যায়! এটি আগরউড পরিবারের সবচেয়ে উন্নতমানের সুগন্ধি কাঠ হিসেবে পরিচিত। আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কিনাম কাঠের প্রতি গ্রামের দাম ১০ হাজার ডলার। টাকার হিসেবে ১২ কোটি টাকার উপরে। অন্যদিকে ১ গ্রাম স্বর্ণের দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। কয়েক বছর আগে, চীনের সাংহাইতে ২ কেজি কিনাম কাঠ প্রায় ২১ কোটি টাকাতে বিক্রি হয়। সূত্র : ডিএনএ