স্পোর্টস ডেস্ক : পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে রাজি ছিলেন না হরমনপ্রীত কৌরেরা। ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্তে সম্মতি ছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডেরও (বিসিসিআই)। ছেলেদের এশিয়া কাপের মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে দু’টি বিকল্প প্রস্তাব নকভিকে দিয়েছিল বিসিসিআই। কিন্তু এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) চেয়ারম্যান নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এই ঘটনায় এসিসিকে একহাত নিয়েছে বিসিসিআই।
ভারতীয় বোর্ডের অভিযোগ, এশিয়া কাপে পুরস্কার বিতরণের প্রথা মানা হচ্ছে না। এসিসি প্রথা ভাঙাতেই সমস্য তৈরি হচ্ছে। নকভির নেতৃত্বাধীন এসিসি আগের প্রথা অনুসরণ করলে এই ধরনের পরিস্থিতি বার বার তৈরি হত না। বিসিসিআইয়ের দাবি, এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন দলকে এসিসি চেয়ারম্যানই ট্রফি দেবেন, এমন কোনও প্রথা ছিল না। উদাহরণ হিসাবে ২০২২ এবং ২০২৪ সালের কথা বলা হয়েছে। --- আনন্দবাজার
শ্রীলঙ্কার পুরুষ এবং মহিলা দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ওই দু’বছরে। দু’বারই চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের তৎকালীন চেয়ারম্যান শাম্মি সিলভা। বিসিসিআইয়ের দাবি, অযথা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।
ভারতীয় বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘এসিসির উচিত ছিল আগের প্রথা বজায় রাখা। আমরা এসিসির সব পদাধিকারীকে আগেই অনুরোধ করেছিলাম। যখন বাংলাদেশ এশিয়া কাপ জিতেছিল, যখন শ্রীলঙ্কা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তখন এসিসি চেয়ারম্যান ছিলেন জয় শাহ। তিনি এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) প্রধান। তিনি কিন্তু কোনও বারই চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি দেননি। দু’বারই ট্রফি দিয়েছিলেন চ্যাম্পিয়ন দলের বোর্ড প্রধান।
শইকীয়া আরও বলেছেন, ভারত জেতার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। আগে ভারত যত বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, প্রতি বারই ট্রফি দিয়েছেন বিসিসিআই সভাপতি বা সচিব। এই প্রথা হঠাৎ পরিবর্তন করা হয়েছে ২০২৪-২৫ মরসুমে। গত বার যখন ছেলেরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখন বিতর্কে ঢুকতে চাইনি। আমাদের বক্তব্য একটাই। পুরনো প্রথা বজায় রাখা হোক।
অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে রবিবারের ফাইনালের আগেই উদ্যোগ নিয়েছিল বিসিসিআই। এসিসিকে দু’টি প্রস্তাব দেওয়া হয়। তা নিয়ে শইকীয়া বলেছেন, ‘‘আমরা ফাইনালের আগেও অনুরোধ করেছিলাম। এতে লুকোনোর কিছু নেই। আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আমাদের পক্ষে অবস্থান বদল করা সম্ভব নয়। গত দেড় বছর ধরে আমাদের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। এই অবস্থানের জন্য এখনও আমরা ছেলেদের ট্রফি পাইনি। তার পর অবস্থান পরিবর্তন করার প্রশ্নই ওঠে না।
ভারতীয় বোর্ডের বিকল্প প্রস্তাবের কথাও জানিয়েছেন বিসিসিআই সচিব। তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের অনুরোধ ছিল, চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি দিন এসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান। তাতে সব বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়া যেত। সকলেই তো জানতেন, কী হতে পারে।’’ শইকীয়ার বক্তব্য, বিতর্ক তৈরি করা বিসিসিআইয়ের লক্ষ্য নয়। তবে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরে ক্রিকেটকে রাখা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, নকভি পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রীও।