পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের বাইরে অন্য কোনো দেশে যাতে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে আশ্বস্ত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আলোচিত এ পুলিশ কর্মকর্তা দুবাই ছেড়ে সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছেন বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে যে খবর এসেছে সেটির বিপরীতে পশ্চিম এশিয়ার দেশটির তরফে এমন আশ্বাস মেলার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
তবে বাংলাদেশে সাব্কে এই পুলিশপ্রধানের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর কোনো একটিতে রায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের খুব বেশি আগ্রহ না থাকার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।
আরব আমিরাত সরকারের বরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, তৃতীয় কোনো দেশে বেনজীরের চলে যাওয়ার খবরটি বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে যাচাই করা হয়। কিন্তু তারা বেনজীরের দেশ ছাড়ার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এসব নিয়ে কর্থাবার্তার মধ্যেই বেনজীরের দুবাইয়ে অবস্থানের খবর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মাস কয়েক আগে গ্রেপ্তার হয়ে দেশটির কারাগারে যাওয়া বেনজীর জামিনে মুক্তির পর যাতে দুবাই থেকে অন্য কোনো দেশে যেতে না পারেন সেজন্য বাংলাদেশ সরকারকে আশ্বস্ত করেছে আরব আমিরাত।
তবে দিন কয়েক আগে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বেনজীর অন্য কোনো দেশে আছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হলে সেই দেশের আইন, পারস্পরিক সহযোগিতার নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় তাকে গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে বেনজীরের বিষয়ে দুবাইয়ে আইনজীবি প্যানেল নিয়োগ দেওয়ার তথ্য দিয়ে অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন বলেন, “আমরা তার বিষয়ে খেয়াল রাখছি।”
গত ৩০ জুলাই আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে হামদান আল কাবি অ্যাডভোকেটস অ্যান্ড লিগ্যাল কনসালট্যান্টসকে দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ।
পুলিশের সাবেক এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে নিয়ে সদ্য শেষ হওয়া সংসদ অধিবেশনেও আলোচনা হয়। তিনি কীভাবে দুবাইয়ে জামিন পেলেন এবং তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তা দ্রুত জানাতে বলেছে জাতীয় সংসদ।
গত ৮ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে বেনজীরকে নিয়ে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট আলোচনার শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ প্রস্তাব ভোটে দেন। কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।
এর আগে গ্রেপ্তারের চার দিনের মাথায় বেনজীরকে প্রত্যর্পণের জন্য আরব আমিরাতকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠায় বাংলাদেশ।
তখন এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তাই দেশটির অভ্যন্তরীণ আইন ও পারস্পরিক সহযোগিতার নীতিতে প্রক্রিয়াটি চলছে।
অপরদিকে বাংলাদেশের অনুরোধে দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থাকা বেনজীরকে ধরতে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল রেড নোটিস জারি করে।
এ বছর ১২ জুন বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায় আরব আমিরাত। এর প্রায় দেড় মাস পর ৩০ জুলাই তিনি সেখানে জামিনে মুক্তি পান। ২ অগাস্ট দেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়।
দেশটি তার জামিনের বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রেখেছে বলে দাবি করেন অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন।
পুলিশের সাবেক এই প্রধানকে দেশে ফিরিয়ে আনা, সেখানে আইনগত বিষয়গুলো কীভাবে দেখভাল করা হচ্ছে তা নিয়ে কথা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে।
তাদের কেউ কেউ বেনজীরকে এ মুহূর্তে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের জোরালো আগ্রহ না থাকার কারণ তুলে ধরেন। যে কারণে তার জামিন বাতিলের বিষয়েও সে ধরনের কোনো উদ্যোগ না থাকার কথা বলেন তিনি।
তাদের ভাষ্য, আইনগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে ধীরে চলতে চায় সরকার।
এক কর্মকর্তা বলেন, পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের অনেক সদস্য এখনও তার অনুসারী হওয়ায় শিগগির তাকে দেশে আনার ঝুঁকি নিতে চায় না সরকার। তবে কোনো মামলায় তার ‘বড়’ সাজা হলে তখন ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে জোরালো উদ্যোগ নেওয়ার ভাবনার কথা বলেছেন ওই কর্মকর্তা।