শিরোনাম
◈ মদিনায় ইউরেনিয়ামের বিশাল ভাণ্ডার, জোরালো হচ্ছে সৌদির পারমাণবিক পরিকল্পনা ◈ ‘ওয়ান কার্ড’ হতে পারে প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবার একক সমাধান ◈ নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ২১০ দিন পর প্রথম সচিব সভা, থাকছে যেসব বিষয় ◈ প্রেম-রোমান্সের আড়ালে ভয়ংকর ফাঁদ, টার্গেট বিত্তশালীরা ◈ জাতিসংঘের নতুন বিশ্ব মানচিত্রে কেন আপত্তি ভারত-জাপান-ইউক্রেনের ◈ তিন মাসে ব্যাংকে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ◈ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠাই জনগণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ সেপ্টেম্বরের ১৩ দিনেই রেমিট্যান্স এলো সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা ◈ ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড, পদদলিত হয়ে নিহত ৬ ◈ ‘বিদেশে এক টাকাও খুঁজে পেলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো’: আসিফ মাহমুদ

প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৪৭ রাত
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৫৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রেম-রোমান্সের আড়ালে ভয়ংকর ফাঁদ, টার্গেট বিত্তশালীরা

খুলনায় হানি ট্র্যাপ এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। কিছু চক্র সম্পর্ক গড়ে, বিশেষত যৌন আকর্ষণ বা রোমান্টিক সম্পর্কে গড়ে তুলে ফাঁদে ফেলছে।

পরে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এমন অনন্ত ১৫-২০টি সক্রিয় চক্র গড়ে উঠেছে খুলনায়।

advertisement

এগুলোর মধ্যে এক গ্রুপ আছে, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে নারী সঙ্গ পাওয়ার আহ্বান জানায়। পরে গোপনে ভিডিও ধারণ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।
আবার কিছু চক্র সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে।
এই অপরাধী চক্রগুলো মূলত উঠতি বয়সী, ধনাঢ্য ও বিত্তশালীদের টার্গেট করে থাকে।

ইতোমধ্যে এ চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন অনেকে। তাদের কেউ কেউ লজ্জায় পরিবার ও পুলিশকে সর্বস্ব হারানোর ঘটনা জানানো থেকে বিরত থেকেছেন। তবে সম্প্রতি পুলিশের জালে ধরা পড়েছে এ চক্রের কয়েকজন সদস্য।

advertisement

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারী বা পুরুষকে ব্যবহার করে প্রেম, রোমান্স বা যৌন সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা হয়। এরপর ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। সম্মানহানির ভয়ে অনেকেই এ চক্রকে টাকা-পয়সা দিতে বাধ্য হন।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইমো, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউবের শর্ট ভিডিওর মাধ্যমে পাতা হচ্ছে হানি ট্র্যাপ। মিথ্যা সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া অথবা প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগত অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্য ধারণ করে বিভিন্ন অনলাইন সাইটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে একশ্রেণির প্রতারক চক্র। প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতন না হলে শুধু আইন প্রয়োগ করে এটি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

advertisement

হানি ট্র্যাপের শিকার এমন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, তারা প্রযুক্তি সম্পর্কে খুব একটা অবগত নন। এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে চক্রগুলো।

হানি ট্র্যাপের খপ্পরে পড়েছেন যারা: ‘হানি ট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদ সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের অন্যতম লাভজনক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। খুলনার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যাংকার, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল, অপহরণ ও অর্থ আদায়ের ঘটনা সামনে এসেছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে আবাসিক হোটেলের কক্ষে আটকে রেখে মারধর, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সৈয়দ সোহাগ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। মহানগরীর সাতরাস্তা মোড়ের স্বপ্ন মহল আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এসময় হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও সাতজনকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বয়রা রায়েরমহল মন্দির মোড় এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে ইমরান হোসেনকে অনলাইনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে স্বপ্ন মহল আবাসিক হোটেলে ডেকে নেয় একটি প্রতারক চক্র। চক্রটি ইমরানকে হোটেলের ৩০৬ নম্বর কক্ষে আটকে মারধর ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। এরপর তার কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

মুক্তিপণ দিতে রাজি না হওয়ায় ইমরানকে আবারও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মুঠোফোন ব্যবহার করে পরিচিতদের কল করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়। একইসঙ্গে ইমরানের মুঠোফোন এবং মানিব্যাগে থাকা ১ হাজার ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া মুক্তিপণের বাকি টাকা না দিলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে রাতে পুলিশ হোটেলে অভিযান চালিয়ে চার নারী ও চার পুরুষকে আটক করে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর মামলার কাগজপত্র দেখানোর কথা বলে আইনজীবী খায়রুল ইসলাম নয়নকে বটিয়াঘাটা উপজেলার চক্রাখালী এলাকায় ডেকে নেন মরিয়ম আক্তার নামের এক নারী। পরে তাকে বাসায় আটকে রেখে মারধর করা হয় ও পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এসময় জোরপূর্বক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২৭ হাজার ৯৩০ টাকা নেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগীর স্ত্রীর কাছ থেকে খবর পেয়ে খুলনা সদর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে নয়নকে উদ্ধার করে। এসময় হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য মরিয়ম আক্তার (২৯), রীনা পারভীন (৩৩) ও মো. জুবায়ের হোসেন রিন্টু (১৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা দুটি ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প, দুটি প্লাস্টিকের পাইপ ও সংবাদপত্রের আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

অভিযান চলাকালে মরিয়মের বাসায় একাধিক ব্যক্তির পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। এছাড়া অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী এবং মাদক সেবনের সরঞ্জামও পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানান, আগেও রাতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এলাকাবাসী মরিয়মকে আটক করেছিল।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর স্ত্রীর অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালানো হয়। পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভুয়া সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে।

এছাড়া গত ২৯ জুলাই খুলনার ফুলতলায় এক যুবককে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে নির্জন কক্ষে আটকে রেখে মারধর, নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি চক্রের নারীসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী যুবককেও উদ্ধার করা হয়। ফুলতলা বাজারের জামিরা সড়কের ঢাকা আবাসিক হোটেলের মালিক বিল্লাল হোসেন সজিবের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফুলতলার জামিরা সড়কের একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার যুবকদের টার্গেট করত। নারীদের মাধ্যমে কৌশলে ডেকে এনে গোপনে একান্ত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায় করত।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, যশোর সদর উপজেলার ইয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা ও একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) মিলন হোসেনকে ঝুমুর জমাদ্দার নামের এক নারী ওই বাসায় নিয়ে যান। সেখানে সাবিনা বিশ্বাস ওরফে রিয়ার কক্ষে প্রবেশের পর আগে থেকে ওৎপেতে থাকা সুমন মিয়া ও তার এক সহযোগী অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভিডিও ধারণের পর অভিযুক্তরা হঠাৎ কক্ষে প্রবেশ করে মিলন হোসেনকে মারধর করেন এবং তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। এসময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মিলন হোসেন বাদী হয়ে ফুলতলা থানায় মামলা করেন। মামলায় সুমন মিয়া, ঝুমুর জমাদ্দার ও সাবিনা বিশ্বাসের নাম উল্লেখের পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত পরিচয়ের আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় ‘হানি ট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে ৮ জুলাই একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সাত নারী সদস্যকে আটক করে পুলিশ। সোনাডাঙ্গা থানাধীন একটি স্কুলের সামনের সাততলা ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে খুলনা শহরে সক্রিয় ছিল। তারা নানামুখী কৌশল অবলম্বন করে বিত্তশালী ও সমাজের নামিদামি পুরুষদের টার্গেট করত। পরে কৌশলে তাদের ওই সাততলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে এনে জিম্মি বা আটক করে রাখত। এরপর জোরপূর্বক আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ধারণ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত।

অভিযানে আটকদের ঘর তল্লাশি করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জোর করে সই করিয়ে নেওয়া একাধিক ব্যাংকের ব্ল্যাংক চেক বই, সরকারি স্ট্যাম্প এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সাত নারী সদস্যকে আটক করা হয়।

মহানগরীর জোড়াগেট এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, ২০২৩ সালে হানি ট্র্যাপের এক নারী সদস্যের আইডি থেকে আমাকে ফেসবুকে রিকুয়েস্ট পাঠানো হয়। কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে তার সঙ্গে রিলেশন হয়। পরে সে বিয়ের চাপ দেয়। তার এক নিজস্ব উকিল দিয়ে ৫০ লাখ টাকা দেনমোহরে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নোটারির মাধ্যমে বিয়ে করি। কিছুদিন পর সে তার আসল রূপ দেখায়। আমাকে টাকা দিয়ে ডিভোর্স দিতে বলে। এটায় রাজি না হওয়ায় সে আমাকে মেরে ফেলবে, প্রশাসন দিয়ে জেলে পাঠাবে, বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। আমি তাকে দিতে দিতে প্রায় ১০ লাখ টাকা দিয়ে ফেলি, তারপরও সে আমাকে পুরো টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। তাকে ৫০ লাখ টাকা দিতেই হবে। সে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে আমাকে মার্ডার করাবে। তার স্বামী এ কাজের সঙ্গে জড়িত। তিনিই স্ত্রীকে দিয়ে এসব অনৈতিক কাজ করান। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিই, তারপর পুলিশ আমাকেই হয়রানি করে।

তিনি জানান, প্রভাবশালী এই নারীর সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের লোকের যোগাযোগ রয়েছে। তারা নিজেরাও তার কাছে ধরাশায়ী।

উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ: সম্প্রতি খুলনায় হানি ট্র্যাপের খপ্পরে পড়েছেন বেশকিছু মানুষ। এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাবুল হাওলাদার বাংলানিউজকে বলেন, খুলনায় ১৫-২০টি হানি ট্র্যাপ চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে অপরাধ করে আসছে। সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিদের প্রলুদ্ধ করে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে অশ্লীল-আপত্তিকর ছবি, অডিও ও ভিডিও রেকর্ড করছে হানি ট্র্যাপের সদস্যরা। সুন্দরী তরুণীদের দিয়ে পাতা হচ্ছে এসব নিখুঁত ফাঁদ। তরুণীদের নিয়ে গড়ে তোলা হানি ট্র্যাপের এসব চক্রের প্রধান টার্গেট সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও ধনাঢ্যরা। তবে পুলিশের জালে বেশকিছু সদস্য ধরা পড়েছে। কিন্তু অধরাই রয়ে গেছে বড় চক্র, যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কৌশলে এ অপরাধের জালে মানুষকে জিম্মি করছে। যাদের ধরতে না পারলে সর্বস্ব হারাতে হবে আরও অনেককেই।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-খুলনার সভাপতি রমা রহমান বাংলানিউজকে বলেন, হানি ট্র্যাপসহ যেকোনো ধরনের প্রতারণা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সঠিকভাবে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। যে কারণে প্রতিনিয়ত অন্যায়-অপরাধ বাড়ছে। আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না। সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে অপরাধ কমে আসবে। আর যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হয়, প্রশাসন যদি কঠোর না হয়, তাহলে দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

হানি ট্র্যাপ নিয়ে যা বলছে পুলিশ: সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা বন্ধে পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এম এম শাকিলুজ্জান বাংলানিউজকে বলেন, ‘হানি ট্র্যাপ’ শব্দটির মধ্যেই রয়েছে অশোভনীয়, অনৈতিকতার ছোঁয়া। হানি ট্র্যাপ এক ধরনের অপকৌশল। অসচেতন ব্যক্তিরাই অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকে এ ফাঁদ পাতেন। সুন্দর রগরগে ছবি দেখে কেউ কেউ আসক্ত হয়ে পড়েন। অসচেতন হয়ে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। কোন কাজ করতে পারেন আর কোন কাজ করতে পারেন না তার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। যে কারণে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, অপরিচিত কারো ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করা যাবে না। বন্ধু হবে পরিচিত লোকজনই। অপরিচিত লোকের সঙ্গে আবার কীসের বন্ধুত্ব। কেন পাঁচ হাজার ফেসবুক ফ্রেন্ড হতে হবে? কেন ফেসবুকে অপরিচিত লোককে বন্ধু বানাতে হবে। আমরা বিভিন্ন সভা-সেমিনারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কী করণীয়, কী বর্জনীয় সে সম্পর্কে সচেতন করে থাকি। এমনকি আমাদের পুলিশের যে পেজ রয়েছে, সেখানেও বিভিন্ন সচেতনতামূলক পোস্ট দিয়ে থাকি, যাতে মানুষ সতর্ক হন। পাশাপাশি হানি ট্র্যাপে জড়িত চক্রের সদস্যদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হানি ট্র্যাপের ফাঁদ থেকে নিজেকে রক্ষার উপায়: হানি ট্র্যাপের ফাঁদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সামিউল হক। তিনি বলেন, নতুন কারো প্রতি বিশ্বাস তৈরি করার আগে পরিচয় যাচাই ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। অনলাইনে বা অফলাইনে পরিচয় হওয়ার পরপরই খুব দ্রুত ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ সম্পর্কে জড়ানো যাবে না। অল্পদিনের সম্পর্কে কারো প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে একান্তে মিলিত না হওয়া, অল্প পরিচিত কারো কথায় কোনো অজ্ঞাত স্থানে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সতর্ক ব্যবহার হানি ট্র্যাপের হাত থেকে মুক্তি দিতে পারে বলে মনে করেন তিনি। উৎস: বাংলানিউজ24

 

  • সর্বশেষ